বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৩৩

আচরণবিধি লংঘনের দায়ে অভিযুক্ত ব্যারো‌নেস পলা মঞ্জিলা উদ্দিনকে ক্ষমা চাওয়ার আহবান

আচরণবিধি লংঘনের দায়ে অভিযুক্ত ব্যারো‌নেস পলা মঞ্জিলা উদ্দিনকে ক্ষমা চাওয়ার আহবান

ব্রিটেনের প্রথম এবং একমাত্র ব্রিটিশ বাংলাদেশি পিয়ার, ব্যারো‌নেস পলা উদ্দিন‌কে আনুষ্টা‌নিকভা‌বে ক্ষমা চাই‌তে ব‌লে‌ছে সংসদের আচরণবি‌ধি ক‌মি‌টি।

সম্প্রতি হাউস অফ লর্ডসের আচরণবিধি কমিটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পার্লামেন্টের একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তার প্রতি তার আচরণ ছিল আচরণবিধির লঙ্ঘন। কমিটি তাকে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চেয়ে একটি চিঠি পাঠানোর সুপারিশ করেছে।

কমিটির এই সিদ্ধান্ত একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তার অভিযোগের ভিত্তিতে এসেছে। অভিযোগে বলা হ‌য়েছে, পলা  উদ্দিনের একজন অতিথিকে ভদ্রভাবে ভিজিটর প্রবেশপথ ব্যবহার করতে বলা হলে, তিনি ‘ক্ষুব্ধ ও আক্রমণাত্মক’ হয়ে ওঠেন। পলা উদ্দিন উচ্চস্বরে ওই কর্মকর্তাকে ‘অযোগ্য বোকা’ এবং ‘অযোগ্য শ্বেতাঙ্গ বোকা’ বলে সম্বোধন করেন।

অবশ্য পলা উদ্দিন এই ধরনের অবমাননাকর শব্দ ব্যবহারের কথা অস্বীকার করেছেন। ত‌বে স্ট্যান্ডার্ডস কমিশনার তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগটি বহাল রাখেন এবং তার আচরণকে হয়রানি ও ধমক হিসেবে চিহ্নিত করেন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও ঘটনাটির তীব্রতা ‘নিম্ন পর্যায়ে’ ছিল, তবুও এটি হাউস অফ লর্ডসের একজন সদস্যের কাছ থেকে প্রত্যাশিত মানের লঙ্ঘন। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর ২৩ আগস্ট পর্যন্ত পলা উদ্দিন কোনও আপিল করেননি।

এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য তার দাপ্তরিক ইমেইলে মেইল পাঠানো হলেও, কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি।

২০১০ সালে হাউস অফ লর্ডস কমিটির তদন্তে দেখা যায় যে, পলা উদ্দিন ১ লাখ ২৫ হাজার পাউন্ডেরও বেশি অর্থ অন্যায়ভাবে ব্যয় বাবদ দাবি করেছিলেন। এই কেলেঙ্কারির কেন্দ্রবিন্দু ছিল লন্ডনের বাইরে বসবাসকারী সদস্যদের জন্য সংসদীয় ভাতা সংক্রান্ত।

তদন্তে দেখা যায়, তিনি কেন্টের মেডস্টোনে তার মালিকানাধীন একটি ফ্ল্যাটকে প্রধান বাসস্থান হিসেবে দাবি করেছেন, যদিও তার পারিবারিক বাড়ি ছিল পূর্ব লন্ডনে, যা হাউস অফ লর্ডস থেকে মাত্র চার মাইল দূরে।

কমিটি নিশ্চিত করে যে মেডস্টোনের ওই সম্পত্তি বছরের পর বছর ধরে প্রায় খালি পড়ে ছিল। প্রতিবেশীরা ‘দ্য সানডে টাইমস’কে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন যে ফ্ল্যাটটি খালি থাকত এবং তিনি সেখানে খুব কমই যেতেন।

হাউস অফ লর্ডসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পলা উদ্দিন ‘খারাপ উদ্দেশ্য’ নিয়ে কাজ করেছেন এবং তার দাবিকৃত অর্থ ছিল তার জীবনযাত্রার ইচ্ছাকৃত ভুল উপস্থাপন। এই কেলেঙ্কারির কারণে তাকে ২০১২ সাল পর্যন্ত হাউস অফ লর্ডস থেকে বরখাস্ত করা হয় এবং সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

বাংলাদেশের রাজশাহীতে জন্মগ্রহণকারী পলা মঞ্জিলা উদ্দিন ছোটবেলায় যুক্তরাজ্যে চলে আসেন এবং পূর্ব লন্ডনে বসবাস শুরু করেন।

১৯৯০ সালে তিনি যুক্তরাজ্যের প্রথম বাংলাদেশি মহিলা হিসেবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পদে নির্বাচিত হন। তিনি লেবার কাউন্সিলর হিসেবে নারী ও প্রতিবন্ধী অধিকারের পক্ষে কাজ করেছেন।

তার এই সক্রিয়তা ও প্রভাবের কারণে ১৯৯৮ সালে তাকে হাউস অফ লর্ডসে নিযুক্ত করা হয়। এই মর্যাদাপূর্ণ পদে তিনি ছিলেন প্রথম মুসলিম এবং বাংলাদেশি মহিলা।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026