শীর্ষবিন্দু নিউজ: বহুল আলোচিত ১০ ট্রাক অস্ত্র আটকের ঘটনায় চোরচালান মামলায় জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, ডিজিএফআই’র সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার, এনএসআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুর রহিম, উলফার নেতা পরেশ বড়–য়াসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে আদালত।
একই ঘটনায় অস্ত্র আইনে দায়ের করা মামলায় তাদের যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। চট্টগ্রামের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক এস এম মজিবুর রহমান বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে এনএসআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা উইং কমান্ডার শাহাবুদ্দিন, উপ-পরিচালক মেজর (অব.) লেয়াকত হোসেন, এনএসআইয়ের মাঠ কর্মকর্তা আকবর হোসেন খান, সিইউএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহসিন উদ্দিন তালুকদার, মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) কে এম এনামুল হক, শিল্পমন্ত্রণালয়ের তৎকালীণ কর্মকর্তা নুরুল আমীন, হাফিজুর রহমান, আবদুস সোবহান ও দীন মোহাম্মদকে সাজা দেয়া হয়েছে।
ভারতের বিদ্রোহী সংগঠন উলফার নেতা পরেশ বড়–য়া এখনো পলাতক রয়েছেন। শিল্প মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন কর্মকর্তা নুরুল আমীনও পলাতক রয়েছেন। এ রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই চট্টগ্রাম আদালত এলাকা ঘিরে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক পুলিশ-র্যাব এবং গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের।
২০০৪ সালের ১লা এপ্রিল গভীর রাতে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড সিইউএফএল জেটিঘাটে ধরা পড়ে ১০ ট্রাক অস্ত্র। এরপর পরের বছর ৬ জুলাই এই মামলায় বাদি আহাদুর রহমানের সাক্ষ্য দেয়ার মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। ২০০৭ সালের ২০ নভেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ মামলার অধিকতর তদন্তের আবেদন করে। ২০০৯ সালের ২৯ জানুয়ারি এএসপি মনিরুজ্জামান তদন্ত শুরু করেন। সর্বশেষ ২০১৩ সালের ১০ অক্টোবর অস্ত্র মামলায় মোট ৫৬ জন ও চোরাচালান মামলায় মোট ৫৩ সাক্ষী সাক্ষ্য দেন।