মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৩৪

ইলিশের আকাল

আরিফ হোসেন:

পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে সুস্বাদু পদ্মার ইলিশ এখন সোনার হরিণ হয়ে উঠেছে। উপজেলার পদ্মা তীরবর্তী  বাঘড়া, ভাগ্যকূল, বালাশুর বাজার ও লৌহজং উপজেলার মাওয়া মৎস আড়ত ঘুরে দেখা গেছে প্রায় অভিন্ন চিত্র। মাওয়া ফেরিঘাট সংলগ্ন আড়তে পদ্মার ইলিশ কেনার জন্য ঢাকা থেকে প্রতিদিন সূর্য উঠার আগেই বহু ক্রেতার সমাগম ঘটছে।

কিন্তু ইলিশ না পেয়ে বা ঢাকার সঙ্গে দামের তুলনা করে অনেকেই খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। ইলিশের এমন চাহিদার কারণে অনেক অসাধু ব্যবসায়ী ক্রেতাদের সরলতার সুযোগকে কাজে লগিয়ে অন্য অঞ্চল থেকে হিমাগারে সংরক্ষিত ইলিশ এনে তা পদ্মার বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে। পদ্মার ইলিশ যা দু-একটা পাওয়া যাচ্ছে তার মূল্য সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার অনেক বাইরে

গতকাল সকালে মাওয়া ঘাটের আড়ৎদার হামিদ জানান, পদ্মার ইলিশ এখন আর তেমন আড়তে আসে না। ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে শেষ রাতে ট্রাকে করে ইলিশ এনে সেগুলো পদ্মার বলে চালিয়ে দেয়া হয়। একটি পদ্মার ইলিশ কেনার আশায় স্থানীয় জেলেরা অনেক সময় ধরে অপেক্ষায় থাকেন। বাজারে এলেই তা বগলদাবা করে টাকা ওলাদের কাছে সাপ্লাই করেন। এখানে  আটশ’ গ্রাম থেকে এক কেজি ওজনের এক একটি ইলিশের দাম এখন দুই থেকে দুই হাজার পাঁচশ টাকা পর্যন্ত বলে জানান এক বিক্রেতা।

তাছাড়া একশ্রেণীর ফড়িয়া নদীতে গিয়ে সরাসরি জেলেদের কাছ থেকে ইলিশ সংগ্রহ করে তা চার থেকে পাঁচগুণ বেশী দামে সৌখিন ক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করছে বলে অনেক বিক্রেতা অভিযোগ করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাওয়া ঘাটের এক মাছ বিক্রেতা জানান, অনেকে বিশেষ কায়দায় তৈরি ফিশারি বাক্সে ইলিশ সংরক্ষণ করে বেনাপোল দিয়ে কলকাতায় নিয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে দামের বিষয়টি গৌণ।

ভাগ্যকূল বাজারের মাছ বিক্রেতা শ্রীধাম জানান, এক সপ্তাহ আগে ইলিশের যে দাম ছিল এখন তা তিন থেকে চারগুণ বেড়েছে। ভাগ্যকূল পয়েন্টে এখন বড় ইলিশ ধরা পড়ছেনা। বৃষ্টি না হওয়ায় এখনো ইলিশ ধরার মওসুম শুরু হয়নি। তার পরও দু-একটি যা ধরা পড়ছে তা এখানকার জেলেরা বেশী দাম পাওয়ার আশায় স্থানীয় বাজারে বিক্রি করছে না। ঢাকা-দোহার সড়কের বালাশুর বাসস্ট্যান্ডে প্রতিদিন বিকালে এমনিতে পদ্মার বিভিন্ন মাছের পসরা বসে। বরফবিহীন তরতাজা ইলিশ কেনার জন্য অনেকেই ভিড় জমান এখানে।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সেখানে গিয়ে চোখে পড়ে কয়েকজন জেলে ঝাটকা সাইজের ইলিশ বিক্রি করছেন। আড়াইশ’ থেকে তিনশ’ গ্রাম ওজনের প্রতি হালি ইলিশের দাম হাঁকছেন দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা। এবাজারের মাছ বিক্রেতা সুধীর জানান, চার পাঁচ দিন ধরে এখানে পদ্মা নদীর কোন বড় ইলিশ আসছে না। বাঘরা নদীর তীরে ইলিশ কিনতে এসে গার্মেন্ট ব্যবসায়ী শফিকুর রহমান জানান, তিনি প্রায় সারা বছর এখান থেকে পদ্মার ইলিশ কিনেন। কিন্তু এরকম সংকট দেখেননি। এ মাছ কোথায় যাচ্ছে তা খুঁজে দেখা প্রয়োজন বলে তিনি উল্টো প্রশ্ন রাখেন।

দাম যেখানে বেশি সেখানেই যাবে ইলিশ
নূর ইসলাম, যশোর থেকে: দাম যেখানে বেশি সেখানেই যাবে ইলিশ। বৈধ হোক আর অবৈধ হোক এটা জানার বিষয় আমাদের নয়। ভারতে ইলিশ পাচার হচ্ছে স্বীকার করে আড়তদার শেখ আব্বাস আলী এসব কথা বলেন। বাংলা নববর্ষের প্রথম প্রহরে মাটির থালায় পান্তা ভাতের সঙ্গে একটুকরা ইলিশ মাছ আর নানা রকমের ভর্তা ভাজির সঙ্গে পিয়াজ আর কাঁচা লংকার সংমিশ্রণ হবে না- তা কি করে সম্ভব। সমাজের নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ এই দিনটিকে বরণ করতে তাদের সাধ্যমতো যেমন হরেক রকমের প্রস্তুতি গ্রহণ করেন তেমনি সঙ্গে থাকে পান্তা ইলিশের আয়োজন। ১লা বৈশাখের বিশেষ আকর্ষণ ইলিশ মাছের বাজারে লাগে আগুন। প্রতি বছরের মতো এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি যশোরের হাট বাজারে। দিনভর খোঁজ খবর নিয়ে ইলিশ বাজারের দরদামের যে তথ্য উপাত্ত পাওয়া গেছে তা রীতিমত আঁতকে ওঠার মতো। তারপরও বেচাকেনা থেমে নেই। সাধ ও সাধ্যের মধ্যে সমন্বয় করে সবাই কিনছেন স্বাদের ইলিশ। লক্ষ্য ১লা বৈশাখে পান্তা ইলিশ খাওয়া। ১লা বৈশাখ মূলত এদেশের কৃষি ও কৃষি শিল্পকে সর্বসাধারণের কাছে পরিচিত করার একটি দিন। আদিকাল থেকে এই দিনটিকে কৃষকরা বিশেষ মর্যাদার সঙ্গে পালন করে থাকে। তবে তখন ছিল ক্ষেতে ফসল বোনার উৎসব বা দিন। বাংলা নববর্ষের যাত্রা হওয়ার পর থেকে বাঙালিরা ১লা বৈশাখ পালনে বেশ উৎসাহবোধ করেন। তবে তখনও তা সীমাবদ্ধ ছিল ক্ষেতে নতুন ফসলের বীজ বপন আর মিষ্টিমুখ বা ক্ষীর খাওয়ার মধ্যে। ধীরে ধীরে তা কখন যে তা পান্তা ইলিশ উৎসবে রূপ নিয়েছে তার সঠিক ইতিহাস জানা নেই কারোর। তবে ইতিহাস বলছে, ‘মাছে ভাতে বাঙালি’- প্রবাদটি আরও বাস্তবসম্মত করতেই সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা ১লা বৈশাখ উৎসবে পান্তা ইলিশের প্রচলন করেন। তারই ধারাবাহিকতায় আজ তা বাঙালির প্রধান উৎসবে পরিণত হয়েছে। কিন্তু সময়ের আবর্তে সেই ইলিশ আজ সোনার দামে বিকাচ্ছে। গতকাল দিনভর যশোরের হাটবাজারে খোঁজ-খবর নিয়ে জানা গেছে, প্রতি ১ কেজি সাইজের একটি ইলিশের খুচরা মূল্য হচ্ছে ১৮শ’ থেকে ২ হাজার টাকা। আর ৭শ’ থেকে  ৮শ’ গ্রাম সাইজের প্রতিটি ইলিশের দাম হাঁকা হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১২শ’ টাকা পর্যন্ত। এর থেকে ছোট সাইজের প্রতি পিস ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৭শ’ থেকে ৮শ’ টাকার মধ্যে। যশোর বড় বাজারের মাছ বিক্রেতা এরশাদ আলী বললেন, ২ সপ্তাহ আগেও এই সব মাছের দাম ছিল বর্তমানের তুলনায় প্রায় অর্ধেক। ১লা বৈশাখের আগমনে ইলিশের বাজারে মাছের দাম দ্বিগুণ তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কেন এই দাম বৃদ্ধি এমন প্রশ্নের উত্তরে যশোরের ইলিশ মাছের সব চেয়ে বড় আড়তদার শেখ আব্বাস আলীর সোজাসাপ্টা জবাব, সামনে ১লা বৈশাখ। সবাই ইলিশ কিনছে। বাজারে চাহিদা বেশি। ফলে দামটাও একটু বেশি হবে। কিছুটা ব্যঙ্গাত্মক সুরে তিনি বললেন, বছরে একদিন বাঙালি হবেন আর বেশি দামে ইলিশ কিনবেন না তা কি হয়। তাই দাম একটু বেশি হলেও কোন ক্ষতি নেই। তিনি জানালেন, বর্তমানে যশোরের বড় বাজার, চুয়াডাঙ্গা স্ট্যান্ড বাজার, পালবাড়ীর মোড় বাজার, খয়েরতলা বাজার, নতুন খয়েরতলা বাজার, রেল স্টেশন বাজার, চাঁচড়া বাজার, রূপদিয়া বাজার, বারান্দী মোল্যাপাড়া বাজার, শেখহাটি বাজার, নতুন উপশহর বাবলাতলা বাজার, পুলেরহাট বাজারসহ জেলা শহরের আশপাশের সব বাজারে প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১৫ মণ ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া জেলা শহরের বাইরে বিভিন্ন উপজেলা শহরেও গড়ে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ মণ ইলিশ যাচ্ছে। পাইকারি বাজারে বর্তমানে সাইজ অনুসারে প্রতি মণ ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২৪ থেকে ৪৫ হাজার টাকায়। তবে স্পেশাল সাইজের ইলিশের দাম ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে তার চাহিদা অনেক কম বলে জানালেন ইলিশ মাছের আরেকজন আড়তদার টগর আলী। তিনি বললেন, এখন ইলিশ মাছের শেষ মওসুম। বাজারে টাটকা ইলিশের আমদানি কম। বেশি চলছে স্টোরের ইলিশ। এই কারণে দাম কিছুটা বেশি। এছাড়া ১লা বৈশাখে সবাই সাধ্যমতো ইলিশ মাছ কেনার চেষ্টা করেন। এই কারণে চাহিদা অনেকটা বেড়ে যায়। ফলে দামও বাড়ে। বড় বাজারের খুচরা ইলিশ বিক্রেতা রমজান আলী জানালেন, প্রতিদিন তিনি ২ থেকে ৩ মণ ইলিশ মাছ কেনেন। সন্ধ্যার মধ্যে তা বেচাকেনা শেষ হয়ে যায়। বর্তমানে ৫ থেকে ৭শ’ গ্রাম সাইজের ইলিশের চাহিদা বেশি। বিশেষ করে সমাজের স্বল্প আয়ের মানুষেরা তাদের সাধ মেটাতে এই সাইজের ইলিশ মাছ কিনছেন। চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড বাজারের খুচরা মাছ বিক্রেতা শ্যামল দাশ বললেন, আমাদের সমাজে সব শ্রেণী-পেশার মানুষ বছরের এই একটি দিনের অপেক্ষায় থাকেন। সারা বছর পান্তা ভাত না খেলেও এদিন সকালে এক টুকরো ইলিশ মাছ ভাজার সঙ্গে পান্তাভাত, সঙ্গে কাঁচামরিচ আর এক টুকরো পেঁয়াজ না হলে যেন বাংলা নববর্ষ শুরু হবে না। কথা হয় অবসরপ্রাপ্ত সরকারি স্কুলশিক্ষক আবদুস সামাদের সঙ্গে। সত্তরোর্ধ্ব এই শিক্ষক বললেন, এখন সবই আর্টিফিসিয়াল। কিছুটা ক্ষোভ প্রকাশ করে বললেন, সারা বছর চলনে বলনে বিদেশী থাকলেও ১লা বৈশাখে বাঙালি না সাজলে আর ১লা বৈশাখ পার হবে না। খোঁজ-খবর নিয়ে জানা গেল, যশোরের হাটবাজারে ইলিশ মাছের মূল সরবরাহকারী হলো বরিশাল আর পটুয়াখালী অঞ্চলের মৎস্য ব্যবসায়ীরা। এছাড়া সামান্য কিছু মাছ আসে চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে। বিশেষ করে কলাপাড়া, খেপুপাড়া ও কুয়াকাটা এবং বরিশালের বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রাকযোগে এসব ইলিশ মাছ ঢোকে যশোরের
আড়তগুলোতে। পাইকারদের হাত ঘুরে সে মাছ পৌঁছায় খুচরা বিক্রেতাদের হাতে। তারপর কয়েক হাত বদলে তা পৌঁছায় ভোক্তার খাবারের টেবিলে। তবে যে পরিমাণ ইলিশ যশোরের আড়তগুলোতে ঢোকে তার সিংহভাগই সীমান্ত পেরিয়ে পাচার হয়ে যাচ্ছে ভারতে। সরকারি পর্যায়ে ইলিশ রপ্তানি নিষিদ্ধ হলেও বেসরকারি পর্যায়ে অবৈধভাবে ইলিশ পাচার চলছেই। খোঁজ-খবর নিয়ে জানা গেল, যশোরের বড় ইলিশ মাছের আড়তদারদের সঙ্গে ওপারের দাদাদের বিশেষ সখ্য রয়েছে। তারই সূত্র ধরে এই অঞ্চলের সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামগুলোতে পৌঁছে যায় ইলিশের বিশেষ করে বড় সাইজের ইলিশের চালান। তারপর সীমান্ত পাহারাদারদের সঙ্গে বিশেষ ধরনের রফার মাধ্যমে এসব ইলিশ চলে যায় ওপারে। সূত্র জানায়, এপারের সীমান্তে বিজিবি যেমন গরু চোরাচালানিকে বৈধতা দেয়, তেমনি ওপার সীমান্তে বিএসএফ ইলিশ চোরাচালানিতে বিশেষ ধরনের বৈধতা দেন। যা দুই দেশের অলিখিত সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন সাধারণ মানুষ। আর এই কারণে দেশের বাজারে, বিশেষ করে সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলোতে ইলিশ মাছের আকাল থাকে বছরজুড়ে। বর্তমানে সমুদ্রে ইলিশ মাছ ধরা পড়ছেও কম বলে জানালেন আলীপুরের মৎস্যজীবী ও ইলিশ মাছের আড়তদার হেকমত আলী। যশোরের শেখ আব্বাস আলীর মাছের আড়তে কথা হয় এই ইলিশ ব্যবসায়ীর সঙ্গে। তিনি বকেয়া টাকা নেয়ার জন্য কুয়াকাটার আলীপুর থেকে যশোর এসেছেন প্রায় ১ সপ্তাহ আগে। তিনি জানান, যশোরের পাইকারদের কাছে তার প্রায় ৩ কোটি টাকার ওপর পাওনা রয়েছে। সামনে হালখাতা তাই কালেকশন করতে এসেছেন। তাছাড়া যশোরের সঙ্গে তাদের আলাদা একটা সম্পর্ক আছে। তাই সময় পেলেই তিনি চলে আসেন। তিনি বললেন, সারা বছর ইলিশ মাছের যে চাহিদা থাকে দেশের বাজারে, ১লা বৈশাখে সেই চাহিদা বেড়ে দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে যায়। ফলে এই চাহিদা মেটাতে হিমশিম খেতে হয় মৎস্য আহরণকারী ও আড়তদারদের। অথচ ভরা মওসুমে এই ইলিশ মাছ বিক্রি করতে হয় পানির দামে। আমাদের দেশে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় মাছ সংরক্ষণাগার বা হিমাগার থাকলে মানুষকে এ ধরনের বিড়ম্বনায় পড়তে হতো না। ভারতে ইলিশ পাচার হচ্ছে স্বীকার করে তিনি বলেন, এটা সরকারের মর্জির ওপর নির্ভর করে। ব্যবসায়ী বা মৎস্য আহরণকারীরা চাইবে বেশি দাম পেতে। যখন দেশের বাইরে তারা কাঙ্ক্ষিত দাম পাবে তারা তো বৈধ হোক বা অবৈধ হোক চেষ্টা করবে সেখানে মাছ পাঠাতে।

বাধা মানছেন না জেলেরা
ইউছুফ আলী মিঠু, কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) থেকে: ১লা মার্চ থেকে ৩০শে এপ্রিল পর্যন্ত মেঘনা নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকলেও মানছেন না লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগরের মেঘনা পাড়ের জেলেরা। জাটকাসহ বিভিন্ন প্রজাতির রেনু পোনা নদী থেকে ধরে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, লক্ষ্মীপুরসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় এবং বিভিন্ন হাটবাজারে। আবার অনেকে গ্রামে গ্রামে গিয়ে বিক্রি করছেন ইলিশ। মেঘনা নদীর চাঁদপুরের ষাটনল থেকে রামগতির আলেকজান্ডার এলাকা- প্রায় একশ’ কিলোমিটার পর্যন্ত ইলিশের অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। এ সময় নদীতে সব ধরনের মাছ শিকার নিষিদ্ধ থাকলেও তারা আইনের তোয়াক্কা করছে না। আসছে ১লা বৈশাখ উপলক্ষে ইলিশ সংরক্ষণের জন্য প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলীয় কিছু লোকজনের সহযোগিতায় দাদনদার, আড়ৎদার ও মাছঘাট ব্যবসায়ীরা জেলেদের মাছ শিকারে বাধ্য করা হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জেলে জানান, ‘আড়ৎদারদের দাদনের দেনা পরিশোধ করতে পারি না  বিধায় তাদের কথাই নদীতে  মাছ ধরতে যাই। দাদনের টাকা পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কথাতো আমাদের শুনতে হবে।’ এদিকে বাঁধা জাল দিয়ে নির্বিঘ্নে চলছে জাটকা নিধন। স্থানীয়রা জানান, কোস্টগার্ড ও মৎস্য বিভাগের প্রতিদিন অভিযান পরিচালনা করার কথা থাকলেও আড়ৎদারদের সঙ্গে আঁতাত করে মাঝে মধ্যে লোক দেখানো অভিযান পরিচালনা করে। চাঁদপুরের ষাটনল থেকে রামগতির আলেকজান্ডার পর্যন্ত মেঘনা নদীর এ একশ’ কিলোমিটার এলাকার পানি লবণাক্ত থাকার কারণে সমুদ্রের নানা প্রজাতির ডিমওয়ালা মাছ এ স্থানে প্রবেশ করে। কিন্তু কিছু সংখ্যক জেলে ও আড়ৎদারদের লোভের কারণে মাছশূন্য হয়ে পড়ছে পদ্মা।

কেজি ১০০০
আব্বাছ হোসেন, লক্ষ্মীপুর থেকে: আর এক সপ্তাহ পর পহেলা বৈশাখ। পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীতে চলছে ইলিশ ধরার মহোৎসব। প্রজনন মওসুমে জাটকা ইলিশ রোধে সরকারের নিষেধাজ্ঞা থাকা শর্তেও দাম বেশি পাওয়ার আশায় জেলেরা কোন নির্দেশ মানছেন না। সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে গভীর রাতে জেলেরা মেঘনা নদীর বিভিন্ন এলাকায় ইলিশ শিকার করে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে পান্তা ইলিশের জন্য দেশব্যাপী চলছে নানা আয়োজন। নববর্ষের ভোরে পান্তা ভাতের সঙ্গে ইলিশ মাছ খেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে মানুষ। কিন্তু ইলিশ সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে। নববর্ষের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই ইলিশের দাম বাড়ছে। মেঘনা পাড়ে এককেজি পরিমাণ ইলিশের মূল্য এখন এক হাজার টাকা। আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনাল এলাকার ১শ’ কিলোমিটার পর্যন্ত মেঘনা নদীর ইলিশের অভয়াশ্রম ঘোষিত এলাকায় ১লা মার্চ-৩০শে এপ্রিল পর্যন্ত দুই মাস সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকলেও জেলেরা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার করছেন। মৎস্য অধিদপ্তর ও কোস্টগার্ড বিভিন্ন সময়ে
নামমাত্র নদীতে অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ কারেন্ট জালসহ ইলিশ মাছ আটক করে। সরজমিন ঘুরে জানা যায়, রামগতি, কমলনগর উপজেলার লুধুয়া, কটোরিয়াঘাট, বাতিরঘাট, কাচিয়াঘাট, চতলারঘাট, তালতলি ও মতিরহাট এবং সদর উপজেলার মজু চৌধুরীর হাট মাছঘাট এলাকার মেঘনা নদীতে জেলেরা কারেন্ট জালসহ বিভিন্ন জাল দিয়ে অবাধে জাটকা ইলিশ নিধন করছেস। মাছগুলো গোপনে জেলার বিভিন্ন বাজারে চড়া দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে। এ ছাড়া গ্রামে গ্রামে ফেরি করে ইলিশ মাছ বিক্রি করা হয়। নাম না প্রকাশে মতিরহাট এলাকার কয়েকজন জেলে জানান, নিষিদ্ধ সময়ে দিনের বেলা তারা মাছ শিকার করেন না। তবে গভীর রাতে নদীতে কোন টহল থাকে না। এ সুযোগে তারা মাঝনদীতে জাল ফেলে মাছ শিকার করে থাকেন। জেলে মাসুদ আলম, আবুল খায়ের মাঝি, মন্তাজ মাঝি, শরীফুল উল্যা মাঝিসহ অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্ষবরণকে সামনে রেখে বেশি দামের আশায় গোপনে নদীতে মাছ শিকার করে থাকেন। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন ছাড়াও আড়তদাররা তাদের কাছ থেকে চড়া দামে ইলিশ কিনে ভিআইপিদের বাসায় উপঢোকন হিসেবে পাঠান। এ কারণে বেশি দাম পাওয়ার আশায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদীতে মাছ ধরতে বাধ্য হন তারা। নববর্ষকে কেন্দ্র করে বাজারে ইলিশের মূল্য আকাশচুম্বী। এ ব্যাপারে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন জানান, ইলিশের বংশবৃদ্ধির লক্ষ্যে মার্চ-এপ্রিল দুই মাস নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ রয়েছে। তার পরও প্রশাসনে চোখ ফাঁকি দিয়ে জেলেরা নদীতে কিছু মাছ শিকার করে থাকেন। প্রতিদিনই নদীতে অভিযান চলছে। অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026