শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিদের বিরুদ্ধে বিমান হামলার অভিযানে যুক্তরাজ্য আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই যোগ দিতে পারে। ব্রিটিশ চ্যান্সেলর জর্জ অসবোর্ন এই ইঙ্গিত দিয়েছেন। খবর গার্ডিয়ানের।
প্যারিস আক্রমনের পর ভাবা হচ্ছে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট মেম্বারদের মনোভাব হয়তো পরিবর্তন হচ্ছে বা হয়েছে। কনজারভেটিভ সরকার মনে করছে, এতে করে ব্রিটেনের সিরিয়ায় আইএসের উপর বিমান হামলায় অংশ গ্রহণে পার্লামেন্ট সদস্যদের ভোট পাবে। সিরিয়া সংকট মোকাবিলার জন্য কয়েক দিনের মধ্যেই নিজের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করবেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন।
চ্যান্সেলর জর্জ অসবর্ন অ্যান্ড্রো ম্যার শোতে ইঙ্গিত দিয়েছেন, ব্রিটেন এই ক্রিস মাসের আগেই সিরিয়ায় আইএসের ঘাটিতে এয়ার স্ট্রাইকে যাবে, ক্যামেরুন ভাবছেন, তিনি কমন্স সভায় ভোটাভুটিতে সমর্থন পাবেন সকল সদস্যদের। প্রাইম মিনিস্টার ডেভিড ক্যামেরন আগামী বৃহস্পতিবার কমন্স সভায় বিবৃতি দিবেন, অসবর্নের স্পেন্ডিং কাট রিভিউয়ের আগেই, যাতে ডিসেম্বরে এয়ার স্ট্রাইকের ভোটাভুটিতে তাকে সমর্থন দেয়া হয়।
অবশ্য এমপিরা এ নিয়ে আলোচনার সুযোগ পাবেন। পার্লামেন্টের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইএসের ব্যাপারে একটি যুক্তিসংগত আন্তর্জাতিক কৌশল ছাড়া সংগঠনটির ওপর বোমাবর্ষণের যৌথ অভিযানে যোগ দেওয়া উচিত হবে না। আইএসের হুমকির বিরুদ্ধে যেকোনো মূল্যে লড়াই করার জন্য নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত প্রস্তাবকে ক্যামেরন স্বাগত জানিয়েছেন। আজ সোমবার তাঁর ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে।
প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন দেশের নেতারা আইএসের বিরুদ্ধে সমন্বিত লড়াইয়ের ব্যাপারে আলোচনায় বসবেন। যুক্তরাজ্যের আইনপ্রণেতারা সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বাহিনীর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর বিরুদ্ধে ২০১৩ সালে ভোট দেন। তবে পরবর্তী সময়ে তাঁরা সিরিয়ার পাশের দেশ ইরাকে আইএসের জঙ্গি তৎপরতার বিরুদ্ধে বিমান হামলা অনুমোদন করেন।
ঠিক একই বক্তব্য দিয়েছেন, শ্যাডো লিডার অ্যাঞ্জেলা ঈগল। তিনি বলেছেন, ইউ এন সিকিউরিটি কাউন্সিলের রিজ্যুলুশনা যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে মিলিট্যারি একশন অনুমোদন করেনি, কিন্তু এটা এমন রিজ্যুলুশনা, যার উপর ভর করেই আমরা ইরাক যুদ্ধে গিয়েছিলাম।
দলের নেতা জেরেমি করবিনও অনেকটা ফ্রি ভোটের ব্যাপারে সম্মত হয়েছেন, যেহেতু তার দুজন বিশ্বস্থ সহযোগী শ্যাডো চ্যান্সেলর ম্যাকডোনেল ও ডায়ান অ্যাবোট ফ্রি ভোটের পক্ষে মতামত দিয়েছেন।ধারণা করা হচ্ছে, জেরেমি করবিন যদি এমপিদের ফ্রি ভোটের পক্ষে মত না দেন, তাহলে শ্যাডো কেবিনেটের অনেকেই গণ হারে পদত্যাগ করবেন।ম্যাকডোনেল বলছেন, কমন্স এবং পার্টি নীতিকে এই মুহুর্তে আলাদা অবস্থানে রাখলে কমন্সের সাথে একাত্ম হতে সুবিধা হবে।
সেজন্যেই অসবর্ন বলেছেন, ক্যামেরন যখন নিশ্চিত হবেন, কমন্সে তিনি ভোটাভুটিতে জয়ী হবেন, কেবল তখনি ভোটাভুটিতে যাবেন। এই মুহুর্তে বড় বিষয় হলো আইএস এর মতো এভিলকে তাড়ানো-ধবংস করা, বলে মন্তব্য করেছেন অসবর্ন।
অবশ্য ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট লিডার নাইজেল ডডস বলেছেন, আমরা আমাদের সেনাবাহিনীর পেছনে আছি, পুরো দেশের সমর্থন আমাদের সেনাবাহিনীর পেছনে। পুরো দেশের জনগন দেশের এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইন্টারেস্টের পেছনে সমর্থন রয়েছে।আমাদেরকে আমাদের একশন সঠিক ভাবে সাজাতে হবে, নিতে হবে- ক্যামেরন যা শো-করতে ব্যর্থ হচ্ছেন, তাকে প্রমাণ করতে হবে আমরা যা করছি এই মুহুর্তে আমরা সঠিক করছি এবং লিবিয়াতে যা করেছি ভুল করেছি।
প্রাইম মিনিস্টার সোমবার ২৩শে নভেম্বর ২০১৫ ফ্রান্স যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ওলাদের সাথে সম্ভাব্য এয়ার স্ট্রাইকের ফ্রান্সের সহযোগি ব্রিটেন হতে কিভাবে ব্রিটিশরা সাহায্য করতে পারে- বিস্তারিত প্ল্যান আলোচনা করবেন।
এদিকে জাতি সংঘে সিকিউরিটি কাউন্সিল সম্প্রতি যে রিজ্যুলুশান পাশ হয়েছে, তাকে ভিত্তি হিসেবে ধরে অসবর্ন মনে করছেন, সিরিয়ায় এয়ার স্ট্রাইকে যেতে ডেভিড ক্যামেরনকে এখন আর খুব বেগ পেতে হবেনা, বিশেষ করে এই মুহুর্তে কমন্সের ম্যান্ডেট আর আগে ভাগে প্রয়োজন নাও হতে পারে। কেননা জাতি সংঘের সিকিউরিটি কাউন্সিলের রিজ্যুলুশনা আইএসের বিরুদ্ধে সব রকমের মিজারম্যান্ট প্রয়োগের কথা বলা হয়েছে।