শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: কারী শিল্পের বর্তমান অবস্থাকে অর্থনৈতিক সংকট হিসেবে বিবেচনা করতে সরকারের প্রতি আহবান -বিসিএ‘র জমজমাট অ্যাওয়ার্ডস ও গালা ডিনার অনুষ্ঠানে বক্তারা |
কারী শিল্পের বর্তমান সমস্যাকে ইমিগ্রেশন নয়,অর্থনৈতিক সংকট হিসেবে বিবেচনা করতে সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন বিসিএ নেতৃবৃন্দ। দ্রত এই সংকট সমাধানে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহবান জানান তারা। বৃটেনে বাংলাদেশী কম্উিনিটির সবচেয়ে বৃহৎ সংগঠন বাংলাদেশ ক্যাটারার্স এসোসিয়েশন বিসিএ’র অ্যাওয়ার্ডস ও বার্ষিক গালা ডিনার অনুষ্ঠানে এ আহবান জানানো হয়।
গত ২২ নভেম্বর রোববার সেন্ট্রাল লন্ডনের অভিজাত হোটেল পার্ক প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয় বিসিএ‘র দশম অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান। জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন, বৃটিশ এমপি- লর্ডস, বিভিন্ন বরা কাউন্সিলের মেয়র- কাউন্সিলার, শীর্ষ ব্যবসায়ী, সেলিব্রেটি শেফ, কমিউনিটি সংগঠনের প্রতিনিধিসহ সারা দেশ থেকে আসা সফল ক্যাটারার্সরা।
কারী শিল্পে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরুপ চলতি বছর ওনার অব দ্যা ইয়ার প্রদান করা হয়েছে, লর্ড মুহাম্মদ শেইখ, মরহুম আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইয়কুব এবং ড. রেমি রেঞ্জার এমবিইকে।
সেলিব্রেটি প্রেজেন্টার তাসনিম লুসিয়া খান ও মাস্টার শেফ অনুষ্ঠানের সঞ্চালক গ্রেগ ওয়ালেছের প্রানবন্ত উপস্থাপনায় এবারো বছরের সেরা কারী হিরোদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বিসিএ অ্যাওয়ার্ডস। মোট তিন ক্যাটাগরিতে দেওয়া অ্যাওয়ার্ডের মধ্যে, ১০ জনকে বিসিএ শেফ অব দ্যা ইয়ার অ্যাওয়ার্ডস, আরো ১০ জনকে বিসিএ রেস্টুরেন্ট অব দ্যা ইয়ার অ্যাওয়ার্ডস এবং কারী শিল্পে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ৩ বিশিষ্ট ব্যক্তিকে প্রদান করা হয়েছে বিসিএ অনার অব দ্যা ইয়ার অ্যাওয়ার্ডস।
সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে মূল আয়োজনের সূচনা করেন বিসিএ অ্যাওয়ার্ডস কমিটির কনভেনার ও সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল ইয়াকুব। পরে কারী শিল্পের নানা সমস্যা ও সম্ভাবনার চিত্র তুলে ধরে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিসিএ‘র প্রেসিডেন্ট পাশা খন্দকার।
তিনি বলেন, বৃটিশ সমাজ ও সংস্কৃতির একটি অবিচেছদ্য অংশ হয়ে উঠেছে বাংলাদেশী কারী। বাংলাদেশী কমিউনিটির প্রান, এই শিল্প বৃটিশ অর্থনীতিতে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে যাচেছ। বৃটেনে গুরুত্বপূর্ন কর্মসংস্থানের খাত হিসেবে বাংলাদেশী কারী শিল্পের ভুমিকা রয়েছে।
অথচ প্রতি সপ্তাহে বৃটেনের বিভিন্ন প্রান্তে বন্ধ হয়ে যাচেছ অসংখ্য রেস্টুরেন্ট। সরকারের কাছে নানাভাবে এই বিষয়টি তুলে ধরার পরও কোন কার্যকর ফলাফল পরিলক্ষিত হচেছনা। অনুষ্ঠানে আগত হাউজ অব কমন্স এবং লর্ডস সদস্যদের প্রতি তিনি আহবান জানান, কারী শিল্পের এই সংকটটিকে শুধুমাত্র ইমিগ্রেশন সমস্যা হিসেবে না দেখে বরং এটিকে অর্থনৈতিক সংকট হিসেবে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে।
বিসিএ সেক্রেটারী জেনারেল এম এ মুনিম বলেন, বিসিএ অ্যাওয়ার্ডসের মাধ্যমে কারী শিল্পের পরিশ্রমী ও সৃজনশীল মানুষদের মূল্যায়ন করা হয়। কারন তাদের কঠোর পরিশ্রম এবং সহযোগিতার কারনেই এই শিল্প আজ একটি সফল অবস্থানে দাঁড়াতে পেরেছে। ভবিষ্যতে সকল বাধা পেরিয়ে কারী শিল্প এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন, কুবরা বিয়ারের স্বত্তাধিকারী লর্ড কারেন বিলোমুরিয়া, যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান, অনলাইন অর্ডারিং সাইট কুকডের সিইও সেলিম হোসাইন এমবিই, বিসিএ‘র সেক্রেটারী জেনারেল এম এ মুনিম, চ্যারিটি সংগঠন আপাসান ইন্টারন্যাশনালের ডেভোলাপমেন্ট অফিসার শুয়াইব আহমেদ ও বিসিএ’র অর্গানাইজিং সেক্রেটারী মুহাম্মদ ফজল উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে আগত বৃটিশ এমপি, লর্ডস ও মূলধারার রাজনীতিবিদ সকলেই বলেছেন, কারী শিল্পের সংকট সমাধানে তারা আন্তরিক। সরকারকে এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গিকার করেন। কঠোর ইমিগ্রেশন নীতি, ভিএটি বৃদ্ধি, স্টাফ সংকটসহ নানা সমস্যার একটি যথাযোগ্য সমাধান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে একযোগে কাজ করার আহবান জানান তারা। অনুষ্ঠানে প্যারিসে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে শেফ ও রেস্টুরেন্টারদের হাতে অ্যাওয়ার্ডস তুলে দেন, হোম অফিস মিনিস্টার লর্ডস বেটস, বেরোনেস পলা মঞ্জিলা উদ্দিন, হোম অফিস সিলেক্ট কমিটির চেয়ার কিথ ভাজ এমপি, মাইক পেনিং এমপি, অল পার্টি পার্লামেন্টারী কারী গ্রপের চেয়ার পল স্কেলী এমপি, স্যার কির স্টারমার এমপি, স্টিফেন টিমস এমপি, মিচেল এলিস এমপি, এন্ড্রু স্টিফেনসন এমপি, রোশনারা আলী এমপি, ড. রুপা হক এমপি, টিউলিপ সিদ্দিক এমপি, ডাওন বাটলার এমপি, মার্ক ফিল্ড এমপি, জো স্টিভেন্স এমপি, বেরী গার্ডিনার এমপি, নর্দাম্পটন কলেজের প্রিন্সিপাল পেট ব্রেনান বারেট, ব্রেন্ট কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র কাউন্সিলার পারভেজ আহমদ, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র কাউন্সিলার সিরাজুল ইসলাম, স্পিকার আব্দুল মুকিত চুন্নু এমবিই, বিসিএর সাবেক প্রেসিডেন্ট বজলুর রশীদ এমবিই, বৃটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট মুকিম আহমদ, এনটিভি ইউরোপের সিইও সাবরিনা হোসাইন, হ্যামলেটস ট্রেনিং সেন্টারের পরিচালক জামাল আহমদ, কিংফিশারের সিইও ডামন সোয়ারব্রিক, কোবরা বিয়ারের এথনিক রেস্টুরেন্ট সেক্টরের সেলস ডাইরেক্টর টনি গিবন, স্কয়ার মাইল ইন্সুরেন্সের বিজনেস ডেভোলাপমেন্ট ম্যানেজার ডেভিড রয়স্টন, বিসিএ‘র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জামাল উদ্দিন মকদ্দুস, অলি খান, এনামুল হক চৌধরী, মোজাহিদ আলী চৌধুরী, আব্দুল হান্নান, মেহেরুল হক চৌধুরী, মইন উদ্দিন, শাহ মালিক আজাদ, ডেপুটি সেক্রেটারী জেনারেল সাইদুর রহমান বিপুল, এম কে জামান জুয়েল, প্রেস এন্ড পাবলিকেশনস সেক্রেটারী আনিছুল হক চৌধুরী, সহকারী প্রেস এন্ড পাবলিকেশনস সেক্রেটারী ফিরোজুল হক, ট্রেনিং এন্ড এডুকেশন সেক্রেটারী হেলাল মালিক, জয়েন্ট চীফ ট্রেজারার মিটু চৌধুরী, মেম্বারশীপ সেক্রেটারী সাইফুল আলম, জয়েন্ট মেম্বারশীপ সেক্রেটারী ফরহাদ হোসেইন টিপু, আব্দুল হাফিজ, ডেপুটি অর্গানাইজিং সেক্রেটারী টিপু রহমান, কালচারাল এন্ড সোস্যাল সেক্রেটারী সাইয়েদ হাসান, এসিসটেন্ট পাবলিক রিলেশন সেক্রেটারী আব্দুল খালিক চৌধুরী, এনইসি মেম্বার মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন ও মুহাম্মদ ফয়জুল হকসহ অনেকে।