শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ০৮:১৯

ভারতে অনেক রথী-মহারথীর ভাগ্য নির্ধারণ হলো পঞ্চম ধাপের নির্বাচনে

ভারতে অনেক রথী-মহারথীর ভাগ্য নির্ধারণ হলো পঞ্চম ধাপের নির্বাচনে

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: ভারতের লোকসভা নির্বাচনের পঞ্চম পর্বের সবচেয়ে বেশি আসনে ভোট হয়েছে। এই পর্বে সারাদেশে ১২ রাজ্যে ১২১টি আসনে ১৬ কোটি ভোটার ভারতীয় রাজনীতির অনেক রথী মহারথীর ভাগ্য নির্ধারণ করেছেন। এদিনের নির্বাচনে মোট প্রার্থী ছিলেন ১৭৩৯ জন। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের চারটি কেন্দ্রে ৪৭ জন প্রার্থীও ছিলেন।

বৃহস্পতিবার যেসব প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারিত হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবে গৌড়া, কংগ্রেসের জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া, শচীন পাইলট, ইনফোসিসের প্রতিষ্ঠাতা নন্দন নিলেকার্নি, ছত্তিশগড়ের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অজিত যোগী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুশীল কুমার শিন্ধে, বীরাপ্পা মইলি, বিজেপির মানেকা গান্ধী, শত্রুঘ্ন সিনহা, কর্ণাটকের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বি এস ইয়েদুরাপ্পা, শারদ পাওয়ারের কন্যা এনসিপির সুপ্রিয়া সুলে, লালু কন্যা আর জে ডি’র মিসা ভারতী, বিজেপি থেকে বহিষ্কৃত যশবন্ত সিং, তৃণমূল কংগ্রেসের বাইচুং ভুটিয়া প্রমুখ।

তবে গতকালের নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টিকে লড়াই করতে হয়েছে কংগ্রেস ছাড়াও সমাজবাদী পার্টি, বহুজন সমাজ পার্টি, সংযুক্ত জনতা দল থেকে ঝাড়খ- মুক্তি মোর্চার মতো দলের বিরুদ্ধে। বিজেপি রাজস্থান, ছত্তিশগড় ও মধ্যপ্রদেশে ভাল ফল করবে ধরে নেয়া হলেও উত্তর প্রদেশ, মহারাষ্ট্র ও বিহারের ১৬৮টি আসনে বিজেপি কতটা শক্তি সঞ্চয় করতে পারবে তা নিয়েই চলছে রাজনীতিবিদদের মধ্যে চুলচেরা বিশ্লেষণ। আর এই তিন রাজ্যের ভাল শক্তি সঞ্চয়ের ওপরই নির্ভর করছে বিজেপি দু’শ’র ঘর ডিঙাতে পারবে কিনা সে হিসাবটি। মহারাষ্ট্রের মারাঠা এলাকায় কংগ্রেস ও এসসিপির দুর্গে বিজেপি আদৌ প্রবেশ করতে সফল হবে কিনা তা-ও এদিন নির্ধারিত হয়ে গিয়েছে। বিহারের মধ্যাঞ্চলের আসনগুলোতে নীতিশকুমারের আধিপত্য থাকলেও এবার তার দলকে দুই প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হয়েছে।

একদিকে আরজেডি-কংগ্রেস জোট অন্যদিকে বিজেপি-লোকজনশক্তির জোট। তবে বিহারে বিজেপি জোট ২০টির মতো আসন দখল করার লক্ষ্যেই ঝাঁপ দিয়েছে। মোদি পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর প্রতিনিধি হওয়ায় বিজেপি অনেকটাই লাভবান হবে। মুসলিম ও উচ্চ বর্ণের ভোট আরজেডি-কংগ্রেস জোটের দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় নীতিশকুমারের দলের আসন সংখ্যা এবার অনেক কমে যাবে বলে ধরে নেয়া হয়েছে। আর উত্তর প্রদেশে সমাজবাদী পার্টি ও বহুজন সমাজ পার্টির ভোট ভাগাভাগির সুযোগ নিয়ে বিজেপি গতবারের আসন সংখ্যা ১০ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করতে চেয়েছে। তবে উত্তর প্রদেশের ৫০ শতাংশ আসনে মুসলিম ভোটাররা বড় ফ্যাক্টর। এই ভোট এবার বহুজন সমাজ পার্টির দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা।

এছাড়া দলিত ভোটের একচেটিয়া হকদার বহুজন সমাজ পার্টি। ফলে উত্তর প্রদেশের হিন্দু ভোটের নিরিখে বিজেপি তাদের সাফল্য কতটা নিশ্চিত করতে পারবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তবে ওড়িশার আদিবাসী অধ্যুষিত যে এলাকায় গতকাল ভোট হয়েছে সেখানে বিজেপি প্রভূত শক্তি সঞ্চয় করেছে। তার কতটা ভোটের বাক্সে প্রতিফলিত হয় সেটাই দেখার বিষয়। মধ্যপ্রদেশে কংগ্রেসকে জ্যোতিরাদিত্যর আসনটি নিয়েই খুশি থাকতে হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই রাজ্যে বিজেপিই  বেশির ভাগ আসন পাবে। ঝাড়খ-ে ভোট ভাগাভাগির সুযোগ নেয়ার অপেক্ষায় রয়েছে বিজেপি। তবে কর্ণাটকে হারানো জমি উদ্ধার করা যে বিজেপির পক্ষে কঠিন তা দলের শীর্ষ নেতারাও বুঝে গিয়েছেন। বরং এই রাজ্যে কংগ্রেসের ভাল ফল করার সম্ভাবনা রয়েছে।

পররাষ্ট্র নীতি নিয়ে সুর বদল মোদির
নির্বাচনী প্রচারে চীন ও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কড়া আওয়াজ তুললেও তিনি যে বাস্তবে পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে মোটেই আগ্রাসী বা সংঘর্ষের মতো কোন মনোভাব নিয়ে চলবেন না তা অবশেষে জানিয়েছেন মোদি। ইতিমধ্যে জনমত জরিপে জানানো হয়েছে যে, নরেন্দ্র মোদিই ভারতের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন। এক সংবাদ এজেন্সির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে মোদি বলেছেন, আমেরিকার তাকে ভিসা না দেয়ার বিষয়টি দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোন প্রভাব ফেলবে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১২ বছর আগের গুজরাট দাঙ্গার পরিপ্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ভিসা দিতে অস্বীকার করেছে।

অবশ্য মার্কিন প্রশাসনের নির্দেশে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন দূত ন্যান্সি পাওয়েল  নির্বাচনের আগেই মোদির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের মাঝপথে এসে বিজেপির এই প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী সাফ জানিয়েছেন, একটি দেশের সম্পর্ক কোন একজন ব্যাক্তির সঙ্গে কি ঘটলো বা ঘটেছিল তার ওপর মোটেই নির্ভর করে না। পাকিস্তানের সঙ্গে তিনি সংঘর্ষের নীতি নিয়ে চলবেন বলে যে কথা বলা হচ্ছে তা যে ঠিক নয় সে কথা জানিয়ে মোদি বলেছেন, ভারতের পররাষ্ট্র নীতি সংঘর্ষের পথে চলবে না। আমরা সবার সঙ্গে সম্মান নিয়ে থাকতে চাই।

আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় তিনি পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নেবেন বলে যে কথা লেখা হচ্ছে তার তীব্র সমালোচনা করে মোদি বলেন, ভারতের পররাষ্ট্র নীতি নিয়ে যে কখনও কাজ করেনি এমন একজন ব্যক্তি সম্পর্কে এই পর্যবেক্ষণ কিভাবে দেয়া সম্ভব? তবে নির্বাচনী জনসভায় তিনি প্রতিবেশীদের সম্পর্কে যে হুঙ্কার দিয়েছেন সে বিষয়ে অবশ্য সাক্ষাৎকারে কিছু বলেননি।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026