
মফিজুল সাদিক: বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন ২২টি প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে বাংলাদেশ ও সংস্থাটির মধ্যে দুই দিনব্যাপী বৈঠক হয়েছে। ২২টি প্রকল্পের মধ্যে কিছু প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে সন্তুষ্ট নয় সংস্থাটি। কম বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের অগ্রগতির জন্য সময় বেঁধে দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। বেধে দেওয়া সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন না হলে সংস্থাটি প্রকল্পগুলো থেকে টাকা ফেরত নিয়ে অধিক অগ্রগতি সম্পূর্ণ প্রকল্পে টাকা খরচ করবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। প্রকল্পের ধরন অনযায়ী সময় বেঁধে দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
সোমবার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ( ইআরডি) ও বিশ্ব ব্যাংকের মধ্যে দুদিন ব্যাপী এ বৈঠক শেষ হয়েছে। শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইআরডির পক্ষে অতিরিক্ত সচিব কাজী শফিকুল আজম এবং বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধি দলের পক্ষে নেতৃত্ব দেন বিশ্বব্যাংকের পরিচালন উপদেষ্টা ক্রিস্টিন ই কাইমস ।
বৈঠক প্রসঙ্গে ইআরডি’র অতিরিক্ত সচিব কাজী শফিকুল আজম বাংলানিউজকে বলেন, ২২ প্রকল্পের মধ্যে কিছু প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে বিশ্বব্যাংক সন্তুষ্ট না। সেই সব প্রকল্পে অগ্রগতি বাড়ানোর জন্য বিশ্বব্যাংক সময় বেঁধে দিয়েছে। তবে সাবিকভাবে প্রকল্পে সন্তোষ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। যেসব প্রকল্পে অগ্রগতি কম হয়েছে অগ্রগতি বাড়ানোর বিষয়ে বিশ্বব্যাংক কিছু দিক নির্দেশনা দিয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে করে প্রকল্প বাস্তবায়ন বাড়ানো যায়।’
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবন্ধী ও ঝুঁকিপূর্ণ শিশু প্রকল্প’ ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট ইম্প্রুভমেন্ট’ প্রকল্প ও ‘অ্যাভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রিপেয়ার্ডনেস অ্যান্ড রেসপন্স’ প্রকল্প যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
বৈঠক সূত্রে আরো জানা গেছে, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে চলমান প্রকল্পের মধ্যে যেসব প্রকল্পে বাস্তবায়ন ও অর্থছাড়ে পিছিয়ে রয়েছে সেগুলো মেয়াদের মধ্যে শেষ করতে বিশেষ সুযোগ দেবে বিশ্বব্যাংক। তবে ইআরডি সূত্র জানায়, এবারের বৈঠকে বিশ্বব্যাংক আগের যে কোনও বৈঠকের চেয়ে ইতিবাচক ছিল। বৈঠকে যে কোনও প্রকল্পের সমস্যা ও অর্থছাড়ের বিষয়ে বিশ্বব্যাংক আরো বেশী সহযোগিতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
চলমান প্রকল্পগুলোতে সব মিলিয়ে বিশ্বব্যাংক ৭০০ কোটি ডলারের সহায়তা দেওয়ার চুক্তি রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় চলমান ২২টি প্রকল্পগুলো ভালো গতিতে চললেও চলমান দশ প্রকল্পকে সমস্যা কবলিত চিহ্নিত করা হয়েছে। এর বাইরে আরো ৬টি প্রকল্পে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী অর্থছাড় হচ্ছে না। রোববার ও সমবার দুইদিনে ২২টি চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা হয়েছে। সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং ধীরগতির প্রকল্পের গতি ফিরিয়ে আনতে এ ধরনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বিশ্বব্যাংকের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত সংস্থাটি সবমিলিয়ে ১৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যা মোট বৈদেশিক সহায়তার ২৯ ভাগ। এর মধ্যে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে রেকর্ড পরিমান ৯৪ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার ছাড় করেছে ।
চলতি (২০১৪-১৫) অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে অর্থাৎ জুলাই-আগস্টে সংস্থাটি বিভিন্ন প্রকল্পের অনুকূলে ছাড় করেছে ৮ কোটি ৪৫ লাখ ডলার যা আগের অর্থবছরের সময়ের চেয়ে বেশি। প্রকল্পের অগ্রগতি এবং অর্থছাড়ে গতি আনতে প্রতি ছয় মাস পর পর এ ধরনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। চলতি অর্থবছরে (২০১৪-১৫) নতুন প্রকল্পে প্রায় ১৭০ কোটি ডলার সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণ করেছে বিশ্বব্যাংক। নতুন প্রকল্পে প্রাধান্য পাবে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাত।
ক্রিস্টিন ই কাইমস বৈঠকের বিষয়ে বলেছেন, নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এবার প্রথম বারের মতো বাংলাদেশ সরকারের সাথে চলমান প্রকল্প ছাড়াও নতুন প্রক্রিয়াধীন প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এবারের বৈঠকে নতুন ১১ প্রকল্পের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে নেওয়া নতুন প্রকল্পও রয়েছে।