সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:০১

পাথর খেকো সিন্ডিকেটের আগ্রাসনে ক্ষত-বিক্ষত কোম্পানীগঞ্জের শারফিন টিলা

পাথর খেকো সিন্ডিকেটের আগ্রাসনে ক্ষত-বিক্ষত কোম্পানীগঞ্জের শারফিন টিলা

জাহঙ্গীর আলম চৌধুরী: পাথর খেকো সিন্ডিকেটের আগ্রাসনে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে গেছে কোম্পানীগঞ্জের সূ-বিশাল শারফিন টিলা। সিন্ডিকেটের হয়ে প্রতিদিনই অর্ধ-শতাধিক দিন মজুর টিলা কেটে পাথর উত্তোলন করছে। অকারনে পাহাড় বা টিলা কাটা সরকারী নিষেদাজ্ঞা থাকা সত্বেও এখানে প্রকাশ্যে চলছে টিলা কাটার মহোৎসব।

ফলে এখানের স্বাভাবিক পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মূখে পড়েছে। পাশা-পাশি টিলা কাটা লাল মাটি ফসলী জমিতে মিশে সহশ্রাধিক বোরো-আমন আবাদি জমি অনাবাদি জমিতে পরিনত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। শারফিন টিলার পাশ দিয়ে প্রবাহমান সূর্যখালী খাল টিলা সংলগ্ন এলাকায় টিলা কাটা মাটিতে অনেকাংশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় অল্প বৃষ্টিতেই এখানে সৃষ্টি হয় মারাত্মক জলাবদ্ধতা। সূর্যখালী খাল দিয়ে পানি নিস্কাশনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ায় রতনপুর, চিকাডহর, বাহাদুরপুর ও নোয়াগাঁও মৌজার প্রায় ১হাজার ৫শ’ একর ফসলী জমি পড়েছে হুমকির মূখে।

পাথর খেকো সিন্ডিকেটের শারফিন টিলা কাটার উৎসব বন্ধ না করলে টিলার লাল মাটির কারনে এখানের ফসলী জমি বিরান ভূমিতে পরিনত হবে। জানা যায়, কয়েক শ’ বছর পূর্বে ভারত থেকে শাহ আরেফিন (রঃ) নামের এক ওলি আসা যাওয়ার সময় এখানে বিশ্রাম নেয়ার কারনেই এ টিলার নামকরন হয় শারফিন টিলা। প্রায় আড়াই শ’একর সু-উচ্চ টিলার শীর্ষে এখনো লাল নিশান চিহ্নিত স্থান  শাহ আরফিনের আসন হিসেবে রাখা হয়েছে। পাথর খেকোরা ইতিমধ্যেই টিলার শতকরা ৬০ভাগ ধ্বংস করে ফেলেছে পাথর উত্তোলনের মাধ্যমে।

প্রতিদিন লক্ষাধিক টাকার পাথর উত্তোলন ও বিক্রি করা হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জনান। স্থানীয় ১০-১২জন প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে শারফিন টিলা কেটে পাথর উত্তোলন করে লাখ-লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এসব টাকা জনপ্রতিনিধি,রাজনীতিবিদসহ প্রশাসনের লোকজনের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা  হয় এমন ধারনা সাধারন মানুষের। স্থানীয়রা জানান, বাহাদুরপুর গ্রামের আব্দুস শহিদের পুত্র রতন মিয়া, কাঠালবাড়ি গ্রামের মৃত আব্দুল বশিরের পুত্র জিয়াদ আলী, পাড়–য়া গ্রামের মৃত কলমধর আলীর পুত্র মোতাহের আলী, পুরান জালিয়ারপাড় গ্রামের শুকুর আলীর পুত্র বশর মিয়া, চিকাডহর গ্রামের মৃত মনফর আলীর পুত্র আইয়ূব আলী পাথর খেকো সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে রয়েছে।

এরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার সাহস কারো নেই। ফলে দীর্ঘদিন ধরে শারফিন টিলা ক্ষত-বিক্ষত করে বিনা বাধায় টিলা ধ্বংস করে যাচ্ছে।  প্রশাসনের আইনী পদক্ষেপ না নেয়ায় ক্ষতিগ্রস্থ স্থানীয় কৃষকরা তাদের আবাদি জমি ধ্বংসের চিত্র নিববে সহ্য করে যাচ্ছেন। ছনবাড়ি গ্রামের কৃষক আব্দুল হান্নান, অমর দাস, শ্রীবাস দাস, সাবেক মেম্বার সুজিত দাসসহ ক্ষতিগ্রস্থরা জানান টিলা কাটা লাল মাটি বৃষ্টির পানির সাথে এসে প্রবাহমান সূর্যখালীর খাল ভরাট হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

ইতিমধ্যেই দুবার ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। টিলাকাটা বন্ধ না হলে লাল মাটির কারনে আবাদি জমি অনাবাদিতে পরিনত হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুকন উদ্দিন জানান, সরকারকে মাসিক ১লাখ টাকা রয়েলিটি দিয়ে এতদিন পাথর উত্তোলন করলেও বর্তমানে লিজ বন্ধ রয়েছে। কৃষকের জমির ক্ষতির বিষয়টি তিনি জানেন না। খুঁজ নিয়ে এর যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করবেন তিনি।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026