শীর্ষবিন্দু নিউজ: দেশের সব জেলার প্রশাসকরা ঢাকা আসছেন শুক্রবার। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জরুরি আইন-শৃঙ্খলা বৈঠকে যোগ দিতেই ঢাকায় আসছেন তারা। বৈঠকে তাদের সঙ্গে থাকছেন ৬৪ জেলার পুলিশ সুপাররাও। এ বৈঠকেই সিদ্ধান্ত হবে নির্বাচনে সারাদেশে সেনা মোতায়েন বিষয়ে। শুক্রবার বিকেল ৩টায় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠক ডেকেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
জানা গেছে, ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা (ডিসি), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, পুলিশ, র্যাব, বিজিবিসহ গোয়েন্দা সংস্থা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন। সিইসি, ইসি, সচিবসহ সংশ্লিষ্টরা এ বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন।
বুধবার এ বৈঠক নিয়ে ইসিতে আসেন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল অফিসার (পিএসও) আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হকসহ র্যাব, বিজিবি ও আনসারের ঊর্ধ্বতনরা। পিএসও বেলাল সিইসির সঙ্গে বৈঠক করেন সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিয়ে। অন্যদিকে র্যাব, বিজিবি ও আনসারের কর্মকর্তারা বৈঠক করেন বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া নির্বাচনী উপকরণ পরিবহনে বিশেষ নিরাপত্তার বিষয়ে। মঙ্গলবার ইসির বৈঠকে অবরোধের কারণে বৃহস্পতিবারের পূর্বনির্ধারিত আইন-শৃঙ্খলা বৈঠক পিছিয়ে শুক্রবার পুনর্নির্ধারণ করা হয়।
ইসি সূত্র জানায়, বুধবারের সিইসি-পিএসও বৈঠকে সেনা মোতায়েনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে আগামী শুক্রবার ডিসিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত আইন-শৃঙ্খলা বৈঠকে সেনা মোতায়েন বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। এর আগে, গত ২৮ নভেম্বর আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ে বিভিন্ন বাহিনীর শীর্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে একদফা বৈঠক করে ইসি। ওই সময় সিইসি বলেছিলেন, পরবর্তী বৈঠকের পর কবে, কোথায়, সশস্ত্রবাহিনীর কত সংখ্যক সদস্য নিয়োজিত করা হবে তা নির্ধারণ করা হবে।
আগামী ৫ জানুয়ারি ভোটের আগে-পরে অন্তত ১৫ দিন সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনার কথা এরই মধ্যে ইসি-সচিব জানিয়েছেন। তবে সব কিছু নির্ভর করবে ডিসি বৈঠকে ইসির সিদ্ধান্তের ওপর। সবশেষ নবম সংসদে ১২ দিন মাঠে ছিল সেনাবাহিনী। তবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অন্য সদস্যরা ভোটের আগে-পরে ৫ দিন নিয়োজিত ছিলেন। ৩০০ আসনের মধ্যে এবার ১৪৬ আসনে ব্যালটে ভোট হচ্ছে। ১৫৪ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন একক প্রার্থীরা। এক্ষেত্রে ৫৯ জেলার ১৪৬ আসনের বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনে কৌশল নির্ধারণ করবে ইসি।
ইসির কর্মকর্তারা জানান, দশম সংসদে এবার ৩৭ হাজার ৭১১টি সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ভোট হবে ১৮ হাজার কেন্দ্রে। প্রতিকেন্দ্রে ১৪-১৬ জন করে পুলিশ, আনসার-ভিডিপি, এপিসি নিয়োজিত থাকবে ভোটের দিন। এছাড়া জেলায় এক ব্যাটালিয়ন ও থানা-উপজেলা পর্যায়ে সশস্ত্রবাহিনীর ২-৪ প্লাটুন সদস্য মোতায়েন করা হবে। তারা ‘শো অফ ফোর্স’ হিসেবে টহলে নিয়োজিত থাকবে।
ইসি কর্মকর্তারা আরও জানান, ডিসিদের বৈঠকে কোন জেলায় কেমন এবং কত সংখ্যক সেনা লাগবে তা জানতে চাইবে ইসি। সে অনুযায়ী ইসি একটি সেনা চাহিদা তৈরি করবে। নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন হয়।