ঢাকার অলি-গলি-ফুটপাথগুলো কোরবানির জন্য কেনা পশুদের দখলে। আবার শহরের কোনো কোনো সড়কেও বসেছে পশুর হাট। রাস্তায় যানবাহনের চাপ তো নেই-ই, নেই মানুষের ভিড়ও; এমনকি শেষ মুহূর্তে মহাসড়কেও কমেছে বাড়িমুখো মানুষের চাপ।
রোববার দুপুরের পর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল, গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, ঢাকা ছেড়ে যাওয়া মানুষের কিছুটা চাপ থাকলেও গত কয়েক দিনের তুলনায় তা কম।
রোববার দুপুর ১২টা পর্যন্ত সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যায় মোট ৩৬টি লঞ্চ, ছেড়ে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে আরো ২৫টি লঞ্চ।
এর আগে শুক্র ও শনিবার সদরঘাট থেকে যথাক্রমে ১২৬টি ও ১২৪টি লঞ্চ ছাড়ে।
বিআইডব্লিউটিএর পরিবহন পরিদর্শক সৈয়দ মাহফুজুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ঈদুল ফিতরের তুলনায় আগেই নির্ধারিত থাকা ঈদুল আজহার আগে আগে সাধারণত বাড়িমুখো যাত্রীদের চাপ কম থাকে।
“বিকালের দিকে যাত্রীসংখ্যা হয়তো কিছুটা বাড়তে পারে। বিশেষ করে চাঁদপুরের যাত্রীদের চাপ বাড়তে পারে সেসময়।”
এদিকে যাত্রীর সংখ্যা খুবই কম হওয়ায় সুন্দরবন সার্ভিসের একটি লঞ্চ ছাড়া হবে না বলে জানান সুন্দরবন লঞ্চ সার্ভিসের মহাব্যবস্থাপক আবুল কালাম জগলু।
তবে ঈদের আগের দিনও কমলাপুর রেল স্টেশনে ঘরমুখো মানুষদের বেশ ভিড় দেখা যায়। এদিন ট্রেনগুলো সময়সূচি মেনে চলাচল করতে পারেনি।
সকাল ৭টায় মহানগর এক্সপ্রেস ও প্রভাতী এক্সপ্রেসের কমলাপুর ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও বেলা ১১টার পর্যন্তও ট্রেন দুটি ছেড়ে যায়নি।
সকাল ১১টায় সুন্দরবন এক্সপ্রেসের কমলাপুর ছাড়ার কথা থাকলেও দুপুর ১টা পর্যন্ত ট্রেনটি স্টেশনেই পৌঁছেনি।
বাংলাদেশ রেলওয়ের ট্রাফিক পরিদর্শক হুমায়ুন কবির বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ঈদের সময় যাত্রীদের চাপ খুব বেশি থাকে। তাই যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করেই ট্রেনগুলো অন্য সময়ের মতো দ্রুতগতিতে চালানো হয় না।”
তবে ইঞ্জিনে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় প্রভাতী এক্সপ্রেস সময়মতো এসে পৌঁছাতে পারেনি বলে জানান তিনি।
বাস টার্মিনাল ফাঁকা
দুপুরে গাবতলী বাস টার্মিনাল অনেকটাই ফাঁকা দেখা গেছে। যাত্রীদের তেমন ভীড় নেই, অধিকাংশ বাসের টিকেট কাউন্টারও ফাঁকা।
ঢাকা-কুষ্টিয়াগামী বাস এ কে ট্রাভেলসের কাউন্টার মাস্টার মো. জাহিদ হাসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আসলে দূরপাল্লার যাত্রীরা গতকালের মধ্যেই চলে গিয়েছেন। আজ দুপুর ১২টা পর্যন্ত যাত্রীদের কিছুটা চাপ ছিল, এখন ফাঁকা।”
ঢাকা থেকে নওগাঁ, রাজশাহী, গাইবান্ধা ও বগুড়া যায় শ্যামলী পরিবহনের বাসগুলো।
শ্যামলীর কাউন্টার মাস্টার আমিরুল ইসলাম শিমুল বলেন, “মোহাম্মদপুর কিংবা শ্যামলীর কাউন্টার থেকে যারা গাড়িতে ওঠেন তারা গতকালই চলে গিয়েছেন। ওই কাউন্টারগুলো আজ বন্ধ। এখন যারা গাবতলী থেকে বাস ধরতে এসেছেন তারা সবাই শেষ বেলার যাত্রী।”
ভিড় না থাকায় রোববার দুপুরে যারা বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে কাউন্টারে এসেছেন তারা সবাই নির্বিঘ্নে টিকেট পাচ্ছেন।
বছরখানেক পর মেহেরপুরে নিজ বাড়িতে ফিরছেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মো. জিয়াউর রহমান।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “এতদিন পর বাড়ি যাচ্ছি। খুবই ভালো লাগছে। টিকেট পেতে কোনো সমস্যা হয়নি। টার্মিনালে এসেই টিকেট পেয়েছি।”
টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় সবগুলো পরিবহন সার্ভিসই যাত্রীদের কাছ থেকে ক্ষেত্রবিশেষে টিকেটের দাম ৫০, ১০০ কিংবা ১৫০ টাকা বেশি নিচ্ছেন।
মহাখালী টার্মিনাল থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে চলাচল করে সৌখিন ট্রাভেলস, এনা ট্রান্সপোর্ট ও আলম এশিয়া।
সাধারণ সময়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটের বাসভাড়া ২২০ টাকা হলেও সৌখিন ২৫০ টাকা ও আলম এশিয়া ৩০০ টাকা হাঁকাচ্ছে।
এ বিষয়ে সৌখিন ট্রাভেলসের কাউন্টারের স্টাফ মাসুদ মিয়া বলেন, “ আমাদেরও তো ঈদ-চান্দ আছে। এই কারণে বখশিশ হিসেবে সামান্য ভাড়া বাড়িয়েছিলাম।”