শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: লিবিয়ায় সাত দিনে দু’বার গোপন বিমান হামলা চালিয়েছে মিশর ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। মার্কিন চার সিনিয়র কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ত্রিপোলির নিয়ন্ত্রণ নিতে যুদ্ধরত মিলিশিয়াদের ওপর বিমান হামলা চালায় আরব দেশ দুটি। তবে গোপন এ অভিযানের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কোন কিছুই জানানো হয় নি। আর তাতে মার্কিন পক্ষ বিস্মিত হয়েছে বলে জানান ওই কর্মকর্তারা। এ খবর দিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস।
কর্মকর্তারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও সামরিক অংশীদার মিশর ও আমিরাত ওয়াশিংটনকে কোন কিছু অবহিত না করেই পদক্ষেপ নিয়েছে। মিশরের কর্মকর্তারা মার্কিন কূটনীতিকদের কাছে অস্বীকার করে বলেছেন, ওই অভিযানে তাদের সামরিক বাহিনী কোন ভূমিকা পালন করেনি। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইতিমধ্যে ওয়াশিংটন ও কায়রোর মধ্যকার সম্পর্কে সৃষ্ট টানাপড়েনে এটা এক নতুন আঘাত। গত বছর মিশরের প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে সামরিক উৎখাতের পর সেখানকার নতুন সরকার ও সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতে তাদের সমর্থক গোষ্ঠী পুরো অঞ্চল জুড়ে ব্যাপক প্রচারণা শুরু করেছে।
সংবাদ মাধ্যম, রাজনীতি, কূটনীতি থেকে শুরু করে স্থানীয় প্রতিনিধি গ্রুপগুলোকে অস্ত্র দেয়ার মাধ্যমে চলছে এসব প্রচারণা। মুসলিম ব্রাদারহুডের মতো ইসলামপন্থি দলগুলোকে তারা তাদের কর্তৃত্বের ওপর হুমকি হিসেবে দেখে। এদিকে তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্র তুরস্ক ও কাতার। তারা সমর্থন দিচ্ছে ইসলামপন্থিদের।
লিবিয়ার গোপন হামলার বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা বলেন, মিশরীয় আর আমিরাতিরা একত্র হয়ে লিবিয়ার মধ্যে ইসলামী টার্গেটের বিরুদ্ধে এর আগে অন্তত একবার হামলা চালিয়েছিল। বিশেষ বাহিনীর একাধিক দল অভিযান পরিচালনা করে। সম্ভবত প্রধানত আমিরাতিদের নিয়ে গঠিত হয় ওই দল। তারা পূর্ব লিবিয়ার দেরনা শহরের নিকটবর্তী একটি ইসলামপন্থি ক্যাম্প সফলভাবে ধ্বংস করে। লিবিয়ার বিমান হামলা নিয়ে মার্কিন কূটনীতিকরা ক্ষুব্ধ। তারা আশঙ্কা করছেন এই হস্তক্ষেপ লিবিয়ার সহিংসতা আরও উস্কে দিতে পারে।
কাতার সরকার ইতিমধ্যে লিবিয়ার ইসলামপন্থি বাহিনীগুলো অস্ত্র ও সমর্থন দিয়েছে। এ কারণে কর্মকর্তারা মনে করছেন, বিদ্রোহী দলগুলোর মধ্যে লড়াইয়ের পটপরিবর্তন হয়ে দেশগুলোর সরাসরি সম্পৃক্ত হবার সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি এটা অস্ত্র প্রতিযোগিতার সূত্রপাত ঘটাতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এখন পর্যন্ত হামলা ফলপ্রসূ হয় নি। হামলা সত্ত্বেও ত্রিপোলির নিয়ন্ত্রণ নিতে যুদ্ধরত ইসলামপন্থি মিলিশিয়ারা সফলভাবে প্রধান বিমানবন্দরের দখল নিয়েছে। তাদের ওপর দ্বিতীয় দফা হামলা চালানোর কয়েক ঘণ্টা পর তারা বিমানবন্দরটির দখল নেয়।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সাবেক মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ ও কার্নেগি এনডাওমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস-এর সিনিয়র এসোসিয়েট মাশেল ডিউন বলেন, সিরিয়া, ইরাক, গাজা, লিবিয়া এমনকি মিশরের পরিস্থিতির আলোকে- একদিকে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত আর অপরদিকে কাতার ও তুরস্ক; এই আঞ্চলিক মেরুকরণ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্কটগুলো নিরসনে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় বিরাট প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোববার মিশরের প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাত্তাহ এল সিসি লিবিয়ায় অভিযানের বিষয়টি অস্বীকার করেন।
তিনি বলেন, লিবিয়ায় কোন মিশরীয় বিমান বা বাহিনী নেই আর লিবিয়ার অভ্যন্তরে সামরিক পদক্ষেপে কোন মিশরীয় বিমান অংশগ্রহণ করেনি। কর্মকর্তারা বলছেন অভিযানে যুদ্ধবিমান, পাইলট সরবরাহ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোন সরাসরি মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সোমবার আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্রে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আনওয়ার গারগাশের একটি বিবৃতি প্রকাশিত হয়।
এতে তিনি বলেন, অভিযানে আমিরাতের ভূমিকা রয়েছে এমন দাবি করা হচ্ছে লিবিয়ানদের স্থিতিশীলতার আকাঙ্ক্ষা ও ইসলামীদের প্রত্যাখ্যান করার বিষয় থেকে মনোযোগ সরানোর জন্য। এসব অভিযোগ একটি গ্রুপ থেকে আসছে যারা ধর্মের চাদর ব্যবহার করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে চায়। তিনি আরও বলেন, মানুষ তাদের মিথ্যা আর ব্যর্থতা সম্পর্কে এখন অবগত।