শীর্ষবিন্দু নিউজ: খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের সভাপতি এলবার্ট ডি কস্তা বলেছেন, মুসলমানরা নৃশংস নন, আর বাংলাদেশে জঙ্গিও নেই। যারা বারবার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলেন তারাই সাম্প্রদায়িক হামলা ঘটাচ্ছেন। রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে-একাংশ) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে-একাংশ) আয়োজিত সাম্প্রদায়িক সহিংসতা: স্বরূপ সন্ধান শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ডিইউজের সভাপতি আবদুল হাই সিকদার, নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নুরুল আমিন চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য নিতাই রায় চৌধুরী, কল্যাণ ফ্রন্টের সভাপতি গৌতম চক্রবর্তী, বিএফইউজের মহাসচিব শওকত মাহমুদ, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ প্রমুখ।
খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের সভাপতি এলবার্ট ডি কস্তা বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে সাম্প্রদায়িকতার কোনো স্থান নেই। দেশের রাজনীতিকরা তাদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য পরিকল্পিতভাবে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা করে মুসলমানদের ওপর দোষ চাপিয়ে মিথ্যাকে সত্য, আর সত্যকে মিথ্যায় পরিণত করছেন। মুসলিম সম্প্রদায়কে শান্তিপ্রিয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, মুসলমানরা নৃশংস নন, আর বাংলাদেশে জঙ্গিও নেই। যারা বারবার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলেন তারাই এসব ঘটনা ঘটিয়েছেন।
ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলাকারীরা কোনো দেশ, জাতি, দল ও ধর্মের লোক হতে পারে না। তারা সুশীল সমাজ হতে বিবর্জিত। এদেরকে চিহ্নিত করে শাস্তি দিয়ে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করতে হবে। সভায় সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও বিচারপতি আবদুর রউফ বলেন, বাঙালি-অবাঙালি বিবেচনা না করে যেদিন দেশে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠিত হবে, সেদিন দেশ সাম্প্রদায়িক হামলা মুক্ত হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, অসুস্থ আর নোংরা রাজনীতির কারণে দেশে ঘৃণ্য সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তিনি বলেন, সরকার পার্লামেন্টের এক বিরাট অংশকে বিনা ভোটে নির্বাচিত করে ফ্যাসিবাদী ও নাৎসিবাদী কাণ্ড ঘটিয়েছে। আর নিজেদের স্বার্থে ভারত এতে সমর্থন দিলেও দেশটির গণমাধ্যমসহ বিশ্বমিডিয়া তীব্র সমালোচনা করেছে। মিডিয়াসহ সাধারণ মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে সরাতেই অসাম্প্রদায়িক দেশে সাম্প্রদায়িক হামলা করা হয়েছে এবং এর দায় বিএনপি-জামায়াতসহ অসাম্প্রদায়িক জাতীয়তাবাদী শক্তির ওপর চাপানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সম্প্রতি সাম্প্রদায়িক হামলার জন্য নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) দায়ী করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য ইউসুফ হায়দার চৌধুরী বলেন, সরকারের প্ররোচনায় ইসি বিএনপিকে বাদ দিয়ে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা ও নির্বাচন করার কারণেই সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটেছে।
সাম্প্রদায়িক হামলায় প্রশাসনের নীরবতার সমালোচনা করে বুদ্ধিস্ট ফেডারেশনের প্রধান অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া বলেন, একটি মন্দির পুড়তে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় লাগে। প্রশাসন ইচ্ছা করলে এর মধ্যে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারতো, হামলাকারীদের গ্রেফতার করতে পারতো। কিন্তু প্রশাসন তখন রহস্যজনকভাবে নীরব ছিলো, এখনও আছে। এতে এটাই প্রমাণ হয় যে, কোনো সাম্প্রদায়িক দল নয়, সরকারের মদদেই সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা হয়েছে।