মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১২

গাজায় ফের হামলা: নিহতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়েছে

গাজায় ফের হামলা: নিহতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়েছে

আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: ফিলিস্তিন-শাসিত গাজায় ইসরায়েলের হামলা আজ বুধবার নবম দিনে গড়িয়েছে। এই হামলায় এখন পর্যন্ত ২০২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে দেড় সহস্রাধিক। অপরদিকে এই প্রথম একজন ইসরায়েলি নিহত হওয়ার দাবি করেছে তেল আবিব। বার্তা সংস্থা এএফপি প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, গতকাল মঙ্গলবার মিসরের দেওয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব ইসরায়েল গ্রহণ করলেও হামাস তা প্রত্যাখ্যান করে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে মাত্র ছয় ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির পর গতকাল দুপুরের পর গাজা উপত্যকায় আবারও বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল। পূর্ব ও উত্তর গাজা থেকে আজ সকালের মধ্যে ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েল। আজ সকালে গাজায় বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছে। হামলা আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে তেল আবিব। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, যখন কোনো যুদ্ধবিরতি নেই, আমাদের জবাব হামলা। গাজায় ইসরায়েলি হামলায় হতাহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই নিরীহ নারী-পুরুষ ও শিশু।

এদিকে গতকাল ইসরায়েল দাবি করেছে, গাজা থেকে ছোড়া রকেট হামলায় এক ইসরায়েলি নিহত হয়েছে। চলমান সংঘাতে এই প্রথম কোনো ইসরায়েলি নিহত হলো। এ ছাড়া এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের পক্ষে মাত্র চারজন নাগরিক আহত হয়েছে। গাজায় ইসরায়েলের টানা আট দিনের প্রায় একতরফা সামরিক অভিযানের পর মিসর যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব করে। গতকাল স্থানীয় সময় সকাল নয়টা থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।

ইসরায়েল সরকার বেঁধে দেওয়া সময়ের সামান্য আগে প্রস্তাবটি অনুমোদন করে হামলা বন্ধ করে। পাশাপাশি হুঁশিয়ারি দেয়, হামাস যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব গ্রহণ না করলে তার জবাব হবে কঠিন। প্রয়োজনে সামরিক অভিযানের আওতা বাড়ানো হবে। হামাস এই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নাকচ করে বলেছে, তাদের সঙ্গে আলোচনা না করেই এ প্রস্তাব আনা হয়েছে। এটি তাদের জন্য আত্মসমর্পণের সমতুল্য। হামাস পূর্ণাঙ্গ কোনো চুক্তি ছাড়া রকেট হামলা বন্ধ করবে না। এই অবস্থায় গতকাল বেলা তিনটার দিকে ইসরায়েল আবার বিমান হামলা চালানো শুরু করে।

ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইসরায়েলের সর্বশেষ হামলার সূত্রপাত ইসরায়েলি তিন কিশোরকে সম্প্রতি অপহরণ ও হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। হামাসই ওই ঘটনা ঘটায় বলে মনে করে ইসরায়েল। তবে হামাস তা অস্বীকার করে। পরে ফিলিস্তিনি এক কিশোরকে একইভাবে হত্যা ও অপহরণের পর উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়। এরপর গাজা থেকে রকেট ছোড়া হচ্ছে—এমন দাবি তুলে অপারেশন প্রটেক্টিভ এজ শুরু করে ইসরায়েল।

মিসরের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব ভেস্তে যাওয়ায় গতকাল মঙ্গলবার দুপুরের পর গাজা উপত্যকায় আবারও বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল। ছবি: রয়টার্সএর আগে ২০১২ সালের নভেম্বরে গাজায় অভিযান চালায় ইসরায়েল। তখন আট দিনের মাথায় মিসরের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইহুদিদের জন্য ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবিতে ফিলিস্তিনিদের সংগ্রামের শুরু। এর পর থেকে নিয়মিত রক্ত ঝরলেও আজও তাদের সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। রাষ্ট্র হিসেবে ফিলিস্তিনের স্বাধীন সত্তা মেনে নিতে রাজি নয় ইসরায়েল।

ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে ফিলিস্তিনের দুই অংশ পশ্চিম তীর ও গাজা ২০০৭ সালের আগস্টে চলে যায় দুটি দলের নিয়ন্ত্রণে। সেই থেকে মাহমুদ আব্বাসের নেতৃত্বে ফাতাহ পশ্চিম তীরে ও খালেদ মেশালের নেতৃত্বে হামাস গাজা শাসন করছিল। এই অবস্থায় গত এপ্রিলে দুই দলের মধ্যে একটি চুক্তি হয়। সে অনুযায়ী নতুন করে নির্বাচনের পর চলতি বছরের শেষ নাগাদ একটি জাতীয় সরকার গঠনের কথা। কিন্তু হামাস-ফাতাহর চুক্তিকে ভালোভাবে নেয়নি ইসরায়েল। তাদের মতে, হামাস একটি জঙ্গি সংগঠন। হামাস-ফাতাহ জাতীয় ঐক্যের সরকার হলে সেই সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় যাবে না বলে জানিয়ে দেয় ইসরায়েল।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026