সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:১৯

কঠিন চ্যালেঞ্জে এরশাদ

কঠিন চ্যালেঞ্জে এরশাদ

দলে কর্তৃত্ব নিয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। নির্বাচন করে সরকার ও সংসদে অংশ নেয়ার পর থেকে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে টানাপড়েন চলে আসছে পার্টি চেয়ারম্যান এরশাদ ও বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদের মধ্যে। দুই নেতাকে ঘিরে দলের শীর্ষ নেতারাও বিভক্ত। সর্বশেষ বিরোধী দলের উপনেতা নিয়োগ এবং মন্ত্রিসভা থেকে দলের সদস্যদের পদত্যাগের বিষয়ে শুরু হয়েছে টানাপড়েন।

দলের বেশির ভাগ এমপিদের স্বাক্ষর নিয়ে কাজী ফিরোজ রশীদকে বিরোধী দলের উপনেতা করতে রওশন এরশাদ স্পিকারকে চিঠি দিলেও এতে বাদ সাধেন এরশাদ। তিনি পাল্টা চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, ফিরোজ রশীদকে উপনেতা করার বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত হয়নি। জাপা এমপিদের যে অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ফিরোজ রশীদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয় সেখানে পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদকে নিয়ে প্রেসিডিয়াম সদস্য ও বিরোধী দলের চিফ হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী ও এলজিআরডি মন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা কড়া সমালোচনা করেন। ওই বৈঠকে এরশাদ উপস্থিত না থাকায় পরে তিনি এ বিষয়ে অবহিত হন।

রোববার অনুষ্ঠিত এ বৈঠকের পর সোমবার এরশাদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। গতকাল এরশাদ নিজে সমালোচনাকারী দুই নেতাকে দলের প্রেসিডিয়াম থেকে অব্যাহতি দেন। একই সঙ্গে রংপুর নগর ও জেলা কমিটি বিলুপ্ত করে নেতুন কমিটির ঘোষণা দিয়েছেন। এদিকে গতকালই অব্যাহতি দেয়া দুই নেতা তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাজুল ইসলাম চৌধুরী জানিয়েছেন, এরশাদ সব সময়ই একক কর্তৃত্বে দল চালাতে চান। এর অংশ হিসেবেই তাদের অব্যাহতি দিয়েছেন।

তিনি দাবি করেন, এরশাদ বিরোধী দলের নেতা হতে চাইছেন, যা জাতীয় পার্টির এমপিরা কিছুতেই মেনে নেবেন না। এদিকে মন্ত্রিসভা থেকে জাপার সদস্যদের পদত্যাগের বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। তিনি জানিয়েছেন, এ বিষয়ে এখনও দলীয় কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। যদিও এরশাদ বলে আসছেন তার দলের মন্ত্রীদের পদত্যাগের বিষয়ে আলোচনা চলছে। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রী, এমপি ও নেতাদের সঙ্গে নিজের কর্তৃত্ব নিয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জে পড়েছেন।

জাপা সূত্র জানায়, ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন কেন্দ্র করে এরশাদের নেতৃত্ব নিয়ে সঙ্কট তৈরি হয় জাপায়। অনেকেই পার্টি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বের কথা মুখে বললেও অবহেলা করছেন। এ অবস্থায় কৌশলে পার্টিতে শুদ্ধি অভিযানের চ্যালেঞ্জে নেমেছেন এরশাদ। ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখা আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু তার পক্ষে থাকায় তিনি এ চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন। কাজী ফিরোজ রশীদকে বিরোধীদলীয় উপনেতা নির্বাচনে জন্য রওশন স্পিকারকে চিঠি দিলে তাদের মধ্যে নতুন করে এ বিরোধের সূত্রপাত হয়। পাল্টা চিঠি দেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

চিঠিতে এরশাদ লিখেছেন, বিরোধীদলীয় উপনেতা মনোনয়নের বিষয়ে জাপা এখনও কোন সিদ্ধান্ত নেয়নি, সংসদীয় দলের বৈঠকেও এ ধরনের সিদ্ধান্ত হয়নি। চিঠির সঙ্গে এরশাদ দলের গঠনতন্ত্রের ২২ নম্বর ধারার অংশটিও যুক্ত করেছেন। জাপার গঠনতন্ত্রের ২২ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, দলীয় চেয়ারম্যানের অনুমতি সাপেক্ষে সংসদীয় দলের উপনেতা, চিফ হুইপ ও হুইপ নির্বাচিত করবে। এর আগে স্পিকারকে কাছে দেয়া রওশনের চিঠির সঙ্গে সংযুক্ত রেজ্যুলেশনে জাপার ৪০ এমপির মধ্যে ১০ জন স্বাক্ষর দেননি।

এর মধ্যে রয়েছেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, এডভোকেট নূরুল ইসলাম তালুকদার, এম এ হান্নান, ফখরুল ইমাম, সেলিম ওসমান, পীর ফজলুর রহমান, এডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা ও বেগম মাহ্‌জাবীন মোরশেদ। তবে তাদের মধ্যে কয়েকজন বিদেশে থাকায় সোমবারের বৈঠকে উপস্থিত থাকতে কিংবা রেজ্যুলেশনে স্বাক্ষর করতে পারেননি বলে জাপা সূত্র জানিয়েছে। তবে রওশনপন্থি এমপিদের অভিযোগ, গঠনতন্ত্র নতুন করে ছাপানো হয়েছে।

দলের সর্বশেষ কাউন্সিলে অনুমোদিত ধারাসমূহে এ ধরনের কোন বিষয় ছিল না। কাউন্সিল ছাড়াই নতুন করে বিষয়টি গোপনে গঠনতন্ত্রে যুক্ত করা হয়েছে। বিরোধীদলীয় উপনেতা প্রশ্নে জুলাই মাসেও স্পিকারকে পাল্টাপাল্টি চিঠি দেন রওশন ও এরশাদ। শুধু স্পিকারকে পাল্টাপাল্টি চিঠি দেয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি এরশাদ ও রওশন। দু’জন পৃথকভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও দেখা করেন ওই সময়। এক পর্যায়ে ৯ই আগস্ট এরশাদ কলকাতা যাওয়ার সময় জাপার ঢাকা দক্ষিণের সভাপতির পদ থেকে কাজী ফিরোজ রশীদকে অব্যাহতি দেন তিনি।

সর্বশেষ মঙ্গলবার সংসদ অধিবেশনের মাগরিবের নামাজের বিরতির সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার সংসদ ভবন কার্যালয়ে দেখা করেছেন এরশাদ। মহাসচিব জিয়াউদ্দিন বাবলুও এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন। এর আগে ৩১শে আগস্ট অনুষ্ঠিত দলের সংসদীয় দলের বৈঠকে মন্ত্রিসভা থেকে বের হয়ে আসতে দলীয় নেতাদের নির্দেশ দেন এরশাদ। ওই সময় তার সঙ্গে একমত পোষণ করেন রওশনও।

ওই বৈঠকেই এরশাদকে উদ্দেশ করে জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেছিলেন, আপনি নিজেও পূর্ণ মন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত। কথাবার্তা বলতে হলে সব কিছু হিসাব করেই বলা উচিত। পদত্যাগ করতে হলে সবারই পদত্যাগ করতে হবে। সূত্র মতে, ওই দিনের সংসদীয় দলের সভায় চেয়ারম্যান এরশাদ সবার উপস্থিতিতে তাজুল ইসলাম চৌধুরীর কর্মকাণ্ডের কড়া সমালোচনা করে বলেন, তুমি দলের ভেতরে থেকে ষড়যন্ত্র করছো।

তিনি তাজুলকে সংযত আচরণের পরামর্শ দেন। বেশির ভাগ এমপি এ সময় এরশাদের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন এবং তাজুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান। পরিস্থিতি অনুকূলে নয় বুঝতে পেরে বৈঠকে তাজুল ইসলাম চৌধুরী এরশাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে বলেন, স্যার আমাকে মাফ করে দিন। এরশাদের একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, বারবার দলবদলের কারণে তাজুল যখন জাপায় যোগ দেন, বেশির ভাগ নেতারা তাকে দালাল আখ্যায়িত করে বিরোধিতা করেছিলেন। দশম জাতীয় সংসদ গঠনের পর তাজুল ইসলাম চৌধুরীকে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ করা হয়।

তখনই তার এ পদে নিয়োগের বিরোধিতা করেন দলটির বেশির ভাগ এমপিসহ শীর্ষ নেতা। যুদ্ধাপরাধীদের তালিকায় নাম থাকা, বারবার দল বদলানো, দলের অভ্যন্তরে বিভেদ সৃষ্টি, দুর্নীতির অভিযোগসহ নানা কারণে তখন তারা তাজুল ইসলাম চৌধুরীকে এ পদে নিয়োগের বিরোধিতা করেন। পাশাপাশি তাজুলের এলাকায়ও তার বিরুদ্ধে মিছিল হয়। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তিনি বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ পদে নিযুক্ত হন। সূত্র জানায়, নির্বাচন ও সংসদ বসার পর পার্টি চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিরোধিতা করেন তিনি। এ অবস্থায় তাকে ‘শাস্তি’ হিসেবে দলের দপ্তর সম্পাদকের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়।

কিন্তু এতেও তাজুল ইসলাম চৌধুরীর আচরণগত কোন পরিবর্তন হয়নি। প্রকাশ্যে দলের চেয়ারম্যানের বিরোধিতার পাশাপাশি তাকে উপেক্ষা করে একের পর এক সিদ্ধান্ত নেয়া, দলের ভেতরে অনৈক্য সৃষ্টিসহ একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এরশাদের ঘনিষ্ঠ জাপার এক নেতা জানান, মশিউর রহমান ও তাজুল ইসলাম দীর্ঘদিন থেকে দলীয় নানা বিষয়ে এরশাদকে কটাক্ষ করে কথা বলে আসছেন। এসব বক্তব্য এরশাদ এড়িয়ে চলেছেন। কিন্তু মঙ্গলবার কয়েকটি বেসরকারি টেলিভিশনে প্রচারিত এ দুই নেতার বক্তব্যে এরশাদ খুব অপমানবোধ করে এ সিদ্ধান্ত নেন।

এদিকে গতকাল চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক সচিব সুনীল শুভ রায় স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অব্যাহতির বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানানো হয়। এতে বলা হয়, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ গঠনতন্ত্রের ৩৯ ধারার প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মশিউর রহমান রাঙ্গা ও তাজুল ইসলাম চৌধুরীকে প্রেসিডিয়ামের সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। বহিষ্কৃত বিরোধীদলীয় হুইপ ও প্রেসিডিয়াম সদস্য তাজুল ইসলাম চৌধুরী অভিযোগ করে বলেছেন, এরশাদ বিরোধী দলের নেতা হতে চান বলে আমাকে ও প্রেসিডিয়াম সদস্য স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গাকে বহিষ্কার করেছেন। উনি আমাকে এ বিষয়ে কয়েকবার বলেছেন।

কিন্তু আমরা তা মেনে নিইনি। যত ষড়যন্ত্রই হোক আমরা রওশন এরশাদের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ। এরশাদ আমাকে বাগে আনতে না পেরে বহিষ্কার করেছেন। তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, এরশাদ বিরোধী দলের নেতা হওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। উনি তো ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ নিতে চাননি। আমরা রওশন এরশাদের নেতৃত্বে নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। আমরা সংসদ সদস্যরা রওশন এরশাদকে বিরোধী দলের নেতা করেছি। নির্বাচনের বিরোধিতা করে এখন বিরোধী দলের নেতা হতে চাইছেন এরশাদ। এটা আমরা মেনে নেবো না। তাজুল ইসলাম জাপার তিন মন্ত্রীর পদত্যাগের আগে এরশাদকে বিশেষ দূতের পদ ত্যাগ করার পরামর্শ দেন। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, পার্টি চেয়ারম্যানের এ সিদ্ধান্তে আমি হতাশ বা ক্ষুব্ধ হইনি। তিনি এরশাদের একক কোন সিদ্ধান্ত না মানার কথা বলেন।

শেখ হাসিনার কাছে নালিশ: এদিকে গতকাল সংসদ চলাকালে মাগরিবের নামাজের বিরতির পরপরই শেখ হাসিনা যখন অধিবেশন কক্ষ থেকে বের হওয়ার জন্য উঠে দাঁড়ান, তখন বিরোধী দলের সারি থেকে তার কাছে ?ছুটে যান জাতীয় পার্টির সদস্য তাজুল ইসলাম চৌধুরী ও মশিউর রহমান রাঙ্গা। তাদের পেছন পেছন যান জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব এ বি এম রহুল আমীন হাওলাদার এবং প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ। এ সময় তাজুল ও রাঙ্গা প্রধান মন্ত্রীকে জানান, তাদের দলের প্রেসিডিয়াম থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর থেকে জানান: জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য, রংপুর জেলা ও মহানগর সভাপতি স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গাকে দল থেকে অব্যাহতি দেয়ায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। জেলা ও মহানগর জুড়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। রাঙ্গার পক্ষ ও বিপক্ষ গ্রুপ একে অপরের মুখোমুখি অবস্থান করছে। ফলে উত্তেজনা বিরাজ করছে দলের অভ্যন্তরে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে দলীয় কার্যালয়ে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বুধবার জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রেস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সেক্রেটারি সুনীল শুভ রায় স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ দলীয় কার্যক্রমকে গতিশীল ও কার্যকর করার লক্ষ্যে পার্টির গঠনতন্ত্রের ৩৯ ধারার প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জাতীয় পার্টি রংপুর জেলা ও মহানগর কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গাকে দলের প্রেসিডিয়াম ও জেলা ও মহানগর সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

সাবেক এমপি মোফাজ্জল হোসেন মাস্টারকে আহ্বায়ক ও আবুল মাসুদ চৌধুরী নান্টুকে যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সাবেক এমপি এরশাদের ভাতিজা হোসাইন মকবুল শাহরিয়ারকে সদস্য সচিব করে জেলা আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাকে আহ্বায়ক, এডভোকেট সালাহ উদ্দিন কাদেরী ও এ কে এম আবদুর রউফ মানিককে যুগ্ম আহ্বায়ক এবং এস এম ইয়াসিরকে সদস্য সচিব করে মহানগর কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত প্রেস বিজ্ঞপ্তি রংপুরে এলে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। একদিকে যেমন ক্ষোভে ফেটে পড়ে রাঙ্গার সমর্থকরা, অন্যদিকে আনন্দ উল্লাসে মেতে ওঠে মোস্তফা সমর্থকরা।

সাবেক মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক এডভোতেট সালাহউদ্দিন কাদেরী জানান, এ ব্যাপারে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। সাবেক জেলা সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এবং সদ্যঘোষিত মহানগর কমিটির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তাফা জানান, বর্তমানে দলের অবস্থা খুব নাজুক। দলের চেয়ারম্যান যদি দায়িত্ব দেন তাহলে আবার তারা তৃণমূল পর্যায়ে দলকে পুনর্গঠিত করবেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে রংপুরে জাতীয় পার্টি করুণ অবস্থা বিরাজ করছিল। দলের নেতাকর্মীরা হতাশ হয়ে দল থেকে নিজেকে গুটিয়ে রাখেন।

ফলে জাতীয় পার্টির দুর্গ বলে খ্যাত রংপুরে সঙ্গীন হয়ে পড়ে দলের অবস্থা। প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা জেলা ও মহানগরের সভাপতি দুটো পদই দখল করে মন্ত্রিসভায় স্থান নিয়ে নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তার এমন কর্মকাণ্ড উপলব্ধি করে দলের চেয়ারম্যান এ সিদ্ধান্ত নিয়ে রংপুরে দলকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করলেন। দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের এমন সিদ্ধান্তের কারণে মশিউর রহমান রাঙ্গা জাতীয় পার্টির ৩টি পদই হারালেন। শুধু মন্ত্রিত্ব পদটি নিয়ে এখন থাকবেন।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রংপুর জেলা ও মহানগর কমিটি ভেঙে মশিউর রহমান রাঙ্গাকে জেলা ও মহানগর কমিটির সভাপতি ঘোষণা করেন।

সূত্র: মানবজমিন




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026