নিউজ ডেস্ক: শুক্র-শনিবার সরকারি ছুটি, রোব-সোম-মঙ্গলবার ঈদুল আযহার ছুটি। তাই টানা পাঁচদিনের ছুটির ফাঁদে দেশ। ব্যস্ত নগরী ঢাকা ছাড়ছে লাখো মানুষ। নাড়ির টানে বাস-লঞ্চ-ট্রেনে ছুটছে সবাই, ফাঁকা হচ্ছে ঢাকা।
ঈদ যতই নিকটে আসতে থাকে, ব্যস্ত রাজধানীও ততই ফাঁকা হতে থাকে। রাজধানীর চিরচেনা দৃশ্য পাল্টাতে থাকে। থাকে না যানজট অথবা শব্দ দূষণ। থেমে যায় ফুটপাথে হকারের চিৎকার।
প্রতিবারের মতো এবারের ঈদুল আযহাতেও সড়কপথ, নৌপথ ও রেলপথে রাজধানী ছাড়ছে মানুষ। ঈদ উপলক্ষে ঠিক কত মানুষ রাজধানী ছাড়বে তার কোনো সঠিক পরিসংখ্যাণ না থাকলেও অনুসন্ধানে একটি ধারণাগত তথ্য পাওয়া যায়।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এবং জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের (নিপোর্ট) সাম্প্রতিক এক গবেষণায় ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় বর্তমানে এক কোটি ৬৪ লাখ মানুষ বাস করছে৷
রেলওয়ে ও পরিবহন সমিতিসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর হিসাব মিলিয়ে দেখা গেছে, এবারের ঈদে সড়ক, রেল ও নৌপথে রাজধানী ছাড়বেন প্রায় এক কোটি মানুষ।
সড়ক, রেল ও নৌপথ নিয়ে গবেষণাধর্মী কাজ করে থাকে যাত্রীকল্যাণ সমিতি। বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, ঠিক কত জন রাজধানী ছাড়েন তার যথার্থ হিসাব না দেওয়া গেলেও বাস, ট্রেন ও লঞ্চে যে সংখ্যক মানুষ যাতায়াত করেন, তার একটি তথ্য থেকে ধারণা করা যায় প্রায় ৩০ লাখ লোক সড়ক পথে বাড়ি যান। এছাড়া প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ লাখ মানুষ রেলপথে, নৌপথে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ রাজধানী ছাড়েন।
চলতি সপ্তাহে কমলাপুর স্টেশন ও বিভিন্ন বাস টার্মিলানে গিয়ে দেখা গেছে ঈদের দুর্ভোগ, ভিড়, যানজট থেকে বাঁচতে অনেকে আগেই পরিবারের অন্য সদস্যদের গ্রামে পাঠিয়ে দিয়েছেন।
মতিঝিল বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা শিহাব উদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, ‘২৭ সেপ্টেম্বরই স্ত্রী-সন্তান এবং মাকে ট্রেনে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছি।’ ভিড়ের মধ্যে ট্রেনে উঠা-নামা কষ্টের সেকারণেই পরিবারের সদস্যদের আগে বাড়ি পাঠিয়ে দেন বলে জানান।
কয়েকটি ট্রাভেল এজেন্সি সূত্রে জানা গেছে, আকাশপথেও চট্টগ্রাম, রাজশাহী, যশোর, খুলনা, বরিশাল, সৈয়দপুর, ইশ্বরদী, সিলেট কক্সবাজারসহ যেসব জেলায় বিমানবন্দর রয়েছে, সেসব জেলায় প্রায় অর্ধ লাখ লোক ঢাকা ছাড়বেন। সড়ক ও রেলপথে ভোগান্তির কারণে এবার কেউ কেউ টাকা বেশি হলেও আকাশপথ বেছে নিয়েছেন।