আসাদুজ্জামান আসাদ: সীমান্ত দিয়ে ভারতে চামড়া পাচার হওয়ার শঙ্কায় ব্যবসায়ীদের দাবির প্রেক্ষিতে ‘কঠোর অবস্থান’ নিয়েছে যশোরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
আলাউদ্দিন মুকুল বলেন, “প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার এখানে হাট বসে। পদ্মাপাড়ের ২১ জেলার ব্যবসায়ীরা এখানে চামড়া বেচাকেনা করেন। দুই শতাধিক আড়ৎ রয়েছে এ মোকামে। প্রায় ১০ হাজার লোকের জীবিকা এই চামড়ার হাটের সঙ্গে জড়িত।”
বেনাপোল সীমান্তের চামড়া ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম শাহাজী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সরকার চামড়া কেনার জন্য ট্যানারি মালিকদের কোটি কোটি টাকা ঋণ দিলেও তাদের কেউ কেউ সেই অর্থ চামড়া খাতে ব্যবহার না করে অন্য খাতে ব্যয় করেন।
এছাড়া স্থানীয়ভাবে চামড়া ব্যবসায়ীরা ব্যাংক ঋণ পান না। তাই কোরবানির সময় তাদের হাতে টাকা থাকে না।
এ সময় এক শ্রেণির ব্যবসায়ী ‘সিন্ডিকেট করে’ চামড়ার দাম কমিয়ে দেয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
বাগআচড়া এলাকার চামড়া ব্যবসায়ী শেখ সহিদুল ইসলাম বলেন, পেশাদার চামড়া ব্যবসায়ীদের পুঁজি সঙ্কটের সুযোগ নেয় চোরাকারবারীরা। তারা পাড়ায়পাড়ায় গিয়ে বাজারদরের চেয়ে বেশি দামে চামড়া সংগ্রহ করে। পরে সুযোগ বুঝে পাচারকারি চক্রের হাতে চামড়া তুলে দেয়।
জামতলার চামড়া ব্যবসায়ী ওসমান আলি সাহাজী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এবার চামড়া ব্যবসায়ীদের নির্ধারিত চামড়ার মূল্য গত বছরের চেয়ে কম হওয়ায় ভারতে চামড়া পাচার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
একই কথা বলেন বাগআচড়ার চামড়া ব্যবসায়ী সহিদুল ইসলাম, মজিবর রহমান মজু ও নজরুল ইসলাম।
সরকারের নির্দেশনা মেনে গত শুক্রবার চামড়া ব্যবসায়ীরা কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহের মূল্য নির্ধারণ করেছেন, যা গত বছরের তুলনায় বেশ কম।
ট্যানারি ব্যবসায়ীরা এবার রাজধানীতে প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়া কিনবেন ৭০ থেকে ৭৫ টাকায়। ঢাকার বাইরে এর দাম হবে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা।
এছাড়া প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত মহিষের চামড়ার দাম ধরা হয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। সারা দেশে খাসির লবণযুক্ত চামড়া ৩০ থেকে ৩৫ টাকা এবং বকরির চামড়া ২৫ থেকে ৩০ টাকায় সংগ্রহ করা হবে।
গত বছর সরকার নির্ধারিত দাম অনুযায়ী ব্যবসায়ীরা ঢাকায় প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়া কেনেন ৮৫-৯০ টাকায়। আর ঢাকার বাইরে তা কেনা হয় ৭৫-৮০ টাকায়।
সারাদেশে প্রতি বর্গফুট খাসির চামড়ার দাম গত বছর ছিল ৫০-৫৫ টাকা। বকরির চামড়া ৪০-৪৫ টাকা এবং মহিষের চামড়া ৪০-৪৫ টাকায় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল।
শার্শা থানার ওসি আহম্মেদ কবির হোসেন ও বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি অপূর্ব হাসান জানান, শার্শার সীমান্ত এলাকা দিয়ে চামড়া পাচার রোধ ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া কয়েক জায়গায় চেক পোস্টের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
তারা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সীমান্ত অভিমুখে চামড়া বোঝাই সকল যানবহন চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
এছাড়া সীমান্তবর্তী অঞ্চলের পুলিশ ফাঁড়িগুলোকে সতর্ক দৃষ্টি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তারা।
যশোর ২৬ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাহাঙ্গীর হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, বেনাপোল সীমান্তে বিজিবি সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
তিনি বলেন, “সীমান্তের সব বিওপি ক্যাম্পকে সর্তক থাকতে বলা হয়েছে। ঈদের দিন বিকাল থেকে অতিরিক্ত টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।”
কোনো অবস্থাতেই ভারতে চামড়া পাচার হতে দেওয়া হবে না বলে তিনি জানান।