বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৫

স্বামীকে কিডনি যৌতুক দিয়েও মরতে হলো পুনমকে

স্বামীকে কিডনি যৌতুক দিয়েও মরতে হলো পুনমকে

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: শাশুড়ি শর্ত দিয়েছিলেন অসুস্থ স্বামীকে কিডনি দিলে আর যৌতুকের জন্য চাপ দেবেন না। তাই ২৮ বছরের পুনম দেবী তাঁর কিডনি স্বামীকে দিয়ে দেন। ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের হাজারীবাগে এ ঘটনা ঘটেছে।

কিন্তু নিজের শরীরের একটি অংশ যৌতুক হিসেবে দেওয়ার পরও পুনমের ওপর অত্যাচার বন্ধ হয়নি। বন্ধ হয়নি যৌতুকের চাপ। স্বামী ও শাশুড়ির নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে দুই সন্তানের মা পুনম দেবী নিজের গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। গত মঙ্গলবার রাঁচির একটি হাসপাতালে মারা যান তিনি। পুলিশ পুনমের শাশুড়িকে ধরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। হাজারীবাগের পুলিশ সুপার মানোজ কৌশিক বলেছেন, এ ব্যাপারে তাঁরা দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন।

টিএনএনে প্রকাশিত খবরে জানানো হয়েছে, হাজারীবাগ থানায় পুনম দেবীর বাবা বরহান ভারতী অভিযোগ (এফআইআর) করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০০৬ সালে সুদামা গিরির সঙ্গে পুনম দেবীর বিয়ে হয়। বিয়েতে বরহান ভারতীর কাছ থেকে এক লাখ ৩০ হাজার রুপি যৌতুক নেন পুনমের শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। কিন্তু পরে তাঁরা আরও যৌতুক চান। যৌতুকের জন্য পুনমকে নানাভাবে নির্যাতন করতে থাকেন শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। ছয় মাস আগে পুনমের স্বামী সুদামা গিরি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁর দুটি কিডনিই নষ্ট হয়ে যায়।

শাশুড়ি এ সময় পুনমকে বলেন, স্বামীকে কিডনি দিলে তাঁকে আর যৌতুকের জন্য চাপ দেবেন না। অত্যাচারও বন্ধ হবে। লিখিতভাবে পুনমের সঙ্গে এই চুক্তি করেন শাশুড়ি। পুনম এতে রাজি হন। নিজের শরীরের একটি অংশ যৌতুক হিসেবে দেন পুনম। স্বামী সুস্থ হয়ে যান। কিন্তু শাশুড়ি কথা রাখেননি। চলতে থাকে অত্যাচার ও নির্যাতন। অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে ১৬ এপ্রিল পুনম দেবী শরীরে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। শরীরের অনেকাংশই পুড়ে যায় তাঁর। রাঁচিতে পুনমকে একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবশেষে মারা যান পুনম। গতকাল বুধবার তাঁর মরদেহ হাজারীবাগে নেওয়া হয়।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026