বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কর্মচারী ফোরাম গত ১১ আগস্ট ১২ দফা দাবিতে প্রধান কার্যালয়ে বিক্ষোভ করেছেন। তখন এসব দাবি আদায়ে সংস্থাটির চেয়ারম্যানকে একটি স্মারকলিপিও দিয়েছেন তারা।
তাদের দাবিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিল, বিমানবন্দরে রেমিট্যান্স যোদ্ধাসহ (প্রবাসী শ্রমিক) যাত্রী সাধারণকে বিমানবন্দরে কর্মরত প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী যাতে সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শনপূর্বক ‘স্যার’ বা ‘ম্যাডাম’ বলে সম্বোধন করে।
এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আদেশ জারি ও বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি বন্ধ করে সেবা কার্যক্রম অধিকতর মানবীয় করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার করার জন্য বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের দাবি জানিয়েছে তারা।
এসব বিষয় সম্পর্কে জানতে চাইলে বেবিচক চেয়ারম্যান মো. মঞ্জুর কবীর ভূঁইয়া বলেন, বিমানবন্দরে কর্মরত সব সংস্থার লোকেরা যাতে যাত্রীদের সঙ্গে সর্বোচ্চ ভালো ব্যবহার করে, এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এক্ষেত্রে প্রবাসীদের ‘স্যার বা ম্যাডাম’ বলতেও বলা হয়েছে। কারণ, তাদের রেমিট্যান্সের ওপরই আমাদের দেশের অর্থনীতি অনেকাংশে টিকে আছে। তিনি বলেন, আগে বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশের ব্যবহার নিয়ে বেশি আপত্তি ছিল।
তখন বিষয়টি ইমিগ্রেশন পুলিশের ঊর্ধ্বতনদের জানানো হলে তারা জানান, বিমানবন্দরে তাদের তিন শিফটে কাজ চলে। একেকজনকে ৮ ঘণ্টা করে টানা কাজ করা লাগে। চাইলেও কাজের চাপে হাসি মুখে কথা বলতে পারেন না অনেকে।
তাই ইমিগ্রেশন পুলিশকে আরেকটি শিফট বাড়াতে বলেছি। তারা সে অনুযায়ী আরেক শিফট বাড়াচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে যাত্রীসেবা আরও উন্নত হবে। এখন শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রথম ও দ্বিতীয় টার্মিনালে দিনে ৩০টির বেশি উড়োজাহাজ সংস্থার ১২০-১৩০টি প্লেন উড্ডয়ন ও অবতরণ করে।
প্রতিদিন এসব উড়োজাহাজের প্রায় ২০ হাজার যাত্রী বিমানবন্দরের দুটি টার্মিনাল ব্যবহার করেন। এ হিসাবে বছরে প্রায় ৮০ লাখ যাত্রীর সেবা দেওয়ার সুযোগ আছে। তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে আরও ১ কোটি ২০ লাখ যাত্রীকে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে বেবিচক।
Leave a Reply