বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫৫

বাংলাদেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিতে দু’নেত্রী‘ই দায়ী

বাংলাদেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিতে দু’নেত্রী‘ই দায়ী

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: তিক্ত দ্বন্দ্বে লিপ্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া বাংলাদেশকে আবার ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছেন। দু’দশক আগে এই ‘ব্যাটলিং বেগমস’ এক হয়েছিলেন স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে ক্ষমতাচ্যুত করতে। তার মাধ্যমে তারা গণতন্ত্রের এক নতুন যুগ সৃষ্টি করেছিলেন। বার্তা সংস্থা এএফপি’র এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়। রিপোর্টটি প্রকাশ করেছে দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া।

এতে বলা হয়, গতকাল বাংলাদেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে তার আগেই এটা নিশ্চিত করে বলে দেয়া যাচ্ছিল যে, এ নির্বাচনের মাধ্যমে বিজয়ী হবেন শেখ হাসিনা। কার্যত এ নির্বাচন একদলীয়। বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে গৃহবন্দি করা হয়েছে। তার দল নির্বাচন বর্জন করেছে। বাংলাদেশের স্বল্প সময়ে ইতিহাসে গত বছরটি ছিল সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক সহিংসতাপূর্ণ। তারপরও প্রত্যাশা ছিল এই দু’নেত্রী তাদের মতপার্থক্য দূর করতে সক্ষম হবেন এবং একটি সমঝোতা হবে। কিন্তু ব্যর্থ হন মধ্যস্থতাকারীরা। তারা দু’ নেত্রীর কোন একজনকেও তার অবস্থান থেকে সরাতে পারেন নি। তাই বিশ্লেষকরা বলছেন, পরিস্থিতি শুধুই খারাপের দিকে যাচ্ছে।

ঢাকার রাজনৈতিক বিশ্লেষক আতাউর রহমান বলেন, এ দু’নেত্রীর মধ্যে আরও ভয়াবহ লড়াইয়ের আগে গতকালের নির্বাচন ছিল একটি ওয়ার্ম আপ ম্যাচ। এ ম্যাচ দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যেতে পারে। অক্টোবরে নির্বাচন ঘোষণার পর খালেদা জিয়া দাবি করেন যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করতে হবে। নির্বাচন তদারকের জন্য গঠন করতে হবে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার।

কিন্তু এ দাবি মানতে অস্বীকৃতি জানান শেখ হাসিনা। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি অবরোধের মাধ্যমে দেশকে জিম্মি করেছে। ১৫ বছরের মধ্যে অক্টোবরে তারা প্রথম টেলিফোনে কথা বলেন। ওই কথোপকথন প্রকাশ হওয়ার পর তাদের ভেতরকার তিক্ত বৈরিতা প্রকাশ পায়। ওই সংলাপে হাসিনাকে হত্যা চেষ্টার জন্য খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন প্রধানমন্ত্রী হাসিনা। এছাড়াও ওই সংলাপে তাদের মধ্যে তিক্ত কথা বিনিময় হয়। খালেদা জিয়া তার জন্মসনদ নিয়ে মিথ্যাচার করছেন বলেও অভিযোগ তোলেন হাসিনা।

তিনি খালেদার কাছে জানতে চান- আপনি কেন ১৫ই আগস্ট কেক কাটেন? জবাবে খালেদা জিয়া বলেন, ওইদিনে কি কেউ জন্ম নিতে পারবে না? এ টেলিসংলাপে প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন নি খালেদা জিয়া। তাদের পারস্পরিক পছন্দ-অপছন্দ নিয়ে জটিলতা দেখা দেয় ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে। তখন তারা নির্বাচন নিয়ে একমত হতে ব্যর্থ হন। এর ফলে পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করে সেনাবাহিনী। তারা জরুরি অবস্থা জারি করে। গঠন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার।

এরপর দু’নেত্রীকে দুর্নীতির অভিযোগে জেলে পাঠানো হয়। পরে তারা ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অংশ নেন। তাতে ভূমিধস বিজয় অর্জন করেন হাসিনা। রাজনৈতিক জীবনের শুরুর দিকে এই দু’ নেত্রীই একসঙ্গে কাজ করেছেন। তারা ১৯৯০ সালে স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করেন। কিন্তু পরের বছরগুলোতে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই মিত্রতা পরিণত হয় শত্রুতায়। নিয়মিত জনসমাবেশে তারা ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করতে থাকেন একজন আরেকজনকে।

শেখ হাসিনা প্রথম ক্ষমতায় আসেন ১৯৯৬ সালে। তিনি খালেদা জিয়ার সরকারের পুনঃনির্বাচনের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিবাদ বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালের ওই নির্বাচনের মাত্র ৪৩ দিনের মধ্যে খালেদা জিয়াকে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াতে হয়। তিনি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে সম্মত হন। এ দাবি ছিল শেখ হাসিনার। প্রথম দফায় ক্ষমতায় থাকার সময়ে দুর্নীতির ব্যাপক অভিযোগ ছিল শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে। তখন ফিরে আসেন খালেদা জিয়া। তিনি ২০০১ সালের নির্বাচনে তার শত্রুপক্ষকে পরাজিত করেন। তাদের মধ্যে ২০০৪ সালের আগস্টে সম্পর্ক দা-কুমড়া হয়ে ওঠে।

ওই সময়ে এক জনসভায় হামলা চালিয়ে হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। এতে নিহত হন তার ২০ সমর্থক। এ হামলায় শেখ হাসিনার কানে শোনার ক্ষমতা স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়। এরপর হাসিনা অব্যাহতভাবে বলতে থাকেন এ হামলার নেপথ্যে ছিলেন খালেদা জিয়ার ছেলে। এ দু’ নেত্রী একে অন্যের বিরুদ্ধে শুধু ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার অভিযোগ করেন, অথচ শুরুতে তারা রাজনীতিবিদ হতে ছিলেন অনিচ্ছুক। একটি ভয়াবহ ট্র্যাজেডির মাধ্যমে তারা আসেন রাজনীতির পাদপ্রদীপে। ১৯৮১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তখন দু’ ছেলের মা খালেদা জিয়া। তার বয়স তখন মাত্র ৩৫ বছর। এর পর থেকেই বিএনপির নেত্রী তিনি।

ওদিকে ১৯৭৫ সালে অভ্যুত্থানে নিহত হন দেশের প্রতিষ্ঠাতা শেখ মুজিবুর রহমান। তারপর থেকে আওয়ামী লীগের কাণ্ডারি শেখ হাসিনা। ওই অভ্যুত্থানে ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার মা, তিন ভাইকেও হারান। তখন হাসিনা ছিলেন জার্মানিতে। পরে তিনি দেশে ফিরে আসেন দলের হাল ধরতে। তার বয়সও ছিল ৩০-এর কোঠায়। আরবিতে নারীদের সম্মান জানাতে তাদের নামের আগে বেগম শব্দটি ব্যবহার করা হয়। কিন্তু অনেক পর্যবেক্ষক মনে করেন তিক্ত রাজনৈতিকতা ছাড়া তারা দু’জন একে অন্যকে তিরস্কারমূলক কথাবার্তা বলেন। তাই এখনই সময় দু’নেত্রীর উচিত সম্মানের সঙ্গে অবসর নেয়া। এমন কথা বলা হয়েছে ঢাকার একটি ইংরেজি দৈনিকের সম্পাদকীয়তে।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026