সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০২:১০

লুটেরা শ্রেণির লোকদের কবলে বাংলাদেশ

লুটেরা শ্রেণির লোকদের কবলে বাংলাদেশ

শীর্ষবিন্দু নিউজ: দেশে এক ধরনের লুটেরা শ্রেণি গড়ে উঠেছে। তারা ক্ষমতাকে ব্যবহার করে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলছে বলে মন্তব্য করেছেন সিপিবির উপদেষ্টা মঞ্জুরুল আহসান খান। শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় গুলশান-২ এ হোটেল লেকশো-তে শুরু হওয়া সংকটে বাংলাদেশ নাগরিক ভাবনা-শীর্ষক অনুষ্ঠানে একথা বলেন তিনি।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সবটুকুই সন্ত্রাস-সহিংসতা ও নাশকতা। এটা একটা ভয়াবহ পরিস্থিতি। জামায়াত রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধে নেমেছে। এর সুবিধা পেতে পারে আওয়ামী লীগ। আবার এ বিষয়টি দেখিয়ে বিদেশি সমর্থনও পেতে পারে। স্বাধীনতাবিরোধী এ শক্তিকে দমন করা দরকার। তাদের নিষিদ্ধ করা দরকার।

অধ্যাপক রেহমান সোবহানের সভাপতিত্বে ও ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সিপিডি, আইন ও সালিশকেন্দ্র, সুজন ও টিআইবি। এ সময় সঞ্চালক দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যকে নির্বাচন নিয়ে বলতে অনুরোধ করলে তিনি বলেন, ‍এখন নির্বাচন বাতিল নয়, পেছানো যেতে পারে। ফাঁকা মাঠে গোল দিয়ে লাভ নেই। সবাই মিলে বসে এর সামধান করতে হবে।

ব্যারিস্টার রফিক-উল হক তার বক্তব্যে বলেন- সংকটের সমাধান আমাদেরই করতে হবে। বাইরের কারো মাধ্যমে এর সমাধান করা যাবে না। দুই নেত্রীকে একসঙ্গে বসতে হবে, কথা বলতে হবে। ২৯ তারিখে বিএনপির সমাবেশকে সামনে রেখে সরকার সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। এমন করলে সংকটের সমাধান কিভাবে হবে। দুই নেত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি আবারও বলেন, সংকট সমাধানে আপনারা একসঙ্গে বসুন, আলোচনা করুন। দেশের স্বার্থ বড় করে দেখুন।

সৈয়দ আবুল মুকসুদ বলেন, দেশ যে একটি গভীর সংকটে রয়েছে তা একটি শিশুও বোঝে। ৭১’এর পর আর কখনো এমন পরিস্থিতি দেখা যায় নি। নাগরিক সমাজকে এক সঙ্গে করে কিছু মতামত নিয়ে সেগুলো রাজনীতিকদের কাছে সুপারিশ আকারে পাঠালে সমাধান হতে পারে।

এসময় তপন চৌধুরী বলেন, দেশ স্বাধীন না হলে আমরা এখানে থাকতাম না। কিন্তু দেশ  এখনও দেশ দুই ভাগে, দুই মেরুতে বিভক্ত । প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোতে কোনো গণতন্ত্র নেই। প্রধান দুই নেত্রীর বিরুদ্ধে কারও কথা বলার সাহস নেই। তারা দুইজন যদি একবার দেশের কথা চিন্তা করেন দেশ পরিবর্তিত হবেই। এই দেশ ও স্বাধীনতা কেউ এসে দিয়ে যায় নি।

এসময় তিনি এক পত্রিকায় উল্লেখিত সংবাদের বরাত দিয়ে বলেন, পত্রিকায় লিখেছে দেশ মধ্য মেয়াদি সংকটে, কিন্তু দেশ মধ্যমেয়াদী নয়, দেশ দীর্ঘ মেয়াদী সংকটে। এদেশে যাদের কোনো অবদান নেই, তারাই দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করে।

ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’র (এফবিসিসিআই) সাবেক প্রেসিডেন্ট আনিসুল হক বলেন,  সমাধানের কোনো রাস্তা দেখছি না। এখানে একটিও নতুন কথা শুনছি না। রাজনীতিবিদ যারা আছেন, তারা বিব্রত হন না। যে স্বৈর শাসককে ক্ষমতা থেকে নামিয়েছিলেন তার পেছনে ২০ বছর ধরে ঘুরছেন ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য। আমরা ক্লিবলিঙ্গ হয়ে গেছি, আমাদের বলার সাহস নেই। কৃষি, পোল্ট্রিসহ অন্যান্য খাত ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এ থেকে উত্তরণের কোনো পথ নেই বলে হতাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, নির্বাচন ৫ জানুয়ারি হচ্ছে না। কারণ সংবিধান অনুযায়ী জনগণ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। নির্বাচনে জনগণের রায়ের প্রতিফলন হচ্ছে না। সংবিধানের মূল্যবোধও কল্পনার বিরুদ্ধে। এ সময় তিনি ব্যারিস্টার রফিকুল হককে উদ্দেশ্য করে তার কাছে জানতে চান, আইন মোতাবেক আদালতের এ বিষয়ে কিছু করার আছে কিনা।

জবাবে ব্যারিস্টার রফিক বলেন, ১৫৪ আসনের সংসদ সদস্য এরই মধ্যে নির্বাচিত হয়েই গেছেন। ‍বাকি ১৪৬ আসনে তথাকথিত প্রতিযোগিতা হবে। এ জন্য নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না। এটা আওয়ামী লীগের জন্য একটি কলঙ্কময় অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হবে। নবম সংসদ এখনো বহাল আছে। সরকারি দল ও বিরোধী দল সংসদে গিয়ে একটি নির্বাচনকালীন সরকারের ভাবনা তৈরি করতে পারে। প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতিকে প্রধান করে এটি করা যেতে পারে। কারণ তিনি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য।

মাহফুজ আনাম বলেন,নির্বাচন কমিশন জনগণের আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। তাই এটি পুনর্গঠন করতে হবে। নির্বাচন হলে প্রাণহানি, নাশকতা ও সহিংসতা হবে। তাই নির্বাচন যেন না হয় সেজন্য তিনি অনুরোধ জানান।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান থাকতে পারেন না। একজন ব্যক্তির ইচ্ছায় প্রশাসন চলতে পারে না। আর  নির্বাচন কমিশনকে পুনর্গঠিত করতে হবে, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসীদের যেন নমিনেশন দেওয়া না হয়, সেজন্য চাপ সৃষ্টি করতে হবে। জামায়াত-শিবিরকে সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করতে হবে।

মানবজমিনের সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, দেশতো এভাবে চলতে পারে না। এ নির্বাচন হওয়া উচিত হবে না। নির্বাচন করাও সঠিক হবে না বলে তিনি প্রস্তাব করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের জন্য পরবর্তী যে ৯০ দিন সময় হাতে রয়েছে সে সময়ের মধ্যে নির্বাচন করা যেতে পারে।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026