শীর্ষবিন্দু নিউজ: ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা বিরোধ বিষয়ক মামলার শুনানি শেষ হয়েছে বুধবার। আট দিন ধরে নেদারল্যান্ডের হেগের আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আগামী ছয় মাসের মধ্যে এ মামলার রায় ঘোষণার কথা রয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শুনানির বিভিন্ন পর্যায়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনিসহ বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল ও আইনজীবী ফার্মের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। দুই দেশের জলসীমা কোথা থেকে শুরু হবে তা নির্ধারণ করা বিষয়ে মতবিরোধ থেকে আন্তর্জাতিক আদালতে এ মামলা করা হয়।
জানা যায়, ভূমিরেখার মূল বিন্দু থেকে সমুদ্রে রেখা টানার পদ্ধতি নিয়েও দু’দেশের মতবিরোধ রয়েছে। বাংলাদেশ চায় ইকুইটি বা ন্যায্যতার ভিত্তিতে সমুদ্রসীমার রেখা টানা হোক। অন্যদিকে, ভারত বলছে দূরত্বের (ইকুইডিসট্যান্স) ভিত্তিতে রেখা টানতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের উপকূলীয় রেখা অবতল আকৃতির হওয়ায় ন্যায্যতার ভিত্তিতে বিষয়টি নির্ধারণ হওয়া যুক্তিসঙ্গত হবে। বাংলাদেশের যুক্তি অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগর ও ভূমির মূল বিন্দু থেকে সমুদ্রের দিকে ১৮০ ডিগ্রির সোজা রেখা যাবে। তবে ভারতের যুক্তি সমুদ্রতট বিবেচনায় এ রেখা ১৬২ ডিগ্রি হবে।
প্রসঙ্গত, প্রতিবেশী দু’টি দেশের মধ্যে সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির আলোচনা শুরু হয় ১৯৭৪ সালে। দীর্ঘসময়ে বিরতি দিয়ে কয়েকটি বৈঠক হলেও এতে সমাধান না হওয়ায় দ্য হেগের আদালতে ২০১১ সালের মে মাসে আনুষ্ঠানিক দাবি উত্থাপন করে বাংলাদেশ।