সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:৩৪

তালেবানের ভরসা কাতার ও তুরস্ক

তালেবানের ভরসা কাতার ও তুরস্ক

শীর্ষবিন্দু আর্ন্তজাতিক নিউজ / ৮৩
প্রকাশ কাল: শুক্রবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১

বিশ্বের পরাশক্তিগুলো আফগানিস্তান ছেড়ে গিয়ে এখন ইসলামি শাসকদের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে দেশটিতে। কাবুল থেকে শেষ মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর কাবুলজুড়ে গুলিবর্ষণ করে উদযাপন করেছে তালেবান। কিন্তু সশস্ত্র গোষ্ঠীটিকে একাই দেশ চালাতে হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় আরব ও মুসলিম বিশ্বের দুটি দেশ কাতার ও তুরস্ক গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী ও সহযোগিতাকারী হিসেবে এগিয়ে এসেছে।।

বিশ্বজুড়ে তারা বিচ্ছিন্ন। এমন পরিস্থিতিতে লাখ লাখ আফগান নাগরিক এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে দাঁড়িয়ে। তাই উভয় দেশেই তালেবানের সঙ্গে যোগাযোগের সাম্প্রতিক ইতিহাসকে কাজে লাগাচ্ছে। দুই দেশের চোখ রয়েছে সুযোগ খোঁজায়। কিন্তু দেশ দুটি এখানে একটি জুয়াও খেলছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে পুরনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে জাগিয়ে তুলতে পারে।

কাতার আফগানিস্তান থেকে মানুষ প্রত্যাহার করা দেশগুলোকে সহযোগিতা করেছে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের এক সিনিয়র উপদেষ্টা দিনা এফসানডিয়ারি বলেন, কাতারের কোনও না কোনও সহযোগিতা ছাড়া আফগানিস্তান থেকে মানুষ প্রত্যাহারে করতে পারেনি বড় কোনও দেশ। কাতারের জন্য আফগানিস্তান ও তালেবান বড় জয়। শুধু যে তারা তালেবানের সঙ্গে মধ্যস্থতা করেছে সে জন্য নয়, এর ফলে পশ্চিমাদের কাছে তারা গুরুত্বপূর্ণ একটি দেশে পরিণত হয়েছে।

পশ্চিমারা কাবুল ছেড়ে যাওয়ায় এসব কূটনৈতিক যোগাযোগের মূল্য আরও বেড়েছে।  কিন্তু তালেবানের সঙ্গে সম্পর্ক জারি রাখা এখনও ভবিষ্যতের জন্য হুমকি হতে পারে। এসব হুমকির মধ্যে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের পুরনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা উসকে দেওয়া। অঞ্চলটির ইসলামি বিভিন্ন গোষ্ঠীর সঙ্গে তুরস্ক ও কাতারের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। এই সম্পর্কের ফলে আঞ্চলিক শক্তি মিসর, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে প্রায়ই উত্তেজনা তৈরি হয়। এসব গোষ্ঠীকে দেশগুলো বাইরের হুমকি বলে মনে করে।

কাতার ও তুরস্কের পক্ষ থেকে তালেবানের সঙ্গে যোগাযোগের উন্নতি হয় বিভিন্ন উপায়ে। ২০১১ সালে বারাক ওবামার মার্কিন প্রশাসন আফগান যুদ্ধে ইতি টানতে চাইলে কাতার তালেবান নেতাদের নিয়ে শান্তি আলোচনার আয়োজন করে। এর মধ্য দিয়ে কাতার দীর্ঘ প্রায় তিন দশক পর নিজেদের একটি সার্বভৌম পররাষ্ট্রনীতি অর্জন করতে পেরেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, তালেবান সংশ্লিষ্ট কয়েকটি মিলিশিয়া গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছে তুরস্ক। আফগান প্রতিবেশী পাকিস্তানেরও ঘনিষ্ঠ মিত্র তুর্কিরা। গত সপ্তাহে কাবুলে প্রায় তিন ঘণ্টা তালেবানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তুর্কি কর্মকর্তারা। তালেবানের পক্ষ থেকে ন্যাটো সদস্য হিসেবে তুর্কি সেনাদের আফগান ত্যাগের জন্য বলা হয়েছে। কিন্তু গত সপ্তাহের বৈঠকটির এজেন্ডা আরও বৃহত্তর ছিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ইস্তানবুলের আলতিনবাস বিশ্ববিদ্যালয়ের আফগান সম্পর্ক-বিষয়ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আহমেদ কাশিম খান মনে করেন, তালেবানদের সঙ্গে যোগাযোগ তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানকে একটি সুযোগ এনে দিয়েছে। তার মতে, ক্ষমতা ধরে রাখা দীর্ঘমেয়াদি করতে তালেবানের আন্তর্জাতিক ত্রাণ সহযোগিতা এবং বিনিয়োগ অব্যাহত থাকা প্রয়োজন। এখন তালেবানরা সরকারের কর্মীদের বেতন দিতে পারছে না। তিনি মনে করেন, এ ক্ষেত্রে তুরস্ক নিজেকে নিশ্চয়তাদানকারী, মধ্যস্থতাকারী, সহযোগিতাকারী হিসেবে হাজির করতে পারে। তালেবানের সঙ্গে সম্পর্ক এরদোয়ানের পররাষ্ট্রনীতিকে আরও বিস্তৃত করতে এবং এতে তার একে পার্টির সমর্থন আরও বাড়তে পারে।

প্রসঙ্গত, আফগানিস্তানে তুরস্কের ঐতিহাসিক ও জাতিগত সম্পর্ক রয়েছে। ন্যাটো জোটের একমাত্র মুসলিম দেশ হিসেবে দেশটিতে মোতায়েন ছিল তুর্কি সেনারা। কিন্তু তারা লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করেনি।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
All rights reserved © shirshobindu.com 2021