সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:২৫

সমুদ্র পথে ৮৭০০০ রোহিঙ্গার পলায়ন

সমুদ্র পথে ৮৭০০০ রোহিঙ্গার পলায়ন

জাতিসংঘের রিপোর্ট মিয়ানমারের নির্যাতনের দায় কেবল আর বাংলাদেশ নয়, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডকেও নিতে হচ্ছে। গত দুই বছরে বাংলাদেশ-মিয়ানমারের সমুদ্রসীমা থেকে প্রায় ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা নৌকায় চেপে মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে পালিয়ে গেছে।

কেবল চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে ২০ হাজার রোহিঙ্গা সমুদ্র পাড়ি দিয়েছে। এর মধ্যে প্রতি এক হাজারে ১০ জনের মৃত্যু ঘটেছে। মৃতের মোট সংখ্যা ২০০ জনের বেশি।  সমুদ্রপথে পালানোর মাথা পিছু ব্যয় ৫০ থেকে ৩০০ ডলার। তবে পাচারকারীরা এর অতিরিক্ত দেড় হাজার ডলার থেকে ২,২০০ ডলার আদায় করে থাকে।

জাতিসংঘের এক নতুন প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। আরাকানে রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে ২০১২ সালের জুন থেকে রোহিঙ্গারা সমুদ্রপথে পলায়নের এই দুঃসাহসিক অভিযাত্রায় ব্যাপকভাবে অংশ নেয়া শুরু করে। বঙ্গোপসাগরে এবং আন্দামান সমুদ্রসীমা থেকে রোহিঙ্গাদের পলায়নের কারণে মালয়েশিয়া ও থাই সমুদ্রসীমা তাই হয়ে উঠেছে মানব পাচারের নতুন আন্তর্জাতিক রুট।

জাতিসংঘ উদ্বাস্তু হাইকমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সমুদ্রের এই অভিযাত্রায় রোহিঙ্গাদের দাস হিসেবেও বিক্রি হওয়ারও তথ্য ছাপা হয়েছে এই প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়েছে, উদ্বাস্তু হাইকমিশন এমন দু’জন রোহিঙ্গার দেখা পেয়েছেন, যাদের একটি মাছ ধরার নৌকায় ৩ মাসের জন্য দু’জন রোহিঙ্গাকে ৫০০ ডলারে বিক্রি করা হয়েছিল। ২০১৪ সালে কথিত মতে সরকারি কর্তৃপক্ষ ৯টি নৌকা চ্যালেঞ্জ করেছিল।  উদ্বাস্তু হাইকমিশন পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে ৭ হাজার জনকে নিয়ে বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন। কারণ, তারা বিভিন্ন ডিটেনশন ক্যাম্পে বন্দি জীবন কাটাচ্ছে। এছাড়া আরও ১৪৪ জন বেরিবেরি রোগে আক্রান্ত হয়েছে।

গত সপ্তাহে এ বিষয়ে লন্ডনের ইন্ডিপেন্ডেন্টে প্রকাশিত এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের নিয়ে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনটি জাতিসংঘের ‘ইরেগুলার মেরিটাইম মুভমেন্টস রিপোর্ট’-এর অংশ। এতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংঘটিত সহিংসতা থেকে বাঁচতেই রোহিঙ্গারা এই বিপদসঙ্কুল সমুদ্র পথে পলায়নের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। ২০১৪ সালের জুনের আগের ১২ মাসে ৫৩ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়েছে। এটা তার আগের ১২ মাসের তুলনায় শতকরা ৬১ ভাগ বেশি।

ওই রিপোর্ট আরও বলেছে, কাঠের নৌকায় একসঙ্গে ৭শ’ জন করে যাত্রী তোলা হয়। দীর্ঘ সমুদ্র যাত্রা তাদের কাছে দ্রুত কষ্টকর এবং বিষাদপূর্ণ হয়ে ওঠে। নানা স্বাস্থ্যগত সমস্যায় পড়েন তারা। খাদ্যাভাব, পানির কষ্ট, লাঞ্ছনা এমনকি দৈহিক নির্যাতনেরও শিকার হতে হয় তাদের। প্রথমে পৌঁছায় তারা থাইল্যান্ডে। সেখানে নেমে তারা গাদাগাদি করে ট্রাকে চাপেন। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় পাচার ক্যাম্পে। সেখানে তাদের ছয় মাস কাটাতে হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৫০০ থেকে ২২০০ ডলার নেয়া হয়। যারা তা দিতে পারেন না, তাদের জন্য দুর্ভোগ বাড়ে। ক্যাম্পে দীর্ঘ সময় কাটাতে হয় এবং নির্যাতিত হতে হয়। উল্লেখ্য, মালয়েশিয়ায় নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ইতিমধ্যে ৩৭ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026