সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪১

শেষ মুহুর্তে ফোন দিয়েছিলেন কো-পাইলট ফারিক

শেষ মুহুর্তে ফোন দিয়েছিলেন কো-পাইলট ফারিক

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: মালয়েশিয়ার নিখোঁজ বিমানের চালকের সহযোগী (কো-পাইলট) যাত্রাপথে তাঁর মুঠোফোন থেকে ফোন করার চেষ্টা চালিয়েছিলেন। রাডার থেকে বিমানটি মিলিয়ে যাওয়ার ঠিক আগে এ চেষ্টা করেন তিনি। নাম প্রকাশ না করে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এমন দাবি করেছেন। সূত্রের বরাতে মালয়েশিয়ার একটি পত্রিকা আজ শনিবার এমন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বলে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে।

রির্পোটে বলা হয়, উড়োজাহাজটি মালয়েশিয়ার পশ্চিম উপকূলের পেনাং দ্বীপের ওপর দিয়ে খুব নিচ দিয়ে উড়ে যায়। এ সময় একটি টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানির টাওয়ার থেকে উড়োজাহাজের ফোন কল রেকর্ড করা হয়, যা কো-পাইলটের বলে রির্পোটে দাবি করা হয়। তবে রির্পোটের বিষয়ে বিস্তারিত খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে মালয়েশীয় পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। যদিও বিমান নিখোঁজের পর পাইলট জাহ‍রি আহমাদ শাহ ও কো-পাইলট ফারিক আব্দুল হামিদ কোনো ধরনের ‘সন্ত্রাসী’ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন কিনা তা খতিয়ে দেখা হয়।

সূত্রের বরাতে মালয়েশিয়ার নিউ স্ট্রেইটস টাইমস জানিয়েছে, কো-পাইলটের করা ওই ফোন কলটি আকস্মিকভাবে শেষ হয়ে গিয়েছিল। কারণ, বিমানটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার হতে খুব দ্রুত বেগে ছুটে চলছিল। প্রতিবেদনটির তথ্য খতিয়ে দেখছে মালয়েশিয়ার সরকার।

মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসের এমএইচ৩৭০ উড়োজাহাজটি ২৩৯ জন আরোহী নিয়ে গত ৮ মার্চ রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়। কুয়ালালামপুর থেকে বেইজিংয়ের উদ্দেশে যাত্রা করার এক ঘণ্টা পরই রাডারের সঙ্গে এর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কৃত্রিম উপগ্রহের (স্যাটেলাইট) মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে মালয়েশিয়ার সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, উড়োজাহাজটি ভারত মহাসাগরের দক্ষিণ অংশে ধ্বংস হয়েছে। দুর্ঘটনাস্থল অস্ট্রেলিয়ার পার্থ শহর থেকে কয়েক হাজার কিলোমিটার পশ্চিমে। মহাসাগরের সংশ্লিষ্ট এলাকায় অনুসন্ধানের কাজে চলছে।

এদিকে, শুক্রবার চীন সফররত টনি অ্যাবোট বলেছিলেন, অস্ট্রেলীয় উদ্ধারকারী দল নিখোঁজ মালয়েশিয়ান উড়োজাহাজটির ব্লাকবক্সের কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে পৌঁছে গেছেন। তবে অল্প সময় পরই তার এ মন্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে অস্ট্রেলীয় অনুসন্ধানকারী দলের প্রধান সাবেক এয়ার চিফ মার্শাল অ্যানগাস হিউস্টোন   এক বিবৃতিতে জানান নিখোঁজ উড়োজাহাজটির ব্লাকবক্স খুঁজে বের করার অভিযানে সাম্প্রতিক সময়ে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। সম্প্রতি পাওয়া সংকেতের সঙ্গে নিখোঁজ উড়োজাহাজের ব্লাক বক্সের কোনো সম্পর্ক নেই।

অবশ্য এর আগে হিউস্টোন বৃহস্পতিবার বলেছিলেন, একটি নৌযান এমন কিছু সংকেত পেয়েছে, যার উৎস প্রাকৃতিক নয়, বরং ফ্লাইট ডাটা রেকর্ডার বা ওই ধরনের কোনো ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রপাতির সঙ্গে এর সাদৃশ্য আছে। এর পরপরই চীন সফররত অ্যাবোট সাংবাদিকদের বলেন, ‘অনুসন্ধানের জন্য সম্ভাব্য এলাকার আয়তন ছোটো হয়ে এসেছে, কারণ আমরা বেশ কিছু সংকেত নিয়মিত ভাবে পাচ্ছি। উদ্ধারকারী দল ব্লাকবক্সের কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে পৌঁছে গেছে’।

৮ মার্চ ২২৭ জন যাত্রী ও ১২ জন ক্রু নিয়ে মালয়েশীয় উড়োজাহাজ (ফ্লাইট এমএইচ৩৭০) মালয়েশিয়া থেকে চীনের উদ্দেশে যাত্রা করার ৪০ মিনিট পর ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এর পর অনেক চেষ্টাতেও উড়োজাহাজটির কোনো ধ্বংসস্তূপ কিংবা ব্ল্যাকবক্স খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া যাত্রীরা বেঁচে আছেন নাকি উড়োজাহাজটি ছিনতাইয়ের কবলে পড়েছিল, সে ব্যাপারেও কেউ নিশ্চিত নন। নিখোঁজের একমাস পরেও অত্যাধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে উড়োজাহাজটির অস্তিত্ব নির্ণয় করা যায়নি।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026