শীর্ষবিন্দু নিউজ: আজ সোমবার বাংলাদেশের তৃতীয় সমুদ্র বন্দর পায়রার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পটুয়াখালীতে দেশের তৃতীয় সমুদ্র বন্দরের উদ্বোধন করে বাংলাদেশকে আরো এগিয়ে নেয়ার প্রত্যয় জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে অবহেলিত দক্ষিণ বাংলার সুদিন ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কায় ভোট চেয়েছেন তিনি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্দারমানিক আর আন্ধার থাকবে না। সমুদ্র বন্দর হওয়ার ফলে এই এলাকার মানুষ আলোকিত জীবন পাবে। আমদানি রপ্তানি ও পণ্য পরিবহনে নতুন দিগন্তের সূচনা হবে। প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দেন, পায়রা সমুদ্র বন্দর হওয়ায় এখন সেখানে বিদ্যুতকেন্দ্র হবে। গড়ে তোলা হবে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল। পটুয়াখালীতে জাহাজ নির্মাণ ও পুরনো জাহাজ প্রক্রিয়াকরণ শিল্প গড়ে তোলা হবে। ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশের ভাগ্য নিয়ে ভবিষ্যেতে যাতে কেউ আর ছিনিমিনি খেলতে না পারে সেজন্য সংবিধান সংশোধন করে জনগণকেই সকল ক্ষমতা দিয়েছি।
পায়রা বন্দরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আমরা এখানে নৌঘাঁটি নির্মাণ করছি। এর নাম দিয়েছি শেরে বাংলা একে ফজলুল হকের নামে। তিনি অবিসংবাদিত নেতা ছিলেন। তার নামেই এ নৌঘাঁটির নামকরণ হয়েছে। দেশের উপকূলীয় এলাকার মাঝামাঝি স্থানে এই নৌঘাঁটি হওয়ায় জলদস্যুর তৎপরতা কমবে এবং নেভাল অপারেশন সুবিধাজনক হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। আসন্ন নির্বাচনে দক্ষিণের মানুষের ভোট চেয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আশা করি আমাদের কথা ভুলে যবেন না। নৌকা মার্কাকে ভুলে যাবেন না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষ নৌকায় ভোট দিলেই দেশের উন্নতি হয়। আগামীতেও দক্ষিণাঞ্চল আবার দেশের শস্য ভাণ্ডারে পরিণত হবে।
বন্দরের কাজ পুরোপুরি শেষ হতে প্রায় আট বছর লাগবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার এই বন্দরের আংশিক উদ্বোধন করেন। চলতি বছরের ৫ নভেম্বর জাতীয় সংসদে পায়রা সমুদ্র বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন-২০১৩ পাস হয়। পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক অমিতাভ সরকার জানান, কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে পায়রা সমুদ্রবন্দর প্রকল্পের বাস্তবায়ন করছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১২টায় প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টার করে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার টিয়াখালীতে পৌঁছান। তারপর কলাপাড়ার লালুয়া ইউনিয়নের রাবনাবাদ চ্যানেলের চারিপাড়ায় আন্দারমানিক নদীর তীরে পায়রা সমুদ্রবন্দরের উদ্বোধন করেন তিনি। পটুয়াখালী আসার আগে প্রধানমন্ত্রী বরগুনায় যান এবং বামনা সারওয়ারজান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে বামনা ৫০ শয্যা হাসপাতাল, বুকাবুনিয়া সাব সেক্টর কমান্ডের স্মৃতি সৌধ, সারওয়ারজান মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভবন ও বেশ কয়েকটি সাইক্লোন সেন্টারের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
এছাড়া তিনি বামনা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনসহ আরো কয়েকটি সাইক্লোন সেন্টার কাম স্কুল ভবন নির্মাণের ভিত্তিফলক উন্মোচন করেন। স্কুলের মাঠে উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক জনসভায় তিনি বক্তৃতাও করেন। বরগুনার কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী পটুয়াখালী পৌঁছান এবং পায়রা বন্দর উদ্বোধন এবং রামনাবাদ চ্যানেলে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর শের-ই বাংলা নৌঘাঁটি, বালিয়াতলী সড়কের আন্দার মানিক নদীর উপর শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতুসহ বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিফলক উন্মোচন করেন।