শীর্ষবিন্দু নিউজ: লন্ডনের সবচেয়ে বড় তাবলিগ জামাত অনুষ্ঠিত হয় পূর্ব লন্ডনের ওয়েস্টহামে। আর এখানে দেশটির সর্ববৃহৎ মসজিদ তৈরি করতে চেয়েছিল তাবলিগ জামাত।
বৃহৎ পরিপরে কয়েক হাজার লোক সমাগমে এখানে প্রতি বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয় তাবলিগ জামাত। এ জন্য কতৃপক্ষ চেয়েছিলেন একটি বড় মসজিদ নির্মাণ করতে। কিন্তু বাধ সাধেন এলাকার কিছু লোক। যেখানে অনেক মিটিং, আলোচনা, সমঝোতা হওয়ার পরও এ বিষয় গড়ায় কোর্ট পর্যন্ত। এ নিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর সঙ্গে তাদের মামলা চলে ১৬ বছর। সম্প্রতি এক আদেশে ওই মসজিদ নির্মাণের বিরুদ্ধেই রায় দিয়েছেন ব্রিটেনের আদালত।
টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, মসজিদ নির্মাণের বিরুদ্ধে রায়ে বড় ভূমিকা কমিউনিটি সেক্রেটারি গ্রেগ ক্লার্ক। তিনি জানিয়েছেন, স্থানীয় এলাকাবাসীর জন্য বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় এলাকাবাসীর সমস্যার কথা চিন্তা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মসজিদ নির্মাণবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম উদ্যোক্তা নিউম্যানের কাউন্সিলর অ্যালান ক্রেগ বলেন, মসজিদ নির্মাণের জন্য সব পথেই এগিয়েছিল তাবলিগ জামাত। অবশেষে তাদের উদ্যোগ ব্যর্থ হলো।
টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়, তবলিগ জামাতের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের যোগসূত্র আছে বলে দাবি করে টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও যুক্তরাজ্যের সন্ত্রাসী হামলা ও সন্ত্রাসবাদে উদ্বুদ্ধ করতে তাবলিগ জামাতের কয়েকজন সদস্য অভিযুক্ত হয়েছে।
পূর্ব লন্ডনের দুই লাখ ৯০ হাজার বর্গফুটের মসজিদ তৈরির পরিকল্পনা করেছিল তাবলিগ জামাত। পরিকল্পনায় ছিল, নারী ও পুরুষদের জন্য দুটি প্রার্থনা কক্ষ করা হবে। আরো একটি হলঘর হবে দুই হাজার বর্গফুটের। একসঙ্গে মসজিদে নামাজ পড়তে পারবে ৯ হাজার ৩০০ জন। আর মসজিদের মিনার হওয়ার কথা ছিল ১৯০ ফুট।
টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, মসজিদের মূল ওয়েবসাইটের এক ভিডিওতে এর পরিকল্পনার প্রধান বিরোধিতাকারী অ্যালান ক্রেগ ও তাঁর পরিবারকে প্রচ্ছন্নভাবে মৃত্যুর হুমকি দেওয়া হয়। এ ছাড়া মসজিদ নির্মাণের জন্য রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া মসজিদের জন্য আন্দোলনে বর্ণবৈষম্য করারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এলাকার জন্য বিষয়টি ২০১২ সালেই স্থানীয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা বাতিল হয়। এর পরও গত গ্রীষ্মে তাবলিগ জামাত বিষয়টি নিয়ে সরকারের কাছে আবেদন করে। তবে রাজনৈতিকভাবে বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় সিদ্ধান্ত নিতে সময় নিয়েছে ব্রিটিশ সরকার।