সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১২:০৮

চলে গেলেন বাঙ্গালী গরীবের ডাক্তার এড্রিক বেকার

চলে গেলেন বাঙ্গালী গরীবের ডাক্তার এড্রিক বেকার

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: না ফেরার দেশে চলে গেলেন গরীবের চিকিৎসকখ্যাত ডা. এড্রিক বেকার। যাকে ডাক্তার ভাই বলে এক নামে চিনতেন সবাই। খুবই মিষ্টভাষী গরীবের সত্যিাকরে বন্ধু ছিলেন তিনি।

৭৪ বছর বয়সী বেকার মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়াঞ্চলের কাইলাকুড়ি গ্রামে প্রতিষ্ঠিত নিজ হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন গরীবের বন্ধু এই ডাক্তার ভাই এড্রিক বেকার।

তার মৃত্যুতে মধুপুর গড়ের গরীব-দুঃখীসহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বুধবার তার প্রতিষ্ঠিত কাইলাকুড়ি হাসপাতালের পাশেই তাকে সমাহিত করা হবে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অবিবাহিত ছিলেন। ১৯৭৯ সালে তিনি নিউজিল্যান্ড থেকে বাংলাদেশে আসেন।

এরপর ৩৬ বছর যাবৎ মধুপুর গড় এলাকায় অবস্থান করে দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেন। ১৯৪১ সালে নিউজিল্যান্ডের রাজধানী ওয়েলিন্টনে এড্রিক বেকারের জন্ম। তার বাবা ছিলেন পরিসংখ্যানবিদ। মা বেট্রি বেকার শিক্ষক। চার ভাই, দুই বোনের মধ্যে দ্বিতীয় এড্রিক ডুনিডেন শহরের ওটাগো মেডিকেল কলেজ থেকে ১৯৬৫ সালে এমবিবিএস ডিগ্রি লাভ করেন। পরে ওয়েলিন্টনে ইন্টার্নি শেষে নিউজিল্যান্ড সরকারের সার্জিক্যাল টিমে যোগ দিয়ে চলে যান যুদ্ধবিধ্বস্থ ভিয়েতনামে।

সেখানে কাজ করেন ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত। মাঝে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডে পোস্ট গ্রাজুয়েশন কোর্স করেন ট্রপিক্যাল মেডিসিন, গাইনী, শিশুস্বাস্থ্য বিষয়ে। ১৯৭৬ সালে পাপুয়া নিউগিনি ও জাম্বিয়ায় যান। কিন্তু কোথাও মন টেকেনি তার। এরই মধ্যে জন্ডিসে আক্রান্ত হয়ে চলে যান যুক্তরাজ্যে। এক বছর পর সুস্থ্য হয়ে ১৯৭৯ সালে চলে আসেন বাংলাদেশে।

এদেশে এসে এড্রিক বেকার প্রথমে মেহেরপুর মিশন হাসপাতালে প্রায় দু’বছর ও পরে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে ৮ মাস কাজ করেন। বেকারের বড় কোন হাসপাতালে কাজ করার ইচ্ছে কখনও ছিল না। ইচ্ছে ছিল প্রত্যন্ত গ্রামে কাজ করার। অন্যরকম কিছু করার। সে চিন্তা থেকেই চলে আসেন টাঙ্গাইলের মধুপুর পাহাড়ী গড় এলাকায়। সেই থেকে প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় অবস্থান করে মানুষের স্বাস্থ্য সেবা দিতে শুরু করেন ডা. বেকার।

১৯৮৩ সালে দু’জন খণ্ডকালীন এবং তিনজন সার্বক্ষণিক কর্মী নিয়ে থানার বাইদের পাশের গ্রাম কাইলাকুড়িতে ১৯৯৬ সালে উপকেন্দ্র খুলে চিকিৎসা সেবা দেয়া শুরু করেন। ২০০২ সালে একটি পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য কেন্দ্র হিসেবে মধুপুরের কাইলাকুড়িতে কাজ শুরু হয়। বর্তমানে সেখানে ৯৩ জন গ্রামীন দরিদ্র যুবক-যুবতীকে প্রশিক্ষিত করে চালিয়ে যাচ্ছিলেন এ স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম।

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার উত্তরে প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় কাইলাকুড়ি গ্রামের অবস্থান। এলাকার আদিবাসী-বাঙালি প্রায় সবাই দরিদ্র। এ রকম একটি প্রত্যন্ত এলাকায় চার একর জায়গার উপর ডা. এড্রিক বেকারের স্বাস্থ্য কেন্দ্র গড়ে উঠেছে।

ছোট ছোট মাটির ২৩টি ঘরে হাসপাতালের ডায়াবেটিস বিভাগ, যক্ষ্মা বিভাগ, মা ও শিশু বিভাগ, ডায়রিয়া বিভাগসহ আলাদা আলাদা বিভিন্ন বিভাগে ৪০ রোগি ভর্তির ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে আগত রোগিদের সবাই দরিদ্র। তবে এখানে টাকা উৎপার্জনকারী স্বচ্ছল ও বড়লোক রোগিদের চিকিৎসা দেয়া হয় না। এখানে বর্হিবিভাগে প্রতিদিন প্রায় একশ’ জন রোগি দেখা হয়। এছাড়া হাসপাতালে নিচের পক্ষে ৪৫ জন রোগি সবসময় ভর্তি থাকেন।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026