শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার খামার হাসনাবাদ খেফনীটারী গ্রামের রিক্সাচালক শাহ আলমের কন্যা শাহিদা খাতুন। বয়স মাত্র বারো। সে বাড়ির নিকটবর্তী গোবর্দ্ধনকুটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণীতে অধ্যয়ন করছিল এবং এ বছর সে সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার কথা।
শাহিদার পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রতিবেশী প্রভাবশালী মৃত আবু বকর সিদ্দিকের পুত্র জাকিরুল ইসলাম শাহিদা খাতুনকে ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করলে সে গর্ভবতী হয়ে পড়ে। এক সময় তার গর্ভে থাকা শিশুর কারণে পেট বাড়তে থাকলে তার বাবা শাহ আলম টিউমার ভেবে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার পেটে সন্তান আছে বলে ডাক্তার জানান।
অবশেষে ১২ আগস্ট বুধবার কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে শাহিদা প্রসব বেদনা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর পুত্র সন্তান প্রসব করে। এ ঘটনায় ধর্ষক প্রতিবেশী জাকিরুল ইসলামকে অভিযুক্ত করে একটি মামলা করেছে মেয়েটির বাবা। পুলিশ এখনো আসামি ধরতে না পারেনি। অন্যদিকে আসামি ও তার পরিবার মেয়েটির বাবাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছে। এর আগে গর্ভবতী শিশু মেয়েটিকে নিয়ে দুই মাস ধরে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াতে হয়েছে তার বাবাকে। হাসপাতালে এসে বাচ্চা প্রসবের ঘটনায় হুমকি দেয়ায় নিরাপত্তা দিচ্ছে পুলিশ।
মেয়েটির বাবা শাহ আলম জানান, তিনি ঢাকায় রিক্সা চালান। মেয়ের অসুস্থতার কথা শুনে গ্রামে এসে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে ডাক্তার জানান, তার পেটে সন্তান আছে। তার মা উপজান বেগম মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ার সুযোগে প্রতিবেশী জাকিরুল মেয়েকে ধর্ষণ করেছে বলেও তিনি জানান। মামলা করার পর থেকে আসামি ও তার পরিবার নানাভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ ব্যাপারে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) নজরুল ইসলাম জানান, হাসপাতালে যখন শিশু মেয়েকে নিয়ে আসা হয় তখন তার অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল। বয়স কম হওয়ায় শারীরিকভাবে সে সন্তান প্রসবের উপযুক্ত ছিলনা। ডাক্তার ও নার্সদের দক্ষতা ও আল্লাহর ইচ্ছায় দুজনকেই বাঁচানো সম্ভব হয়েছে। নবজাতককে হত্যার হুমকির খবর জানার পর নিরাপত্তার আবেদন করলে পুলিশ হাসপাতালে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে।
নাগেশ্বরী থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) খান মো. শাহ্রিয়ার জানান, বিষয়টি অত্যন্ত অমানবিক। আসামি পলাতক থাকায় গ্রেফতার করা যায়নি। তবে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।