নিউজ ডেস্ক: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় চাল পরিবহন শুরু হয়েছে। পাঁচ হাজার মেট্রিক টন চাল পরিবহনের প্রথম দিনে তিনটি কাভার্ড ভ্যানে মোট ৫১ টন চাল পরিবহন করা হয়। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে চাল পরিবহন শুরু হয়। আগরতলার কাস্টমস অফিসার দেবেন চক্রবর্তী বাংলাদেশের কাস্টমস অফিসার লুৎফুর রহমানের কাছ থেকে চাল সংক্রান্ত কাগজ পত্র বুঝে নেন।
এর আগে পাঁচ হাজার মেট্রিক টন ভারতীয় চাল নিয়ে পাঁচটি জাহাজ মঙ্গলবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ নৌবন্দরে এসে পৌঁছায়। নৌপ্রটোকল চুক্তির আওতায় ‘বিশেষ মানবিক কারণে’ বাংলাদেশের ওপর দিয়ে এ চাল পরিবহনে ভারতকে কোনো শুল্ক বা ব্যাংক গ্যারান্টি দিতে হচ্ছে না।
তবে বন্দরের ল্যান্ডিং সার্ভিস চার্জ বাবদ পাওয়া যাবে এক লাখ ৬৫ হাজার টাকা। আশুগঞ্জ থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে আগরতলা পর্যন্ত চাল পরিবহন করে কাভার্ড ভ্যান ভাড়া বাবদ পাওয়া যাবে মোট ৩৫ লাখ টাকা। মেরামতের কারণে সড়ক ও রেলপথ বন্ধ থাকা এবং দূরত্ব কম ও সময় বাঁচানোর কথা মাথায় রেখে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে কলকাতা থেকে আগরতলায় চাল পরিবহনের চিন্তা করে ভারত সরকার। মোট ১০ হাজার মেট্রিক টন চাল পরিবহনের সম্মতি দেয় বাংলাদেশ। এরই আওতায় নৌপথে আশুগঞ্জ এসে সড়ক পথে আগরতলায় নেওয়ার জন্য প্রথমে পাঁচ হাজার মেট্রিকটন চাল এল।
চাল পরিবহন করা বাংলাদেশি কাভার্ড ভ্যান সরাসরি ভারতে প্রবেশ করে। আখাউড়া স্থলবন্দর থেকে একজন করে বিএসএফ জোয়ান প্রতিটি ভ্যানের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকে। চাল যেন দ্রুত খালাস করা যায় সেজন্য এরইমধ্যেই সেখানে অতিরিক্ত শ্রমিকের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সড়ক পথে চাল পরিবহনের দায়িত্ব পাওয়া কবির হোসেন বলেন, আকাশের অবস্থা চিন্তা করে ট্রাকের বদলে কাভার্ড ভ্যানে করে আশুগঞ্জ থেকে আগরতলায় চাল পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। একেকটি কাভার্ড ভ্যানে করে ১৭ টন চাল পরিবহন করা হবে। প্রতিটন চাল পরিবহনে সাতশ’ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে।
আশুগঞ্জ স্থলবন্দরের পরিবহন পরিদর্শক শাহ আলম বাংলানিউজকে জানান, পাঁচটি জাহাজ ৫ হাজার মেট্রিক টন চাল নিয়ে আশুগঞ্জ নৌবন্দরে এসে পৌঁছায়। বুধবার জাহাজ থেকে চাল নামানো শুরু হয়। ল্যান্ডিং সার্ভিস চার্জ হিসেবে প্রতিটন চালের বিপরীতে ৩৩ টাকা করে নেওয়া হবে। চাল পরিবহনকারি গালফ্ সিওয়েজ ওরিয়েন্টেড লিমিটেডের লজিস্টিক ম্যানেজার নুরুজ্জামান বাংলানিউজকে জানান, আশুগঞ্জ থেকে সড়ক পথে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে চাল নেওয়া শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার তিনটি কাভার্ড ভ্যানে করে চাল যায়। তবে পরবর্তীতে এক দিনে আরও বেশি পরিমাণ চাল পৌঁছানো হবে। সাড়ে তিনশ’ ট্রাকে অন্তত ১০-১২ দিন লাগবে চাল পরিবহনে।
জানা গেছে, কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি, শিলং হয়ে সড়ক পথে আগরতলার দূরত্ব ১৬৫০ কিলোমিটার। অন্যদিকে কলকাতা থেকে জলপথে আশুগঞ্জের দূরত্ব মাত্র প্রায় চারশ’ কিলোমিটার। সড়ক পথে আশুগঞ্জ থেকে আখাউড়ার দূরত্ব প্রায় ৬০ কিলোমিটার। যে কারণে পরিবহন খরচ ও সময় বাঁচাতে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে চাল পরিবহনের সিদ্ধান্ত নেয় ভারত।
এর আগে ত্রিপুরার পালাটানা বিদুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য বাংলাদেশের ওপর দিয়ে যন্ত্রপাতি পরিবহন করে ভারত। ওই সময়ও কোনো শুল্ক দেওয়া হয় নি। ওই অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ পালাটানা থেকে বাংলাদেশকে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিতে রাজি হয়েছে ভারত।
সূত্র: বাংলানিউজ২৪