শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: চূড়ান্ত নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে জীবন রক্ষা পেয়েছে ইরানের মৃত্যুদ-প্রাপ্ত খুনি বালালের। ছুরিকাঘাতে যাকে খুন করেছিলেন ৭ বছর আগে তারই মা ফাঁসি কার্যকর হওয়ার শেষ মুহূর্তে তাকে ক্ষমা করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। চোখ বেঁধে গলায় ফাঁসির দড়ি পরানো হয় বালালকে। মৃতের বাবা-মা বালালের পায়ের নিচের চেয়ার ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেবে- শুধু এতটুকুই বাকি ছিল। কিন্তু সেটা না করে নজিরবিহীন ক্ষমার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ওই মা। তিন দিন আগে মৃত ছেলেকে স্বপ্নে দেখেছেন তিনি।
ছেলে তাকে জানিয়েছে, তারা খুব ভাল আছে, তার বাবা-মা যেন প্রতিহিংসাপরায়ণ না হয়। আর তাই চেয়ার সরিয়ে দেয়ার পরিবর্তে নিজ ছেলের খুনির কাছে যেয়ে প্রথমে তাকে থাপ্পড় মারেন। পরমুহূর্তেই ক্ষমা করে দেন। শুধু তাই নয়, মৃতের বাবা-মা তারপর ফাঁসির দড়িও খুলে দেন। বালালের মা আনন্দ অশ্রু নিয়ে দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরেন শোকে মুহ্যমান ছেলে হারানো ওই মাকে। মৃতের পিতা আবদুল গনি হোসেইনজাদেহ তার স্ত্রীর স্বপ্নের বিষয়টি জানান। ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ইসনা’র বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে বৃটেনের গার্ডিয়ান ও ডেইলি মেইল।
তিনি জানান, তিন দিন আগে আমার বড় ছেলেকে স্বপ্নে দেখেন তার স্ত্রী। ছেলের অনুরোধে তার স্ত্রী অনেকটা শান্ত হয়ে যান। পরে মৃত্যুদ- কার্যকর হওয়ার দিন পর্যন্ত তারা বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করেন। তিনি আরও বলেন, তার স্ত্রীর ক্ষমা করে দেয়ার সিদ্ধান্ত অনেক বেশি অনন্যসাধারণ। কেননা, তারা এর আগে আরও একটি সন্তানকে হারিয়েছেন। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ওই ছেলের বয়স ছিল মাত্র ১১। ৭ বছর আগে তাদের বড় ছেলে আবদুল্লাহ হোসেইনজাদেহ জুনিয়রের বয়স যখন ১৮ তখন রয়্যান শহরে রাস্তার ওপর এক সংঘর্ষে বেলাল তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। বিশ্বের যে সব দেশগুলোতে সব থেকে বেশি মৃত্যুদ- কার্যকর হয়ে থাকে তার মধ্যে ইরান অন্যতম।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী ২০১৩ সালে কমপক্ষে ৩৬৯ জনের মৃত্যুদ- কার্যকর হয়েছে ইরানে। এবছর ইতিমধ্যে ১০০টির মতো মৃত্যুদ- কার্যকর হয়েছে বলে সংস্থাটি জানায়। তবে বালালের ক্ষেত্রে আবদুল গনি বিশ্বাস মনে করেন তার ছেলেকে হত্যার উদ্দেশ্য ছিল না তার। ইরানে প্রচলিত শরিয়াহ আইন অনুযায়ী মৃতের পরিবার আসামির মৃত্যুদ- কার্যকর হওয়ার সময় উপস্থিত থাকবে। ক্ষমা করে দেয়ার এখতিয়ারও পরিবারের রয়েছে। যার বদৌলতে শেষ মুহূর্তে প্রাণভিক্ষা পেয়েছেন বালাল। তবে এখনই মুক্তি পাচ্ছে না সে। কেননা, ক্ষমা করে দেয়ার এখতিয়ার পরিবারের থাকলেও, কারাদ- বহাল থাকবে কিনা সে সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রের।