শীর্ষবিন্দু নিউজ: নির্বাচনের আগেই ১৫৪ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার দৃশ্য বাংলাদেশের মানুষ ৪২ বছরের ইতিহাসে কখনও দেখেনি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দীন আহমদ বীর বিক্রম। সোমবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত ‘বিজয়ের মাসে বন্দী গণতন্ত্র ও বিপন্ন মানবতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান বীর প্রতীক, সহ-সভাপতি শাহাবুদ্দিন রেজা, সহ-দপ্তর সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ প্রমুখ।
মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দীন বলেন, ৪২ বছর পর দেশের গণতন্ত্র আবারও সংকটাপন্ন। মুক্তিযোদ্ধারা কখনও এই পরিস্থিতি কল্পনা করেননি। ঠিক তেমন ১৫৪ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার দৃশ্যও বাংলাদেশের মানুষ দেখেনি। তিনি বলেন, আমরা কি গণতন্ত্র পেয়েছি এবং কার দ্বারা রাষ্ট্র পরিচালিত হচ্ছে তা সূর্য্যের আলোর মত স্পষ্ট। আওয়ামী লীগ যে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না তা আর প্রমাণের অপেক্ষা রাখেনা।
মেজর হাফিজ বলেন, আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের জন্য নয় সম্পদ বাড়ানোর জন্য রাজনীতি করে। আমরা এই একদলীয় নির্বাচন মানিনা। ১৮ দলীয় জোট জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই নির্বাচনকে প্রতিহত করা হবে বলেও জানান তিনি। টিপাইমুখ বাঁধ সম্পর্কে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কখনই ভারতের সঙ্গে টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে আলোচনা করেনি। টিপাইমুখ চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ায় দেশের পূর্বাঞ্চল আজ মরুভূমি হওয়ার পথে।
মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে তিনি বলেন, যতদিন অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জিত না হবে। আমরা স্বাধীন জাতি হিসেবে বিশ্বের দরবারে মাথা উচু করে দাঁড়াতে পারব না। ততদিন বাংলাদেশে প্রকৃত বিজয় অর্জিত হবেনা। বাংলাদেশে প্রকৃত বিজয় না আসা পর্যন্ত ১৮ দলের আন্দোলন চলবে। গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে মানুষের আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটানো হবে তাতে যদি জীবন যায় যাবে। জীবন বাজি রেখে মাতৃভূমির জন্য কাজ করা হবে বলেও জানান তিনি।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. অধ্যাপক পিয়াস করিম বলেন, জাতীয় জীবনে দুর্যোগের সময় চলছে। একাত্তর সালের পরে রাষ্ট্র এমন নির্যাতন নিপীড়ন দেখেনি। সরকার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন, বিচারব্যস্থা সবকিছুকে বিতর্কিত করে তুলেছে। তিনি বলেন, বিজয় খুব বেশী দূরে নয়। নিপীড়ন বাড়লে প্রতিবাদের ভাষা আরো শাণিত হবে। একাত্তর সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যেভাবে আন্দোলন হয়েছে ঠিক সেভাবে গণতন্ত্র রক্ষায় আমাদের আন্দোলন করতে হবে। সেনাবাহিনীর উদ্দেশে তিনি বলেন, সেনাবাহিনী কোনো দলের জন্য নয় গণতান্ত্রিক মুক্তির জন্য জনগণের পাশে এসে দাঁড়াবে। এটাই আমাদের প্রত্যাশা।