বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:১১

ঢাকার বাইরে বস্তিবাসীর জন্য ৭৫০০ বাসস্থান হচ্ছে

ঢাকার বাইরে বস্তিবাসীর জন্য ৭৫০০ বাসস্থান হচ্ছে

তাবারুল হক: ঢাকামুখি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর চাপ কমাতে এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের লক্ষে দেশের পাঁচটি শহরে (সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভা) সাড়ে ৭ হাজার পরিবারের বাসস্থান নির্মাণের একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্পের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) এম কামাল উদ্দিন তালুকদার।

তিনি বাংলানিউজকে বলেন, বস্তিতে বসবাসরত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ‘প্রো-পুওর স্লাম ইন্টিগ্রেশন প্রজেক্ট’ (পিপিএসআইপি) বাস্তবায়নে বিশ্বব্যাংক ৮ কোটি মার্কিন ডলার অর্থায়ন করবে। এই প্রকল্পের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বিশ্বব্যাংকের গভর্নিং বডির সভায় প্রকল্পটি পাশ হবে বলে আশা প্রকাশ করে কামাল উদ্দিন তালুকদার বলেন, এরপর থেকেই পিপিএসআইপি প্রকল্পের দৃশ্যমান কাজ শুরু হরা হবে।

প্রকল্পের উপ-পরিচালক ফজলুল কবির বাংলানিউজকে জানান, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন, বরিশাল সিটি কর্পোরেশন, সিরাজগঞ্জ পৌরসভা ও দিনাজপুর পৌরসভার প্রতিটিতে ৫টি করে মোট ২৫টি বসতিতে কমিউনিটি-নির্ভর এসব বাসস্থান নির্মাণ করা হবে। এই ২৫টি কমিউনিটি বসতির প্রত্যেকটিতে ৩০০টি করে মোট ৭,৫০০টি পরিবারের বাসস্থান নির্মাণের জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

এই পরিকল্পনার প্রকল্প এলাকায় রাস্তা, ড্রেন নির্মাণ, বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস সরবরাহসহ প্রয়োজনীয় সকল সুযোগ সুবিধা দিয়ে  দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সহযোগিতার জন্য বিশ্বব্যাংক আইডিএ ফান্ড থেকে অনুদান দেবে বলে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ-সূত্রে জানিয়েছে। প্রস্তাবিত এই প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্দেশ্য মনোনীত শহরগুলোর বস্তি এলাকায় বসবাসরত অসহায় জনগোষ্ঠীর জন্য উন্নত, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী মূল্যের আশ্রয়ের/আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে।

এছাড়া গরীব ও দরিদ্রদের ঘরবাড়ি উন্নয়নের জন্য বিশ্বব্যাংক ঋণ সহযোগিতা করবে। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ওই সকল কমিউনিটি বসতির নিরাপত্তা বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন ও ঋণ সুবিধার মাধ্যমে জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও দারিদ্র বিমোচনকে এই প্রকল্প বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশের শহরাঞ্চলের ৪ কোটি দরিদ্র মানুষের প্রায় ৬২ শতাংশই বস্তিতে ও বিধি-বহির্ভূতভাবে বসবাস করে থাকে। বিশাল এ জনগোষ্ঠী বরাবরই যাবতীয় ভৌত অবকাঠামো সুবিধার বাইরে জীবনযাপন করে থাকে। এছাড়া মৌলিক সেবা ও সামাজিক সেবা থেকেও এরা বঞ্চিত।

আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে বস্তিবাসীর জীবনমান উন্নয়ন ছাড়া জাতিসংঘের সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব না বলে মনে করে সরকার। প্রকল্প পরিচালক বলেন, পিপিএসআইপি প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো শুধু আবাসন প্রকল্পে সীমাবদ্ধ না থেকে একটি টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তাদের জীবনযাত্রা গতিশীল রাখা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রার সুযোগ নিশ্চিত  করা।

এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের পরিবেশগত গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা যেমন, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন – ১৯৯৫, পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা- ১৯৯৭ ও বিশ্বব্যাংকের অপারেশনাল পলিসি (ওপি- ৪.০১: এনভায়রনমেন্টাল এসেসমেন্ট) বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনার মাধ্যমে পরিবেশ ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা তৈরি করা হয়েছে।

জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ থেকে জানা যায়, প্রকল্প এলাকা হিসাবে কুমিল্লা শহরের রবিদাসপাড়া, মফিজাবাদ কলোনি, গোদারমার বস্তি, ডালাস হাউজ ও বউবাজার এলাকার ছয়টি সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রাথমিক জরিপ করা হয়। এছাড়া, নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা শহরের আরো তিনটি বস্তি ঋষিপাড়া, সিটি কলোনি ও টিক্কার চর পরিদর্শন করা হয়।

বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, প্রতিবছর প্রায় ১০ লাখ মানুষ নগর ও শহরে প্রবেশ করছে। যদিও নগর ও শহরে মানুষের প্রবেশের অব্যাহত চাপ ধারণের সক্ষমতা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নেই। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের ৯টি উন্নয়ন প্রকল্পে আগামী নভেম্বর-মার্চের মধ্যে প্রায় দুই হাজার ৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়ন অনুমোদন করবে। প্রো-পুওর স্লাম ইন্টিগ্রেশন প্রজেক্টটি এসবের একটি।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2025