শীর্ষবিন্দু নিউজ: গত শুক্রবার ও শনিবার লন্ডনে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ইউকে বাংলাদেশ ই-কর্মাস ফেয়ার ২০১৫। আর এই মেলায় তথ্য প্রযুক্তিখাতে বাংলাদেশে ৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে জানান কতৃপক্ষ।
ইউকে-বাংলাদেশ ই-কর্মাস ফেয়ারের উদ্বোধণী যুক্তরাজ্য ও সিঙ্গাপুর ভিত্তিক মোট চারটি প্রতিষ্ঠান আগামী ৫ বছরে বাংলাদেশে তথ্য প্রযুক্তি খাতে এই বিনিয়োগের ব্যপারে আগ্রহ প্রকাশ করেন। একই দিনে চারটি প্রতিষ্ঠানের সাথে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক অথোরিটির এই বিনিয়োগের চুক্তি স্বাক্ষর হয়।
মেলার উদ্বোধনের আগে লন্ডনের অভিজাত ক্রিস্টাল ভেন্যুতে আয়োজিত নৈশ্য ভোজে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, হাউজ অব লর্ডস সদস্য ব্যারোনেস পলা মঞ্জিলা উদ্দিন, এফবিসিসিআই‘র প্রেসিডেন্ট আব্দুল মতলুব আহমদ, বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মাশিয়াল কন্সোলার শরিফা খান, বাংলাদেশ ক্যাটারার্স এসোসিয়েশন (বিবিসএ)‘র প্রেসিডেন্ট পাশা খন্দকার, ইউকেবিসিসিআই‘র প্রেসিডেন্ট বজলুর রশীদ এমবিই, যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরীফ, বৃটিশ কারী এওয়ার্ডের ফাউন্ডার এনাম আলী এমবিই, মেলার অন্যতম আয়োজক টেকশেড এর চীফ এক্সিকিউটিভ সুশান্ত দাশ গুপ্তসহ শতাধিক ব্যবসায়ী ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ।
বানিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের উপস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে এই চুক্তিতে সাক্ষর করেন হাই টেক পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসনে আর বেগম। অন্যদিকে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান সিমার্কের পক্ষে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ইকবাল আহমেদ ওবিই, টেলিকম এশিয়ার প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ শাফায়েত আলম ও টেকশেডের পক্ষে চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন টেকশেড ইউকে‘র ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুশান্ত দাশ গুপ্ত।
সিঙ্গাপুর ভিত্তিক টেলিকম আইটি প্রতিষ্ঠান টেলিকম এশিয়া ই-কমার্স ফেয়ারে প্রস্তাবিত ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের খাত হিসেবে মোবাইল পেমেন্ট গেটওয়ে, ট্রিপল প্লে, আইটি এন্ড টেলিকমিউনিকেশন্স কনজিউমার প্রোডাক্ট ও বিশেষায়িত প্রযুক্তি পার্ককেই বিনিয়োগের জন্য বিবেচনায় রাখছে বলে জানিয়েছেন টেলিকম এশিয়া প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ শাফায়েত আলম।
আইসিটি মন্ত্রনালয়, হাইটেক অথোরিটি ও কম্পিউটার জগতের উদ্যোগে আয়োজিত দ্বিতীয় ই-কর্মাস ফেয়ারে বাংলাদেশ ও ব্রিটেনের তথ্য প্রযুত্তি বিষয়ক অর্ধশতাধীক প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।
এর আগে লন্ডনে দুই দিন ব্যপী মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বানিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। উদ্বোধণী বক্তব্যে তোফায়েল আহমদ বাংলাদেশকে দক্ষিন পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে দ্রæতবর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ আখ্যা দিয়ে বলেন, তথ্য প্রযুক্তিখাতে দক্ষিন-পূর্ব এশিয়ায় পায়োনিয়ার হবে বাংলাদেশ। এ সময় তিনি বৃটেন প্রবাসীদের দেশে বিনিয়োগের আহবান জানান।
দেশের তথ্য প্রযুক্তি, ঔষধ শিল্প, জাহাজ নির্মান,পাট ও এগ্রো প্রসেসিং শিল্পকে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ও লাভজনক বিনিয়োগের খাত হিসেবে উল্লেখ করেন তোফায়েল আহমেদ। বাংলাদেশের গড় প্রবৃদ্ধি হার আর্ন্তজাতিকভাবে প্রশংসনীয় হচেছ দাবী করে মন্ত্রী বলেন , একটি সত্যিকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বির্নিমানে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। দেশে বিদেশী বিনিয়োগের সব ধরনের নিরাপত্তা দিতে সরকার অঙ্গিকারাবদ্ধ বলে জানান তিনি। মন্ত্রী ইউরোপে শুল্ক মুক্ত ঔষধ রপ্তানীর ব্যপারে সরকারের উদ্যোগের কথা জানান। যা আগামী ৭ বছরের জন্য কার্যকর থাকবে।
উদ্বোধণী বক্তৃতায় তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী জুনায়েদ আহমদ পলক বাংলাদেশের হাইটেক পার্কে বিনিয়োগ সম্ভাবনার দিক তুলে ধরে বলেন, দেশের প্রত্যেকটি সেক্টরকে ডিজিটাল রুপ দিতে আগামী ২ বছরে ১ লক্ষ তরুনকে আইসিটি ট্রেনিংয়ের আওতায় নিয়ে আসার পাশাপাশি দেশের সকল বিভাগে হাইটেক পার্ক গড়ে তোলার সরকারী উদ্যোগের কথা জানান।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান, বৃটেনের অল পার্টি পার্লামেন্টারী কারী গ্রæপের চেয়ার পল স্কেলী এমপি, জন রেডউড এমপি, সেকেন্ড ই-কমার্স ফেয়ারের অন্যতম স্পন্সর এনআরবি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদ ওবিই, প্রধান আয়োজক কম্পিউটার জগৎ এর চীফ এক্সিকিউটিভ আব্দুল ওয়াহিদ তমাল, এফবিসিসিআই‘র প্রেসিডেন্ট আব্দুল মতলুব আহমদ ও ইভেন্ট ডাইরেক্টর রহিমা মিয়া।
বৃটিশ এমপি পল স্কেলী বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ভুয়সী প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশ নিয়ে বৃটেনে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। এখানে বসবাসরত বাংলাদেশীরা চাইলে দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপুর্ন অবদান রাখতে পারবেন। বাংলাদেশীদের হাতে গড়া কারী শিল্প বৃটিশ অর্থনীতিতে প্রতিবছর যোগ করছে প্রায় ৫ বিলিয়ন পাউন্ড জানিয়ে পল স্কেলী বাংলাদেশের আইসিটি খাতে বৃটিশ বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এদিকে, বাংলাদেশ সরকারের আইটিসি বিভাগ ও লন্ডনের কম্পিউটার জগৎ এক সাথে এই মেলার আয়োজন করে। মেলায় দর্শনার্থীদের ভিড় তেমন লক্ষ্যে করা না গেলেও প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমদ পলক বলেন, মেলা সফল হয়েছে। অনেক বিনিয়োগেরও আশ্বাস মিলেছে। কিন্তু সাধারণ জনগন বলছেন উল্টো কথা।
বিভিন্ন কমিউনিটি ব্যাক্তিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এটা নেহায়েত কিছু লোকের লাভ ছাড়া দেশের কোন উন্নয়নে আসবে না। বরং বাংলাদেশ সরকারে ক্ষতিই হয়েছে। যারাই এসেছেন বেশিরভাগই সরকারের খরছে লন্ডন সফর যাওয়া ছাড়া আর কিছু নয়।