নিউজ ডেস্ক: সোমবার সকাল ৯টায় এ মাঠে ঈদুল আজহার জামাত পরিচালনা করেন মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ। নামাজ শেষে মোনাজাতে বাংলাদেশ ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়। ১৮২৮ সালে শোলাকিয়ায় প্রথম ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সেই হিসেবে এবার এই মাঠে ১৮৭তম ঈদ জামাত হলো।
জামাতে অংশ নিতে সকাল থেকেই মুসল্লিদের ঢল নামে জেলা শহরের পূর্ব প্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীরের এ ঈদগাহ ময়দানে। নামাজ আদায় করতে আসা মানুষের ভিড় ঈদগাহ ময়দান ছাড়িয়ে আশপাশের রাস্তায়ও ছড়িয়ে পড়ে। কয়েক ঘণ্টার জন্য এসব সড়কে বন্ধ হয়ে যায় যানবাহন চলাচল। এবারের ঈদ উল আজহার জামাতে প্রায় এক লাখ মুসল্লি শোলাকিয়া মাঠে নামাজ আদায় করেছেন বলে শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠ কমিটির সভাপতি ও কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক এসএম আলম জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের সুবিধার্থে সরকারিভাবে শোলাকিয়া স্পেশাল নামে দুটি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়। এর একটি ভোর পৌনে ৬টায় ময়মনসিংহ থেকে এবং অপরটি সকাল ৬টায় ভৈরব থেকে বিপুল সংখ্যক মুসল্লি নিয়ে শোলাকিয়া মাঠের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। সুষ্ঠুভাবে জামাত অনুষ্ঠানের জন্য মাঠের নিরাপত্তায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন করা হয়। জামাতে আসা সবাইকে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে পরীক্ষা করে মাঠে প্রবেশ করতে দেয়া হয়।
মসনদ-ই-আলা ঈশা খাঁর ষষ্ঠ বংশধর দেওয়ান হয়বত খান বাহাদুর কিশোরগঞ্জের জমিদারি প্রতিষ্ঠার পর ১৮২৮ সালে কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পূর্ব প্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীরে প্রায় সাত একর জমির ওপর এ ঈদগাহ প্রতিষ্ঠা করেন।
স্থানীয় গবেষকদের ভাষ্যমতে, ১৮২৮ সালে প্রথম অনুষ্ঠিত জামাতে সোয়া লাখ মুসুল্লি অংশগ্রহণ করেন বলে মাঠের নাম হয় ‘সোয়া লাখি মাঠ’। সেখান থেকে উচ্চারণের বিবর্তনে তা পরিণত হয়েছে আজকের নাম শোলাকিয়ায়। এ মাঠে মোট ২৬৫টি কাঁতার রয়েছে, যার প্রত্যেকটিতে পাঁচ শতাধিক মুসল্লি নামাজে আদায় করতে পারেন।