নিউজ ডেস্ক: ঘটনাস্থল হজরত শাহজালাল (র.)-এর মাজার পুলিশ ক্যাম্প। সিলেটসহ দেশের অতি পবিত্র ও রক্ষিত এ স্থানে শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছেন এক বিধবা নারী। আবার বিচার বঞ্চিত হচ্ছেন তাদের নানান কূটকৌশলে। গত ২২শে সেপ্টেম্বর রাতে সিলেটস্থ হজরত শাহজালাল (র.) মাজার কমপ্লেক্সের পুলিশ ক্যাম্পে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় থানায় মামলা হলেও পুলিশের কারণে ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে অপরাধীরা। হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার পারকুল গ্রামের এক বিধবা মহিলা ২২শে সেপ্টেম্বর ডাক্তার দেখাতে সিলেট পপুলার হাসপাতালে যান। তিনি জানান, রাত বেশি হয়ে যাওয়ায় বাড়ি ফিরতে না পারায় হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে গিয়ে আশ্রয় নেন। রাত ১০টার দিকে দুই মহিলা তাকে বলে, সাহেব ডাকছে তার অফিসে যেতে। সরল বিশ্বাসে তিনি মাজার পুলিশ ক্যাম্পের নায়েক কামালের কক্ষে গেলে দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়।
এরপর নায়েক কামাল তাকে ধর্ষণ করে। এরপর কামালের সহযোগী মাজার কেরানি মছব্বির, চকিদার সেলিম, দুদু মিয়া, সেলিম ও রুবেল তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ঘটনাটি মাজার মোতাওয়াল্লিকে জানাতে চাইলে নায়েক কামাল ও তার সহযোগীরা তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। এরপর চিকিৎসার্থে সিলেট ওসমানী হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি হন তিনি। ওসিসিতে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার একটি এজাহারে দস্তখত নিয়ে তাকে ছেড়ে দিয়ে সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানায় কাগজপত্রসহ এজাহার পাঠান।
পরে তার দস্তখত করা এজাহারের ভিত্তিতে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা হয়। শুক্রবার রাতে কোতোয়ালি থানায় গিয়ে তার চিহ্নিত আসামিদের পরিবর্তে মামলায় অজ্ঞাতনামা ৩-৪ জনকে আসামি করা হয়েছে জানতে পেরে কান্না শুরু করেন তিনি। এ সময় তিনি ধর্ষক নায়েক কামালকে থানায় দেখে জাপটে ধরেন এবং বলেন, ওই নায়েক কামাল আমাকে নির্যাতন করেছে, তাকে গ্রেপ্তার করুন। একথা বলার পরও পুলিশ কামালকে গ্রেপ্তার না করে তাকে তার হাত থেকে জোর করে ছাড়িয়ে নেয়।
নির্যাতিতা মহিলার অভিযোগ, পুলিশ কর্তৃক গণধর্ষিত হওয়ায় ওসিসির দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। তার বর্ণনা সত্ত্বেও নায়েক কামাল ও অন্য আসামিদের নাম না লিখে ভয়ভীতি দেখিয়ে অজ্ঞাত আসামির এজাহারে তার দস্তখত নেন। ফলে তিনি পুলিশ কর্তৃক ধর্ষিত হয়ে ন্যায়বিচার প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
নির্যাতিতা মহিলা নায়েক কামালসহ তার ওপর নির্যাতনকারীদের ও তাদের বাঁচাতে তথ্য গোপনকারী ওসিসি পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আসাদুজ্জামান সংবাদ মাধ্যমকে জানান, অজ্ঞাত ৩-৪ জনকে আসামি করে ওসিসি থেকে অভিযোগ এলে মামলাটি রেকর্ড করা হয়। তদন্তপূর্বক পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।