নিউজ ডেস্ক: কোরবানির ঈদ উপলক্ষে রাজধানীতে কমে গেছে নিত্য পণ্যের সরবরাহ। এতে করে পাইকারি বাজারেও বেড়েছে রসুন ও আদার দাম। পাইকারি বিক্রেতারা জানান, ঈদ ও পূজার কারণে পোর্ট (বন্দর) বন্ধ। ফলে পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দাম চড়া, সামনে দাম আরো বাড়তে পারে রয়েছে সেই শংকাও।
তবে চার থেকে পাঁচ দিন পরে আবারও দাম কমতে শুরু করবে এসব পণ্যের বলে জানা গেছে। কাওরানবাজারে ঈদের পরে রসুন, পেঁয়াজ ও আদা সরবরাহ হয়নি। যে কারণে পাইকারিতে প্রতিকেজি রসুন ৬৫ থেকে ৭০ টাকা, আদা ১৬০ থেকে ১৭০, দেশি পেঁয়াজ ৪০ ও ভারতীয় পেঁয়াজ ৩৭ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে কাওরানবাজারের পাইকারি বিক্রেতা এনায়েত হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, ঈদ ও পূজার জন্য পোর্ট বন্ধ আমরা ঈদের আগের পণ্য বিক্রি করছি। যে কারণে দাম একটু চড়া। সামনে এসব পণ্যের দাম আরো বাড়বে। তবে এক সপ্তাহ পর সম্ভাবনা রয়েছে আবারও দাম কমতে শুরু করার।
খুচরায় বিক্রি হচ্ছে বাসি সবজি তাও চড়া দামে। যে কারণে বিক্রেতারা নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী সবজি বিক্রি করছেন। যেমন পলাশী কাঁচাবাজারে প্রতিকেজি দেশি টমেটো ২২০, শসা ৪০ থেকে ৪৫, গাজর ৮০, বেগুন ৬৫, মরিচ ১২০, ঢ্যাড়স ৫০, ঝিঙা ৫০, পটল ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
দাম বাড়া প্রসঙ্গে সবজি বিক্রেতা তারিকুল বাংলানিউজকে বলেন, বাসি মালের (পণ্য) আবার বান্দা (নির্দিষ্ট) দাম কি? আগেরডি (ঈদের আগের কেনা) বিক্রি করতেসি। বাইসা বাইসা বিক্রি করি। অনেকডি তো ফালাই দিতে হইতাছে।
তবে কমেছে ব্রয়লারের দাম। প্রতিকেজি ব্রয়লার ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ ঈদের দিন ১৫০ থেকে ৫৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। বিক্রেতারা জানান, সামনে ব্রয়লারে দাম আরো কমে যাবে।
হাতিরপুল কাঁচাবাজারের ব্রয়লার বিক্রেতা সোহাগ বাংলানিউজকে বলেন, সামনের দুই তিনদিন ব্রয়লার মুরগির দাম কমবে। তবে এর পরে আবারও বাড়বে ব্রয়লারের দাম। এখন সবার ঘরে কোরবানির মাংস তাই ব্রয়লার মাংসর চাহিদা নেই। তাই দাম কম। তবে মুদি পণ্যের দাম স্থীতিশীল আছে। প্রতিকেজি খোলা চিনি ৪৫, প্যাকেট ৪৮, লবণ ২৫, মোটা লবণ ১৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্যাকেটজাত দুই কেজি আটা ৭০ ও ময়দা ৮৪ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বড় দানা মশুরডাল ৮০ থেকে ৯০ ও চিকনদানা ১১০ থেকে ১১৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
মানভেদে মুগডাল ১১০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকজি আলু ২০ থেকে ২২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অধিকাংশ কাঁচাবাজারে মাছ বিক্রি করতে দেখা যায়নি। সাধারণ মানের মিনিকেট ৪০ থেকে ৪৫ ও উত্তম মানের মিনিকেট ৪৭ থেকে ৫৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মোটাচাল ৩৫ থেকে ৩৮, সাধারণ মানের পাইজাম ৩৯ থেকে ৪০ ও উত্তম মানের পাইজাম ৪২ থেকে ৪৪ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
প্রতিলিটার বোজতলজাত সয়াবিন ১১৫ ও পাঁচ লিটার ৫৫০ থেকে ৫৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খোলা ও বোতলজাত তেলের দাম অনেক তারতম্য দেখা গেছে। দুই মাস থেকেই খোলা তেলের দাম কমলেও কমছে না বোতলজাত তেলের দাম। নগরীতে প্রতিকেজি ভালো খোলা সয়াবিন ৯০ থেকে ৯৫ ও সুপার ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কেজি হিসেবে ৫ লিটার সয়াবিন তেল সাড়ে চার কেজি হবে বলে জানান বিক্রেতারা।
পলাশীর স্বর্ণা জেনারেল স্টোরের মালিক শরিফ বাংলানিউজকে বলেন, দুই মাস ধরে খোলা সয়াবিন তেলের দাম কমলেও বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম কমছে না। অথচ আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কোম্পানিরা বোতলজাত তেলের দাম বাড়িয়ে দেয়।
তিনি আরো জানান, মুদি পণ্যের দাম স্থীতিশীল আছে। ঈদের আগে যে দরে বিক্রি করেছি ঈদের পরেও একই দরে বিক্রি করছি। অধিকাংশ কাঁচাবারের দোনপাট বন্ধ রয়েছে। যেমন পলাশী কাঁচাবাজারের ২৬টি মুদি দোকানের মধ্যে ২০টি দোকানই বন্ধ। অপরদিকে কাওরানবাজার মুদি মাছ ও চালের আড়ত ছিল তালাবদ্ধ।
বাজারের নিরাপত্তাকর্মী মনসুর আলমের কাছ থেকে জানা যায়, ঈদের দিন সকাল ৬টায় বন্ধ হয়েছে এসব দোকান বুধবার সকাল ৬টা থেকে আবারও খোলা হবে। পাইকারি বাজারেও সবজির দাম চড়া। কাওরানবাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিরাতে অন্যান্য দিন ২৫০ থেকে ৩০০ ট্রাক সবজি বোঝাই ট্রাক প্রবেশ করে। কিন্তু ঈদের রাতে ৪০ থেকে ৫০টি সবজি বোঝাই ট্রাক প্রবেশ করছে। মরিচ, শসা, লাউ, চিচিঙ্গা, ধনিয়া পাতা, কপি, বেগুন, পটল, পেঁপে ও জালি কুমড়া বোঝাই ট্রাক প্রবেশ করেছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।
কাওরানবাজার গাউছিয়া ভাণ্ডারের মালিক মোস্তফা কামাল বাংলানিউজকে বলেন, ঈদের রাতে মাত্র ৪০ থেকে ৪৫টি সবজির ট্রাক কাওরানবাজারে এসেছে। যে কারণে সবজির দাম বেশি। পাইকারিতে প্রতিকেজি মরিচ কেজি ৬০, শসা ৫০, ধনিয়া পাতা ২৫০, চিচিঙ্গা ৩০, বেগুন ৪০ থেকে ৫০ পেঁপে ১২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অপরদিকে প্রতিটি লাউ ৩০ থেকে ৩৫, কপি ২০ থেকে ২৫ ও জালি কুমড়া ২০ থেকে ২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।