শীর্ষবিন্দু নিউজ: দশম সংসদ নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পরও আন্দোলনরত বিএনপিকে আগামী নির্বাচন নিয়ে সমঝোতায় আসার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। তবে এক্ষেত্রে সংঘাতের পথ এবং জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গ ছাড়ার শর্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দিয়েছেন তিনি।
বিরোধী জোটের বর্জনের মধ্যে ভোট হয়ে যাওয়ার পর সোমবার সংবাদ সম্মেলনে এসে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আওয়ামী লীগ তথা সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন হাসিনা। ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে জনগণ যে ম্যান্ডেট দিয়েছে তার জন্য দেশবাসীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই নির্বাচনকে গণতন্ত্রের বিজয় বলে আখ্যায়িত করেছেন তিনি। আজ বিকালে গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে পারতো। কিন্তু আমাদের সকলের প্রত্যাশা ছিল বিরোধী দল নির্বাচনে আসবে। আমি তাদের বারবার সংলাপে আসার আহ্বার জানিয়েছিলাম। কিন্তু তারা বেছে নিয়েছে ধ্বংসাত্মক পথ। এই সন্ত্রাসের পথ পরিহার করে গণতান্ত্রিক পথে আসার আহ্বান জানিয়েছিলাম। বিরোধী নেতা খালেদা জিয়ার উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গ ত্যাগ করে আপনি আলোচনাায় আসুন। ইনশাআল্লাহ আগামী নির্বাচনে সমঝোতা হবে।
তিনি বলেন, জনগণ আমাদের যে ম্যান্ডেট দিয়েছেন তাতে দেশের উন্নয়নের ধারা আমরা অব্যাহত রাখবো। তিনি বলেন, সন্ত্রাস জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স অব্যাহত রাখা হবে। স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিকে দেশে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেওয়া হবে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনে জনগণ সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও নাশকতার বিরুদ্ধে শান্তি, সাংবিধানিক ধারা ও গণতন্ত্রের পক্ষে রায় দিয়েছে। বিজয় হয়েছে গণতন্ত্রের। পরাজয় হয়েছে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির। খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আলোচনার জন্য বিরোধী নেত্রীকে আমি নিজে ফোন করেছিলাম। উনি কিন্তু আমার কথা রাখেননি। তবে আলোচনার জন্য আমার দরজা সব সময় খোলা আছে। এখন তো উনি বিরোধী দলীয় নেতার চেয়ারেও বসতে পারছেন না।
আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না তারা নিবাচনে অংশ নেয়নি। তারা দেশের উন্নয়ন চায় না বলেই এই নির্বাচন বর্জন করেছে। তিনি বলেন, জনগণ বাধা উপেক্ষা করে নির্বাচনে ভোট দিয়েছে। বিরোধী বাধা না দিলে নির্বাচনে আরও বেশি ভোট পড়তো। মন্ত্রী-এমপিদের সম্পদ বাড়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের মানুষের আয় বেড়েছে। সেই অনুযায়ী মন্ত্রী-এমপিদের সম্পদ বেড়েছে। তবে কেউ যদি অস্বাভাবিকভাবে সম্পদ বাড়িয়ে থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে। আমি অন্তত কোন দুর্নীতিবাজকে প্রটেকশন দিবো না।
বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি নির্বাচনে অংশ নেয়নি। তারাও স্বাধীনতা বিরোধী কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, কমিউনিস্ট পার্টির যেগুলো পাকা পাকা ছিল সেগুলো আমি নিয়ে নিয়েছি। আর যেগুলো পচে গেছে সেগুলোকে বাদ দিয়ে দিয়েছি। এখন যারা আছে তারা চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে করতে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র হয়ে যাচ্ছে। তারা স্বাধীনতা বিরোধী কিনা এ প্রশ্ন তাদেরকে করলেই ভাল হয়।
গণভবনে খোলা মাঠে অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশের পাশাপাশি বিদেশি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরও দেন হাসিনা। নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়ে বিরোধী জোটের সন্ত্রাস, সহিংসতা, হত্যা, অগ্নিসংযোগের পরও জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।