শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: মধ্যযুগীয় কায়দায় রাকিবের মলদ্বারে কমপ্রেসার মেশিন বসিয়ে পেটে বাতাস ঢুকিয়ে নির্যাতন করে তাকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে নগরীর টুটপাড়ার শরীফ মোটরসাইকেল গ্যারেজের মালিক শরীফ ও তার ভাই মিন্টুর বিরুদ্ধে। কর্মস্থল পরিবর্তনের অভিযোগে খুলনায় রাকিব নামে এই ১২ বছরের কিশোরকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে।
রাকিব টুটপাড়া সেন্ট্রাল রোডের দিনমজুর আলম হাওলাদারের ছেলে। সোমবার বিকালে চরম নির্যাতনের পর এদিন রাত ১২টার দিকে কিশোর শ্রমিক রাকিবের মৃত্যু হয়। এ ব্যাপারে রাকিবের বাবা আলম হাওলাদার বলেন, টুটপাড়াস্থ শরীফ মোটরসাইকেল গ্যারেজের মালিক শরীফ ও তার ভাই মিন্টু মিলে রাকিবের মলদ্বারে মোটর সাইকেলে হাওয়া দেয়ার পাইপ ঢুকিয়ে বাতাস দেয়। এতে রাকিবের পেট ফুলে অজ্ঞান হয়ে গেলে শরীফ ও মিন্টু মিলে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (খুমেক) ভর্তি করে। খুমেকের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা আমাদের জানায়, রাকিব জীবন-মরণের সন্ধিক্ষণে আছে। তার চিকিৎসা এখানে সম্ভব নয়। এরপর রাকিবকে নিয়ে ঢাকার পথে রওয়ানা হলে পথে সে মারা যায়।
চিকিৎসকরা জানায়, রাকিবের শরীরে অস্বাভাবিক পরিমাণ বাতাস প্রবেশ করানোর কারণে তার নাড়িভুড়ি ছিঁড়ে যায় এবং ফুসফুস ফেটে যায়। এসব ছাড়াও শরীরের বিভিন্ন অর্গান অকেজো হয়ে যাওয়ায় সে মারা যায়।
এদিকে নির্যাতনের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী এক নারীসহ শরীফ ও তার ভাই মিন্টুকে গণপিটুনি দেয়। পুলিশ আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে খুমেক হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে মিন্টুর মা বিউটি বেগমকেও পুলিশ আটক করেছে। রাকিবকে নির্যাতনকারী গ্যারেজ মালিক শরীফ ও তার ভাই মিন্টুকে খুমেক হাসপাতালের প্রিজন সেলে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে বলেও জানান ওসি সুকুমার।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকুমার বিশ্বাস রাকিবকে নির্যাতন করে হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রাকিবের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হবে।
এলাকাবাসী জানায়, রাকিব এর আগে শরীফের মোটরসাইকেল গ্যারেজে কাজ করতো। কিন্তু সে সেখান থেকে কাজ ছেড়ে দিয়ে নগরীর পিটিআই মোড়ের নাসিরের গ্যারেজে কাজ নেয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শরীফ ও তার ভাই মিন্টু তাকে শায়েস্তা করতে এ পথ বেছে নেয়।