ইসমাইল হোসেন: প্রয়োজন অনুযায়ী পদ সৃজন ও শূন্য পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে মন্ত্রিসভার নির্দেশ থাকলেও এ সংক্রান্ত তথ্য-সুপারিশ দিতে ‘ধীরে চলো নীতি’ নিয়েছে খোদ মন্ত্রণালয়গুলো। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় দু’বার তাগিদপত্র দিয়েছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর এ সংক্রান্ত সভায় বসছে পদ সৃজন ও শূন্য পদে নিয়োগ সংক্রান্ত কমিটি।
শিক্ষা বিস্তারের সঙ্গে দিন দিন শিক্ষিত বেকারের সংখ্যাও বাড়ছে। অথচ অন্যদিকে প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বিলম্ব হচ্ছে। বেকারদের কর্মসংস্থান, সরকারের সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে গত ২১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রয়োজন অনুযায়ী পদ সৃজন এবং শূন্য পদ পূরণের উপায় খুঁজে বের করতে নির্দেশ দেয় মন্ত্রিসভা।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জনপ্রশাসন ও সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) সচিব মিলে মেকানিজম ডেভলোপ ও সুপারিশের জন্য বলেছিল। পরবর্তী সময়ে ২৪ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ-সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইঞাকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করে সরকার।
গত ১০ জুন সংসদে এক প্রশ্নোত্তর পর্বে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বেগম ইসমাত আরা সাদেক জানিয়েছিলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ২ লাখ ২৮ হাজার ২৫৬টি পদ শূন্য রয়েছে। কমিটিকে সরকারের শূন্য পদ পূরণ, আবশ্যকীয় নতুন পদ সৃজন ও এ সকল পদে নিয়োগের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার জন্য সুপারিশ প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বলা হয়।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানায়, ওই কমিটি ১৮ জুন প্রথম সভায় বিভিন্ন দপ্তর/সংস্থার পদ সৃজন ও শূন্য পদ পূরণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যা ও তা সমাধানের বিষয়ে নির্ধারিত ছকে ১০ দিনের মধ্যে কমিটির কাছে পাঠাতে নির্দেশ দেয়। গত ৭ আগস্ট কমিটি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে চিঠি দিলেও তাতে আশানরূপ সাড়া পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে ১১ সেপ্টেম্বর আবারো তাগিদ পত্র দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে নির্ধারিত ছকে তথ্য চেয়েছে কমিটি।
কমিটির দ্বিতীয় সভা আগামী ২২ সেপ্টেম্বর কমিটির আহ্বায়ক মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হবে বলে তাগিদপত্র-২ থেকে জানানো হয়েছে। সভার তিন দিন আগে তথ্য পাঠাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে।
চিঠিতে পদ সৃজন সংক্রান্ত প্রস্তাবের পরীক্ষা-নিরীক্ষা/সম্মতি/সুপারিশ প্রদান এবং পদ শূন্য হওয়ার পর থেকে নিয়োগাদেশ জারি পর্যন্ত গড়ে কত দিন লাগে তা জানতে চাওয়া হয়েছে। এছাড়া পদ সৃজন ত্বরান্বিত এবং নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নে সুপারিশ চেয়েছে এ সংক্রান্ত কমিটি।
উপ-সচিব আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার বাংলানিউজকে বলেন, দ্বিতীয়বার তাগিদপত্র দেয়ার পর এ পর্যন্ত ৩৬টি মন্ত্রণালয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব মন্ত্রণালয় চাহিদা অনুযায়ী পদ সৃজন ও শূন্য পদে জনবল নিয়োগের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সুপারিশ ২২ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে পর্যালোচনা করে পরবর্তী সময়ে কম্পাইল সুপারিশ তৈরি করবে কমিটি। এর আগে মন্ত্রিসভায় পদ সৃজন ও শূন্য পদ পূরণ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের সময় মন্ত্রিপরিষদ-সচিব বলেছিলেন, প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে মন্ত্রিসভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বিলম্ব হচ্ছে। বিলম্বের কারণ চিহ্নিত করে নিয়োগ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
বর্তমানে কোনো কোনো ক্ষেত্রে পদ সৃষ্টির জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ এবং সচিব কমিটির সুপারিশ লাগে। আর প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর পদের জন্য সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সুপারিশ প্রয়োজন হয়। পিএসসির জনবলের অভাবেও নিয়োগ প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানিয়েছিলেন, পদ সৃষ্টি কঠিন কিছু নয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং উদ্যোগী মন্ত্রণালয় পদ সৃষ্টি করতে পারে। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক সম্প্রতি বাংলানিউজকে বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও সুপারিশ পর্যালোচনা করে কিভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা যায় সে বিষয়ে কমিটি সুপারিশ তৈরি করার পর সরকার পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।