শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: জামায়াত নেতা আলী আহসান মুজাহিদের দাফন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে আসা মানুষের উপর লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। এসময় ২ জনকে আটক করা হয়।
এদিকে, রাউজানের গহিরায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর দাফন শেষে ফেরার পথে ছাত্রলীগের হামলার শিকার হয়েছেন জানাজায় অংশগ্রহণকারীরা। এ সময় ছাত্রলীগের হামলায় এক সাংবাদিক গুলিবিদ্ধ এবং আহত হয়েছেন আরও তিন সাংবাদিক।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মুজাহিদের লাশ দাফনের শেষ পর্যায়েও ঢুকতে না পেরে মুজাহিদের বাড়ির সামনে বরিশাল-ফরিদপুর মহাসড়কে জড়ো হওয়া মানুষ নারায়ে তাকবির শ্লোগান দিতে থাকে। এসময় পুলিশ লাঠিচার্জ করে ও তৌহিদ ও আবু বকর নামে দু’জনকে আটক করে। পশ্চিম খাবাসপুরে মুজাহিদের বাড়ি ও আইডিয়াল মাদ্রাসার প্রায় ৪শ’ গজ দুরত্বে চারপাশ ঘিরে শনিবার সন্ধার পর থেকেই অবস্থান নেয় কয়েকশ’ আর্মড পুলিশ ও পুলিশ।
শনিবার রাত সাড়ে ১০টার পরে আইডিয়াল মাদ্রাসা হতে গণমাধ্যম কর্মীদের সরিয়ে দেয় পুলিশ। লাশ দাফনকে কেন্দ্র করে ভোর হওয়ার আগেই মানুষ জড়ো হতে থাকে পশ্চিম খাবাসপুরে। এসময় তাদের ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কে জড়ো হতে দেখা যায়।এরপর দাফন প্রক্রিয়া শেষে ঢাকা হতে আগত এ্যাম্বুলেন্স আইডিয়াল মাদ্রাসা ত্যাগ করার পর সকাল পেওনে ৮টার দিকে সেখানে গণমাধ্যম কর্মীদের সেখানে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়।
জানা যায়, রাউজানের গহিরা এলাকায় সাকার জানাজা শেষে ফেরার পথে রাউজান পৌরসভার কাউন্সিলর ও উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জমির উদ্দিন পারভেজের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জানাজায় অংশগ্রহণকারী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় হামলার ছবি তুলতে গেলে মোহনা টেলিভিশন চট্টগ্রাম ব্যুরোর রিপোর্টার রাজীব সেন প্রিন্স গুলিবিদ্ধ হয়। এ ছাড়া একুশে টিভির রিপোর্টারসহ আরও তিন সাংবাদিক আহত হয়েছেন।
জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের লাশ দাফন করতে এসে সারারাত মাদ্রাসা কক্ষ ও মসজিদে অবরুদ্ধ সময় কাটিয়েছেন জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা। দলীয় সূত্র জানায়, মুজাহিদের দাফন কে কেন্দ্র করে শনিবার সন্ধা হতেই মানুষ আসতে থাকে। সকলে অবস্থান নিতে থাকে আইডিয়াল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে।
তবে রাত সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ সেখান থেকে গণমাধ্যম কর্মী ও বাইরের লোকদের বেরিয়ে যেতে বললে মসজিদ ও মাদ্রাসার কক্ষে অবরুদ্ধ অবস্থান নেয় নেতাকর্মীরা। সেখান হতে সকালে বের হওয়া একজন কর্মী জানান, শনিবার রাত হতে মাদ্রাসার মসজিদের ভেতর প্রায় ২ হাজার নেতাকর্মী অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন। সেখান থেকে সকালে লাশ আসার পর বেরোনোর অনুমতি পান।
সাকার দাফনের আগে সাকার জানাজা নিয়ে শুরু হয় উত্তেজনা। তার বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটার দূরে গহিরা কলেজ মাঠে জানাজা আয়োজন করতে চায় স্থানীয়রা। তবে প্রশাসনের বাধায় তা বন্ধ হয়ে যায়। পরে তার বাড়ির পাশেই জানাজার নামাজ পড়া হয়।
এর আগে যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মরদেহ প্রতিরোধে রাউজান উপজেলার প্রবেশপথসহ বিভিন্ন পয়েন্টে মধ্যরাত পর্যন্ত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ও মুক্তিযোদ্ধারা অবস্থান নিলেও পরে পুলিশের তৎপরতায় তারা সরে যায়।