শীর্ষবিন্দু নিউজ: স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কোনো উপাদান আছে কি-না তা দেখতে প্রাণের সব ধরনের গুঁড়া মসলা পরীক্ষার আদেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি করে বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. হাবিবুল গণির বেঞ্চ বুধবার এই আদেশ দেয়। হাইকোর্টের এই বেঞ্চ এ রিটের শুনানি নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের পাশাপাশি এ রুল জারি করেন।
গুঁড়া মসলার নামে প্রাণ অ্যাগ্রো লিমিটেড কোম্পানির মরিচ, আদা, জিরা, ধনিয়া ও রসুনসহ সব ধরনের মসলায় মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কোনো উপাদান আছে কি না, তা পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ পরীক্ষা চালাতে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিভিন্ন দোকান থেকে নমুনা সংগ্রহের কথা বলা হয়েছে।
একই সঙ্গে চার সপ্তাহের মধ্যে এ প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে বলেছেন আদালত। বিসিএসআইআরের চেয়ারম্যান ও বিএসটিআইয়ের পরিচালকের (কেমিক্যাল উইং) প্রতি এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে তিন আইনজীবী রিটটি করেন। রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেছুর রহমান।
রুলে ওই পাঁচটি মসলার নুমনা সংগ্রহ করে তাতে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক উপাদান আছে কি না, তা পরীক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অন্যান্য কোম্পানির পণ্যে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক উপাদান আছে কি না, এ জন্য ল্যাবরেটরির পরীক্ষার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
রিট আবেদনে স্বাস্থ্যসচিব, খাদ্যসচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, র্যাবের মহাপরিচালক, বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক, বিসিএসআইআরের চেয়ারম্যান, বিএসটিআইয়ের পরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে। বিবাদীদের দুই সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
গত নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে প্রথম আলো, ডেইলি স্টারসহ বিভিন্ন দৈনিকে প্রাণের গুঁড়া হলুদে সিসা পাওয়া যাওয়া নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এসব প্রতিবেদন যুক্ত করে আজ রিটটি করা হয়।
শুনানিতে মনজিল মোরসেদ বলেন, গুঁড়া মসলায় রাসায়নিক পদার্থ আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। কারণ সিসার মতো উপাদান জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ; যা জীবন ধারণের অধিকারকে ব্যাহত করে।