মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৪৫

ভারত মহাসাগরেও সন্ধান চলবে নিখোঁজ বিমানের

ভারত মহাসাগরেও সন্ধান চলবে নিখোঁজ বিমানের

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: মালয়শিয়ার নিখোঁজ বিমানের খোঁজে তল্লাশি এলাকার পরিধি বাড়িযে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। এতে তল্লাশি এলাকার আওতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জে কার্নি এ কথা জানান।

প্রায় এক সপ্তাহ আগে ২৩৯ জন যাত্রী নিয়ে মালয়শিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর থেকে চীনের রাজধানী বেইজিং যাওয়ার সময় উড্ডয়নের এক ঘন্টা পর বিমানটি নিখোঁজ হয়ে যায়। বিমানটি বেইজিংয়ের গন্তব্য ছেড়ে পশ্চিম দিকে ঘুরে এগিয়ে গিয়েছিল, এমন সম্ভাবনার ভিত্তিতেই ভারত মহাসাগর পর্যন্ত তল্লাশি এলাকার আওতা বিস্তৃত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে কার্নি বলেছেন, আমি যা বুঝতে পেরেছি তা হল, কিছু নতুন তথ্য পাওয়া গেছে যার ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত, তথ্যগুলো সম্পর্কে নিশ্চিত না হলেও এগুলো নতুন তথ্য। এ কারণে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত তল্লাশি এলাকা বিস্তৃত করা হচ্ছে। কী নতুন তথ্য পাওয়া গেছে তা পরিষ্কার করেননি কার্নি, আর এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে মালয়শীয় কর্মকর্তাদেরও পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছ রয়টার্স।

ঘটনা তদন্তের সঙ্গে জড়িত দুটি সূত্র বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, শনিবার নিখোঁজ হওয়ার পর বিমানটি থেকে দুর্বল কিছু ইলেকট্রনিক সংকেত (পালস) উপগ্রহের মাধ্যমে পাওয়া গেলেও বিমানটি কোন দিকে গেছে বা এর পরিণতি কী হয়েছে, এই সংকেত থেকে সে সম্পর্কে কোনো তথ্যই পাওয়া যায়নি। কিন্তু এই সংকেত থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, বিমানটির ট্রাবলশ্যুটিং সিস্টেমের স্যুইচ অন করা ছিল এবং বিমানটি উপগ্রহগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য প্রস্তুত ছিল। এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলারের সঙ্গে যোগাযোগ হারিয়ে ফেলার পরও বিমানটি যোগাযোগ করার মতো অবস্থায় ছিল বলে এই সংকেত থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে ওই সূত্র।

বিমানের ওই সিস্টেম প্রায় এক ঘন্টায় একটি সংকেত পাঠাচ্ছিল এবং এ রকম পাঁচ থেকে ছয়টি সংকেত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে ওই সূত্র। তবে এসব সংকেত থেকে বিমানটি আকাশে ছিল না মাটিতে তা পরিষ্কার হওয়া যাবে না বলে জানিয়েছে সূত্র দুটি। উপগ্রহের পাওয়া সিগন্যালসহ এসব নতুন তথ্য নিখোঁজ বিমানটি কারিগরি ক্রুটির কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে, নাকি ছিনতাই হয়েছে বা অন্য কোনো ঘটনার সম্মুখীন হয়েছে, সেই রহস্যের তেমন কোনো কূলকিনার করতে পারেনি।

মালয়শীয় কর্তৃপক্ষ বলেছে, বিমানটি থেকে শেষ বেসামরিক কল যখন করা হয় তখন বিমানটি থাইল্যান্ড উপসাগরের উত্তর দিক দিয়ে উড়ছিল। কর্তৃ্পক্ষ আরো বলেছে, সামরিক রেডার থেকে পাওয়া বিমানের অবস্থান থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বিমানটি পুরো ঘুরে পশ্চিম দিকে মোড় নিয়েছিল এবং মালয় উপদ্বীপ পার হয়ে আন্দামান সাগরের দিকে এগিয়ে গিয়েছিল।

মালয়শীয় বিমানটির এই হঠাৎ উধাও হয়ে যাওয়া ও প্রায় এক সপ্তাহেও সেটির খোঁজ না পাওয়া, বিমান চলাচলের আধুনিক ইতিহাসে অন্যতম হতাশাজনক রহস্যময় ঘটনা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এক ডজনেরও বেশি দেশের নৌবাহিনী ও সেনাবাহিনীর কয়েক ডজন বিমান ও জাহাজের লাগাতার তল্লাশি অভিযানেও বিমানটির বা এর ধ্বংসাবশের কোনো চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায়নি।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026