বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৭:১২

বিমানের বহরে নতুন অতিথি আকাশ প্রদীপ

বিমানের বহরে নতুন অতিথি আকাশ প্রদীপ

শীর্ষবিন্দু নিউজ: রাস্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ালাইন্সের নতুন অতিথি আকাশ প্রদীপ। সদ্য যোগ হওয়া বিমান পরিবহণ সংস্থার বহরের তৃতীয় বোয়িং ৭৭৭ এটি। আকাশ প্রদীপ এর আনুষ্ঠানিক উদ্ভোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ উপলক্ষে মঙ্গলবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিভিআইপি লাউঞ্জের সামনে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চুক্তি অনুযায়ী সময়মতো উড়োজাহাজ পাঠানোয় বোয়িং কোম্পানিকে ধন্যবাদ জানান তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল থেকে রওনা হয়ে গত শুক্রবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে উড়োজাহাজ আকাশ প্রদীপ।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সময় মতো টাকা দিতে পেরেছি বলেই সময় মতো বিমান পেয়েছি। দেশের  রাষ্ট্রায়ত্ত্ব বিমান পরিবহণ সংস্থা আগামীতে লাভজনক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। আগামী মার্চে ‘রাঙা প্রভাত’ নামের আরেকটি বোয়িং-৭৭৭ উড়োজাহাজ  বাংলাদেশ বিমানের বহরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। সেটিও সময়মতো আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে ২০১১ সালে পালকি ও অরুণ আলো নামে প্রথম ও দ্বিতীয় বোয়িং ৭৭৭ বিমানের বহরে যুক্ত হয়।

ডিসি-১০ উড়োজাহাজ বহরের কল্যাণেই দশ লাখ যাত্রী পরিবহন ক্লাবে যুক্ত হয় বাংলাদেশ বিমান। যাত্রী পরিবহন সেবায় নিয়োজিত বিশ্বের সর্বশেষ ডিসি-১০ কে বিদায় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটিও একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। এখনো বিমানের বহরে ডিসি-১০ চালু থাকায় পাইলট এবং রক্ষণাবেক্ষণের সঙ্গে জড়িত সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, “বৈমানিক এবং কর্মচারীরা এতো দক্ষ যে, এই ঝড়ঝড়া বিমান চালিয়েছে। বাঙালি বলেই পেরেছে। সব সময় ঝুঁকি নিয়ে চালিয়েছে। আমি যখনই এই বিমানে ভ্রমণ করেছি, তখনই ককপিটে গেছি। খোঁজ-খবর নিয়েছি। এই উড়োজাহাজে বহুবার ভ্রমণ করেছেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

বিমানের বহরকে আধুনিকায়ন করতে ২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে একটি চুক্তি করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। ওই চুক্তির আওতায় বোয়িং থেকে মোট ১০টি উড়োজাহাজ কেনার কথা রয়েছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠানটির। এর মধ্যে  চারটি বোয়িং-৭৭৭, দুটি বোয়িং-৭৩৭ এবং চারটি বোয়িং-৭৮৭ ড্রিমলাইনার রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী সর্বশেষ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজটি ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে বহরে যুক্ত হওয়ার কথা।

একই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা তার নেতৃত্বাধীন বিগত দুই সরকার আমলে যাত্রীদের সুবিধায় বিমানবন্দরের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ঢাকার বাইরের যাত্রীদের সুবিধার জন্য বিমানবন্দর রেলস্টেশন থেকে মূল টার্মিনাল পর্যন্ত একটি টানেল নির্মাণের জন্য সম্ভব্যতা যাচাই হয়েছে। রেল চলাচল এবং বেসরকারি বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এই কাজটি করবে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যান্য দেশের সংযোগ রক্ষায় বিমানের সময়ানুবর্তীতার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিমানকে সময়ানুবর্তীতার দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। বিমান এখন অনেক সময়ানুবর্তী হয়েছে। ভবিষ্যতে আরো হবে আশা করি। কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা আরো আন্তরিক হলে এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখলে বিমান অনেক বেশি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে বলে মনে করেন শেখ হাসিনা। বিমান লাভজনক প্রতিষ্ঠান হবে- এটাই আমাদের লক্ষ্য, বলেন তিনি। বিমানের উড়োজাহাজে করমুক্ত দোকান স্কাই সপ আরো আধুনিকায়নে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে কথা বলবেন বলেও আশ্বাস দেন সরকার প্রধান।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026