আব্দুল কুদ্দুস: ঈদের ছুটিতেও মিয়ানমার–সংলগ্ন ১৪৪ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় (টেকনাফ, উখিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায়) কড়া টহল বসিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ও ইয়াবাসহ মাদক চোরাচালান ঠেকাতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আজ রোববার সকাল আটটার দিকে টেকনাফের নাইটংপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বিজিবির পাঁচ থেকে ১০ জনের একাধিক দল নাফ নদীর তীরে বেড়িবাঁধ এলাকায় টহল দিচ্ছেন। নাফ নদীর ওপারে মিয়ানমার সীমান্ত। পুরো সীমান্ত কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘেরা। বেড়ার ভেতর মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) একাধিক সীমান্ত চৌকি।
চৌকির সামনে বিজিপি পাহারা বসিয়েছে। নাফ নদীতে মাছ ধরছে দুই দেশের অনেক নৌকা। নৌকাগুলোর দিকেই সবার দৃষ্টি বেশি। কারণ এসব নৌকা দিয়েই কোটি কোটি টাকার ইয়াবার চালান যায়, ইয়াবা বিক্রির টাকা লেনদেন হয়।
নাম প্রকাশ না করে বিজিবির এক সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, মিয়ানমারে চোরাচালান বলতে কিছু নেই। ঘুষ দিলে যে কেউ যেকোনো মালামাল নৌকায় ভরে টেকনাফ নিয়ে আসতে পারে। রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ ঠেলে দেওয়া হতে পারে, এই আশঙ্কায় ভোররাত থেকে সীমান্ত পাহারা দিচ্ছি। রোহিঙ্গারা ধরা পড়লে সঙ্গে সঙ্গে মিয়ানমারে ফেরত পাঠাচ্ছি। অন্যদিনের মতো আমরা সীমান্ত পাহারা দিয়ে ঈদের ছুটি কাটিয়ে দেব।
বিজিবি কক্সবাজার সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল খন্দকার ফরিদ হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এবারের ঈদের ছুটিটা আমরা সীমান্ত পাহারায় কাটিয়ে দেব। আমাদের উদ্দেশ্য রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ এবং ইয়াবাসহ মাদক চোরাচালান ঠেকানো। ঈদের নামাজ থেকে কোনো সদস্য যেন বঞ্চিত না হন, এজন্য প্রতিটি বিজিবি ব্যাটালিয়নে দুইবার করে ঈদের নামাজ পড়ানো হবে।
একইভাবে সবার ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ‘বাঙালি’ আখ্যা দিয়ে ঈদের ছুটিতে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হতে পারে—এমন খবরের ভিত্তিতে বিজিবিকে সীমান্তে সতর্ক রাখা হয়েছে।’