ওয়েছ খছরু: সিলেট নগরীর পথে পথে বাসানো হয়েছে অবৈধ পশুর হাট। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে নগরীর ব্যস্ততম এলাকাসহ ফাঁকা জায়গাগুলোতে এসব হাট বসানো হয়েছে। কথা না শোনায় অসহায় সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। পুলিশও দর্শকের ভূমিকায়। পথে পথে হাট বসানোর কারণে রাস্তার পাশে অবৈধভাবে গড়ে তোলা হাটে নামিয়ে দেয়া হচ্ছে গরু। গরুকারবারিদের করা হচ্ছে মারধরও।
সিলেট নগরীতে একমাত্র অনুমোদিত কোরবানির পশুর হাট কাজিরবাজার। এর বাইরে নগরীর কোথাও কোন পশুর হাট নেই। সিলেট সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নগরীতে কোথাও অন্য কোন হাটের অনুমোদন দেয়া হয়নি। আর যাতে কেউ অবৈধ হাট বসাতে না পারে সে জন্য সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে গণবিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে।
তবে, নগরীর সীমানাঘেঁষা শাহী ঈদগাহ ও মালনীছড়া এলাকায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দু’টি পশুর হাটের অনুমতি দেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা সমঝোতার ভিত্তিতে ওই দু’টি পশুর হাট ইজারা নিয়েছেন। তবে, গত এক সপ্তাহ ধরে এ দু’টি হাটের ইজারা নিয়ে টানটান উত্তেজনা থাকলেও পরে সিনিয়র নেতাদের হস্তক্ষেপে সমঝোতার মাধ্যমেই চলছে পশুর বিকিকিনি।
গতকাল বিকালে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরাবরের তো সিলেট নগরীর কয়েদির মাঠ এলাকায়ও পশুর হাট বসানো হয়েছে। এ মাঠের পশুর হাট নিয়ে গতবার সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করা হলেও কোন কাজ হয়নি। এবারও ক্রীড়া কমপ্লেক্স সংলগ্ন মাঠে পশুর হাট বসানো হয়েছে। একই সঙ্গে মাছিমপুরের নদীর তীরবর্তী এলাকায়ও পশুর হাট বসানো হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের শেল্টারে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা এ সব হাটের পরিচালক বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
ওদিকে, এক সপ্তাহ ধরে সিলেটে আসতে শুরু করেছে ট্রাকযোগে কোরবানির পশু। স্থানীয় ব্যাপারীরা অভিযোগ করেছেন, সিলেটের প্রধান হাট কাজিরবাজারে আসার আগেই কয়েদির মাঠের হাটে নামিয়ে দেয়া হচ্ছে গরু। কেউ কেউ ওই মাঠে গরু না নামাতে চাইলে তাদের হুমকি-ধমকি দেয়া হচ্ছে। আবুল কালাম নামের এক ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে ওই হাটে মাইক লাগিয়ে হাসিল বসানো হয়েছে। নগরীর সুবহানীঘাটে ময়না মিয়ার জমি দখল করে পশুর হাট বসানো হয়েছে। ছাত্রলীগের একটি গ্রুপের নেতারা জোরপূর্বক ওই জমি দখলে নিয়ে অবৈধ হাট বসিয়েছে।
ময়না মিয়ার পক্ষের লোকজন জানিয়েছেন, তাদের না জানিয়েই জমি দখল করে হাট বসানো হয়। আর এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে হুমকি দেয়া হয়। দখলদার ক্ষমতাসীন হওয়ায় তাদের ভয়ে জমির মালিকপক্ষ মুখ খুলছে না। সিলেট নগরীর রিকাবীবাজার এলাকায় এখনও বসেনি পশুর হাট। তবে, স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা ওই এলাকায় পশুর হাট বসানোর পাঁয়তারা করছেন। শুক্রবার থেকে ওই হাটে পশু বিকিকিনি শুরু করা হবে। এ ছাড়া সিলেট নগরীর সাপ্লাই রোড, আখালিয়া, মদিনা মার্কেট, বাগবাড়ী এলাকায় অবৈধ পশুর হাট বসানোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিক নেতারা একজোট হয়ে এ সব হাট বসানোর প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন।
ট্রাকমালিক সমিতির সভাপতি আবুল খায়ের ইজু নগরীর ল’কলেজের সামনের এলাকায় অবৈধ পশুর হাট নিয়ে পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নে উত্তেজনা দেখা দেয়। ইজু ল’কলেজের সামনে থাকা মাইক্রোবাস স্ট্যান্ড খালি করে দিতে পরিবহন শ্রমিকদের হুমকি দেয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ পরিবহন শ্রমিকরা মিছিলও দেয়। পরে পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সেলিম আহমদ ফলিক এসে পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার চেষ্টা করেন।
মাইক্রোবাস উপ-কমিটির সভাপতি মাহমুদ হোসেন জানিয়েছেন, গরুর হাট বসাতে চালকদের সরে যেতে বললে বিক্ষোভ বাড়ে। তবে আবুল খায়ের ইজু জানিয়েছেন, পরিবহন শ্রমিকরা বাধা দেয়ায় তারা সরে এসেছেন। এদিকে, মঙ্গলবার সিলেটে এক সংবাদ সম্মেলনে সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, সিলেট নগরীতে পশুর হাটের কোন অনুমতি দেয়া হয়নি। যারা অবৈধভাবে বসাতো তাদের সরিয়ে দিতে পুলিশকে বলে দেয়া হয়েছে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সহায়তা চাওয়া হলে তারা সব ধরনের সহায়তা করবেন।