শীর্ষবিন্দু নিউজ: নির্বাচনের আগে দল পরিবর্তন করে অন্য দলে যোগ দিয়ে প্রার্থী হওয়ার প্রবণতা রোধে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে আইন সংশোধন করে সে পথ বন্ধ করা হয়েছিল। ওই সময় গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধন করে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হতে হলে অন্তত তিন বছর সংশ্লিষ্ট দলে থাকার বাধ্যবাধতার বিধান যোগ হয়েছিল। এখন কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়েই দশম সংসদ নির্বাচনে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন যে কেউ।
দশম সংসদ নির্বাচনের কয়েক মাস আগে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধনের মধ্য দিয়ে এই সুযোগ ফিরিয়ে আনা হয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ওই অংশটি [(অনুচ্ছেদ ১২ এর দফা ১ (ঞ)] বিলুপ্তির সুপারিশ করে সোমবার সংসদে উত্থাপিত বিলুপ্ত হলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। পাস হওয়া এই বিলটি রাষ্ট্রপতির সইয়ের মধ্য দিয়ে আইনে পরিণত হবে। সোমবারের অধিবেশনের পর সংসদ ৪ নভেম্বর পর্যন্ত মুলতবি করেছেন স্পিকার। আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত অধিবেশন চালানোর সিদ্ধান্ত রয়েছে।
আজকে এই বিল পাস হওয়ার ফলে দশম সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হতে নিবন্ধিত দলের ৩ বছরের সদস্যপদ থাকার বাধ্যবাধকতা আর থাকবে না। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধনের সরকারি প্রস্তাবে এই বাধ্যবাধকতা তুলে নেয়ার সুপারিশ ছিল না। তবে আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি স্বউদ্যোগে তা তোলার সুপারিশ করে।
সংসদীয় কমিটির সভাপতির বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এটিএম শামসুল হুদা বলেন, আইনজ্ঞ ও দলগুলোর সঙ্গে কথা বলেই আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের পর তা সংসদে পাস হয় বিলটি। কোনোভাবেই এ বিধানকে সংবিধান পরিপন্থী বলা ঠিক হবে না। এই বিধান যোগ হওয়ার সময় সিইসির দায়িত্বে থাকা হুদা তাদের সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ভোটের আগে ভুঁইফোড় কিছু লোক ও মনোনয়ন বেচাকেনার আবির্ভাব ঘটে। তা রোধ করে রাজনীতিকদের জন্য সুস্থ ধারা বজায় রাখতেই বিধান যুক্ত করা হয়।
আইন সংশোধনের ফলে নির্বাচনের জামানতের পরিমাণ ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকায়, নির্বাচনী ব্যয় ১৫ লাখ টাকা থেকে ২৫ লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে। তবে দলীয় প্রধানের দেশের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ ব্যয় নির্বাচনী খরচের আওতাবহির্ভূত রাখা হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনী মামলা দাখিলের ফি ২ হাজার টাকার পরিবর্তে ৫ হাজার টাকা, রাজনৈতিক দলের তহবিলে ১০ লাখ টাকার পরিবর্তে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যক্তি অনুদান ও সংস্থা অনুদান ২৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা হয়েছে।
এই বিল পাসের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিতরা নির্বাচনে অংশ নেয়ার অযোগ্য হয়ে গেলেন। সংশোধিত আইনে বলা হয়েছে, সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সরকারের যে কোনো বিভাগ বা সংস্থার যে কোনো চাকরিজীবীকে বদলির প্রয়োজন হলে তার যথাযথ কর্তৃপক্ষকে লিখিত অনুরোধ করবে ইসি। লিখিত ওই পত্রটি পাওয়ার যত দ্রুত সম্ভব তা কার্যকর ব্যবস্থা নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।