সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী বিশ্বনাথের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন উত্তর বিশ্বনাথের সচেতন শিক্ষানুরাগীরা। শনিবার দুপুরে সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমনটা অভিযোগ করেন তারা।
এতে উত্তর বিশ্বনাথের মানুষ ও প্রবাসীরা এগিয়ে আসলে কলেজটি প্রতিষ্ঠা পায় এবং নামকরণ করা হয় উত্তর বিশ্বনাথ কলেজ।সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত এলাকাবাসী ও সচেতন শিক্ষানুরাগীরা এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মো. আবদুল ওয়াদুদ, সাইদুর রহমান সাঈদ, নাজিম উদ্দিন আহমদ, মো. আজাদ আলী, ফয়জুন নূর, আবদুল কাইয়ূম, সমসের নুর, মো. চমক আলী, মাহমদ আলী, মো. জৈন উদ্দিন প্রমূখ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পীর মো. সিরাজুল ইসলাম। বক্তব্যে উত্তর বিশ্বনাথ সচেতন শিক্ষানুরাগীরা বলেন, ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠত উত্তর বিশ্বনাথ কলেজ ধ্বংসের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে একটি কুচক্রী মহল। এতে স্থানীয় সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরীও জড়িত রয়েছেন। তিনি গত কয়েক মাস পূর্বে কলেজের একটি পকেট গভর্নিং কমিটি গঠন করেন।
এতে সভাপতি হন তিনি নিজেই।লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, এই পকেট কমিটি দিয়ে ঈদ ও পূজোর ছুটিকে কাজে লাগিয়ে শফিক এমপি কলেজের নাম পরিবর্তন করে ব্যাক্তি বিশেষের নাম যোগ করতে চাইছেন। যা স্থানীয় এলাকার মানুষের মনে পীড়া দিয়েছে।তারা বলেন, ২০০৮ সালে নির্বাচনে প্রবাস থেকে আসা শফিকুর রহমান চৌধুরীকে বিজয়ী করতে উত্তর বিশ্বনাথের সকল স্থরের মানুষ এক হয়ে কাজ করেছিল। কিন্তু তার এমন আচরনে আজ ওই মানুষ হতভম্ব। অনতি বিলম্বে এমন আত্মঘাতি পদক্ষেপ থেকে স্থানীয় এই সংসদ সদস্যকে সরে আসতে আহ্বান জানান শিক্ষানুরাগী ব্যাক্তিত্বরা।
সম্মেলনে সচেতন শিক্ষানুরাগীরা বলেন, প্রবাসীদের কষ্টার্জিত টাকা দিয়ে এ কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এতে রামপাশা, খাজাঞ্চি ও অলংকারী ইউনিয়নের সর্বস্থরের মানুষের অধিকার রয়েছে। তাই কোনো অবস্থাতেই একজন ব্যাক্তির নাম দিয়ে কলেজের নাম করণ এলাকাবাসী মেনে নেবে না। এ পদক্ষেপ থেকে সরে না আসলে যেকোন ধরনের অনাকাঙ্খিত ঘটনার দ্বায়ভার শফিক এমপি ও উক্ত কুচক্রী মহলকেই নিতে হবে।লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, প্রতিষ্ঠার সময়ে মরহুম আবদুল মুমিন ৩ একর জমি ও ৫০ লক্ষ টাকা অনুদান দিলে তার পিতা মরহুম আমজদ উল্লাহর নামে কলেজের নামকরণ করা হবে বলে আলোচনা হয়েছিল। তবে পরবর্তিতে মরহুম আবদুল মুমিন ও তার পুত্র প্রবাসি আছকির আলী ওয়াদা রক্ষা করতে পারেননি।