বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৫৮

ইংল্যান্ডে ডাক্তারদের ধর্মঘট শুরু

ইংল্যান্ডে ডাক্তারদের ধর্মঘট শুরু

ইংল্যান্ডের রাষ্ট্রায়ত্ত স্বাস্থ্যব্যবস্থার হাজার হাজার ডাক্তার শুক্রবার বেতন নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর পাঁচদিনের ধর্মঘটে নেমেছেন।

সরকার বলছে, এ ধর্মঘট দেশের বিভিন্ন স্থানে রোগীদের সেবায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটাবে। হাসপাতাল ও ক্লিনিক সেবার মূল ভরসা হিসেবে থাকা রেসিডেন্ট ডাক্তাররা- যারা কর্মজীবনের প্রাথমিক পর্যায়ে- তারা সরকারের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর হাসপাতালের বাইরে পিকেট লাইনে দাঁড়ান। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি।

এতে আরও বলা হয়, ন্যাশনাল হেল্‌থ সার্ভিস (এনএইচএস) জানিয়েছে, জরুরি বিভাগগুলো খোলা থাকবে এবং হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো যতটা সম্ভব নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট সম্পন্ন করার চেষ্টা করবে। ডাক্তাররা বেতন বৃদ্ধির দাবি জানাচ্ছেন, যা ২০০৮ সাল থেকে বাস্তব মূল্য অনুসারে ২০ ভাগ হ্রাস পেয়েছে বলে বৃটিশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশন (বিএমএ) জানিয়েছে।

লন্ডনের সেন্ট থমাস হাসপাতালের সামনে পিকেট লাইনে দাঁড়িয়ে ডাক্তার কেলি জনসন বলেন, যখন ডাক্তাররা ধর্মঘটে যায়, তখন আমাদের সবসময় স্বার্থপর হিসেবে তুলে ধরা হয়। কিন্তু আমরা প্রতিদিন জনগণের জন্য কাজ করি। এমনকি এমন সময়ও কাজ করি যখন কাজের কোনো নির্দিষ্ট শেষ নেই। আমরা কেবল ন্যায্য প্রাপ্য চাই, যাতে জনগণের সেবা আরও ভালোভাবে দিতে পারি।

তবে সরকার বলছে, পূর্ববর্তী ধর্মঘটে করা চুক্তির অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে ডাক্তারদের গড়ে ২৮.৯ ভাগ বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে। তারা আর বেতন বৃদ্ধি করবে না। তবে সরকার কাজের পরিবেশ উন্নত করার বিষয়ে আলোচনা করতে রাজি। প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারর্মার ডাক্তারদের কাজে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি দ্য টাইমস পত্রিকায় লিখেছেন,  বেশির ভাগ মানুষ এসব ধর্মঘটকে সমর্থন করেন না। তারা জানেন, এতে প্রকৃতপক্ষে ক্ষতি হবে। শিরোনামের আড়ালে রয়েছেন সেই রোগীরা, যাদের জীবন এ সিদ্ধান্তে বিপর্যস্ত হবে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বিলম্বিত হওয়ার হতাশা ও ক্ষোভ সৃষ্টি করবে।

আরও ভয়াবহ হলো, দেরিতে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা তাদের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে। ২০২৩-২৪ সালে স্বাস্থ্যখাতের কর্মীরা জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি সামাল দিতে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ধারাবাহিক ধর্মঘট করেন। এ ধর্মঘটে হাজার হাজার অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও চিকিৎসা কার্যক্রম স্থগিত করতে হয়।

কোভিড-১৯ মহামারির পর বিপুল পরিমাণ অ্যাপয়েন্টমেন্টের জট দূর করতে ন্যাশনাল হেল্‌থ সার্ভিসের প্রচেষ্টা এ ধর্মঘটে আরও ব্যাহত হয় এবং ডাক্তার দেখানোর অপেক্ষার সময় আরও দীর্ঘ হয়। জুলাই ২০২৪-এ নির্বাচিত লেবার সরকার ডাক্তারদের বেতন বাড়ানোর পর ধর্মঘট বন্ধ হয়। তবে গত মাসে ইউনিয়ন নতুন ধর্মঘটের জন্য আবার ভোট নেয়।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026