সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:১৩

দুবাই নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে টানাপড়েন

দুবাই নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে টানাপড়েন

 

দীন ইসলাম: সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) তথা দুবাই নিয়ে টালমাটাল অবস্থার মধ্যে রয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একদিকে মন্ত্রণালয়ের ন্যস্তকৃত কর্মকর্তারা ভিসা জটিলতায় দুবাইতে যেতে পারছেন না। অন্যদিকে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট সরবরাহের জন্য নির্বাচিত মালয়েশিয়ান প্রতিষ্ঠান আইরিশ করপোরেশন বেরহাড সংযুক্ত আরব আমিরাতে ব্যবসা করার অনুমোদন পাচ্ছে না।

এমন অবস্থায় ২৩ লাখ প্রবাসীর কথা চিন্তা করে নানা ফর্মুলা বের করার চেষ্টা করছে তারা। কিন্তু কোন ফর্মুলাই কাজে আসছে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়ার কোম্পানি এমআরপি সরবরাহের জন্য ব্যবসা করার অনুমতি না পাওয়ায় এখন বিকল্প চিন্তাভাবনা চলছে। ওই দেশের বিভিন্ন প্রদেশে গিয়ে অফিস স্থাপন করে নিজেরাই পাসপোর্ট কার্যক্রম শুরু করার কথা ভাবা হচ্ছে। প্রয়োজনে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রেষণে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ন্যস্ত করা হবে।

এরপর কূটনৈতিক পাসপোর্ট নিয়ে তারা দুবাই যেতে পারবেন। তখন পাসপোর্ট সংক্রান্ত কাজ করতে কোন সমস্যা হবে না বলে মনে করছে সরকার। ওদিকে দুবাইতে এখনও এমআরপি কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় এখন টেনশনে রয়েছে ২৩ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশী। এটা থেকে কিভাবে উত্তরণ পাবে এনিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এখনও নানা আলোচনা-পর্যালোচনা চলছে। পাসপোর্ট অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত জুনে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) তৈরি করতে মালয়েশিয়ান প্রতিষ্ঠান আইরিশ করপোরেশন বেরহাডের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ সরকারের বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর।

চুক্তি অনুযায়ী সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত বাংলাদেশীদের এমআরপি দিতে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ এবং পাসপোর্ট বিতরণের কাজ করবে মালয়েশিয়ান প্রতিষ্ঠান বারহাড। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বলা হয়, এ চুক্তির মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত বাংলাদেশীরা আরও সহজে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে ও ঝামেলামুক্ত পন্থায় এমআরপি পাবেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আইরিশ করপোরেশন বারহাডের এমডি দাতো হামদান আবাদি ও বাংলাদেশ পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ।

তবে চুক্তির পর থেকেই নানা ঝামেলার মুখে পড়েছে সরকার। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন রাজ্যে সব মিলিয়ে ২৩ লাখ ১৭ হাজার বাংলাদেশী রয়েছেন। সৌদি আরবের পর সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশী আছেন দেশটিতে। এ কারণে  রেমিট্যান্স আয়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎস ইউএই। সেখানে শ্রমজীবীসহ বিভিন্ন রকম পেশায় কর্মরত মানুষের সংখ্যা বেশি হলেও অনেক বাংলাদেশীর বড় রকমের ব্যবসাও রয়েছে। বর্তমানে এমআরপি ও ভিসা জটিলতার কারণে তারা গুরুতর সমস্যায় পড়েছেন।

ইতিমধ্যেই তাদের ব্যবসার যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। কিছুদিন আগেও বাংলাদেশী নাগরিক সংযুক্ত আরব আমিরাতের মালিকানাধীন এয়ারলাইনের (এমিরেটস, ফ্লাই দুবাই বা ইতিহাদ) যাত্রী হিসেবে বৃটেন, আমেরিকা বা কানাডা ভ্রমণ করলে, তাদের শর্তসাপেক্ষে ৯৬ ঘণ্টার ট্রানজিট ভিসা দেয়া হতো। এরই মধ্যে এ ভিসাও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ওদিকে স্বাভাবিক সময়ে বাংলাদেশ থেকে প্রতিমাসে গড়ে প্রায় ৫ হাজার মানুষ বিভিন্ন কারণে দুবাই ভ্রমণ করতো।

বিরাট এ যাত্রী সংখ্যাকে ঘিরে ঢাকা-দুবাই রুটে বেশ কয়েকটি এয়ারলাইনের অনেকগুলো ফ্লাইট চলাচল করতো। এর মধ্যে কেবলমাত্র এমিরেটস এয়ারলাইন এককভাবে সপ্তাহে ২১টি ফ্লাইট পরিচালনা করতো। গত তিন মাসে পর্যায়ক্রমে কমিয়ে এখন সপ্তাহে মাত্র ১৪টি ফ্লাইট পরিচালনা করছে এয়ারলাইনটি। অন্যদিকে ফ্লাই দুবাই চট্টগ্রাম থেকে সপ্তাহে ৭টি এবং ঢাকা থেকে ৪টি ফ্লাইট পরিচালনা করতো। তাদের ফ্লাইট সংখ্যাও ইতিমধ্যেই অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে। এসব নানা সংকেতের কারণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের টেনশন দিন দিন বাড়ছে।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026