
ইমরান আলী: রাজধানীতে মাদক ও স্বর্ণ পাচারের নিরাপদ ও নতুন রুট হচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল রুট। বিশেষ করে ইয়াবা ও স্বর্ণ পাচারের নিরাপদ রুট হিসেবে এ রেল রুটকে ব্যবহার করছে চোরাকারবারীরা। কমলাপুর রেলস্টেশনে কঠোর নজরদারী না থাকায় চোরাকারবারীরা চট্টগ্রাম থেকে ইয়াবা ও স্বর্ণ রেলপথ ব্যবহার করে কমলাপুর নিয়ে আসছেন। এরপর সেখান থেকেই তারা নিজেদের গন্তব্যে নিয়ে যান।
চোরাই পথে কমলাপুর আসা সে স্বর্ণ মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশ থেকে চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দর ব্যবহার করে পরে রেলপথে ঢাকায় আনা হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কমলাপুর থেকে ইয়াবা ও স্বর্ণ উদ্ধারের প্রবণতাই চোরাকারবারীরা যে রেলপথ ব্যবহার করছে তার প্রমাণ।
সম্প্রতি সময়ে কমলাপুর রেলস্টেশনে বিপুল পরিমান ইয়াবা, ফেনসিডিল ও স্বর্ণ চালান ধরা পড়ছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা মনে করছেন, সড়ক পথে বিভিন্ন স্থানে পুলিশ চেকপোষ্ট বসিয়ে তল্লাশি চালায়। আর এতে করে ধরা পড়ার ভয়ে তারা রেলপথকে বেছে নিয়েছে। রেলপথে কঠোর নজরদারী না থাকার কারণেই চোরাকারবারীরা এই পথকে বেছে নিয়ে মাদক দ্রব্য ও স্বর্ণ পাচার করে আসছে।
জিআরপি কমলাপুর থানার পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত প্রায় এক মাসে ১০ হাজারের বেশি ইয়াবা ট্যাবেলট উদ্ধার করা হয়েছে। এ সকল ঘটনায় ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া কয়েকটি স্বর্ণের চালানও আটক করা হয়েছে।
রোববার দু’দফায় দুটি চালান আটক করা হয়। প্রথমে চালানে ৮৭০ পিস ইয়বাসহ এক নারী ও পরে ৭৯০ পিস ইয়বাসাসহ আরেক যুবককে আটক করা হয়। ২৯ আগষ্ট ১ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয় একজনকে। ২৭ আগস্ট ফেনসিডিলসহ এক যুবককে আটক করা হয়। এছাড়াও প্রায়ই ছোট বড় স্বর্ণের চালানও আটক হচ্ছে। জুলাই মাসে একদিনেই দু’টি স্বর্ণের চালান আটক করা হয়। সোমবার সকালে ১০ টি স্বর্ণের বারসহ একজনকে আটক করা হয়।
আর এসব চালান আসে চট্টগ্রাম থেকে। মূলত মায়ানমার থেকে ইয়াবা পাচার হয়ে আসে চট্টগ্রামে। আর সেখান থেকেই রাজধানীতে চলে আসে। আর রাজধানীতে প্রবেশের অন্যতম নতুন রুট হিসেবে রেলপথকে ব্যবহার করা হচ্ছে।
রেলওয়ে জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মজিদ বাংলানিউজকে বলেন, চোরাকারবারীরা যদি এই পথকে ব্যবহার না করতো তাহলে ধরা পড়তো না। তারা হয়তো ভাবতে পারে এই পথে পাচার সহজ, সে কারণে তারা এই পথ ব্যবহার করতে পারে।
তিনি বলেন, আমাদের সচেতনতার কারণে আমরা মাদক পাচারকারী, স্বর্ণ পাচারকারীদের গ্রেফতারে সমর্থ হই। তিনি বলেন, আগের যে কোনো সময়ের চাইতে কমলাপুর রেলষ্টেশন এলাকায় পুলিশি নজরদারী বাড়ানো হয়েছে। যার কারণে মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়েছে।
এদিকে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, সড়কপথে মাদক কিংবা স্বর্ণ চোরাচালান অনেকটা কঠিন। সড়কপথে বিভিন্ন স্থানে পুলিশের তল্লাশি হয়। এ ছাড়াও বাস টার্মিনালগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারী থাকে। বিশেষ করে রাজধানীর বাস টার্মিনালগুলো আরো বেশি গোয়েন্দা নজরদারীর মধ্যে থাকে। থানা পুলিশের পাশাপাশি ৠাব ও গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা সাদা পোশাকে সার্বক্ষণিক নজরদারীর মধ্যে রাখেন টার্মিনালগুলো। সেই দিক দিয়ে রেলপথ সহজ। ট্রেনের উঠার পর নামা পর্যন্ত যাত্রীকে তেমন পুলিশের তল্লাশির মুখোমুখি হতে হয় না। যাত্রী ট্রেন থেকে নামার পর শুধুমাত্র গেটে টিকিট দেখিয়েই বেরিয়ে যেতে পারে। আর এ কারণে চোরাকারবারীরা রেলপথকে সহজ হিসেবে সেদিক দিয়ে বেশি যাতায়াত করে।
তবে যে স্থান থেকে এগুলো পাচার হয়ে রাজধানীতে আসছে সে স্থানগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারী বাড়ানো হলে এর পাচার কমে আসবে বলে মনে করেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।